Opu Hasnat

আজ ১৫ মার্চ রবিবার ২০২৬,

নির্বাচনকে ঘিরে কৌতুহল উৎকণ্ঠা আর জনতার আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নীলফামারী

নির্বাচনকে ঘিরে কৌতুহল উৎকণ্ঠা আর জনতার আকাশচুম্বী প্রত্যাশা

দিন যতই যাচ্ছে অর্থাৎ নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে প্রচারণা ততই তুঙ্গে উঠেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসনের (সৈয়দপুর-কিশোরীগঞ্জ) প্রচরণার মাঠে কোমরে গামছা বেঁধে মাঠ-ঘাট প্রান্তর চোষে বেড়াচ্ছেন ১০ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী লাঙল প্রতীকে আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম তার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু প্রচারণার মাঠে পিছিয়ে নেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো: আব্দুল গফুর সরকার। তবে জাতীয়তাবাদী দলের ক্ষেত্রে বাঁধ সেজেছে বিএনপির দু’জন তরুণ বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন প্রায়ত সাবেক এমপি ও পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার ভজে’র একমাত্র পুত্র সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন রিয়াদ আরফান সরকার রানা। অন্যজন মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে গণসংযোগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছেন মামুনুর রশিদ মামুন।

দিনভর নির্বাচনী শহর এবং গ্রামের সব প্রান্তরে প্রার্থীদের ব্যাপক গণসংযোগের কারণে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম নীলফামারী-৪ আসনের জন্য পূর্ণ একটি ইস্তিহার নিয়ে তার প্রচারণা তুঙ্গে রেখেছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এলাকার সাধারণ ভোটারগণ তার পূর্ণ ইস্তিহারকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন। হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, দায়িত্ব পেলে ভালোবাসার ঋণ ভালোবাসা দিয়েই শোধ করব ইনশাআল্লাহ। অন্যদিকে লাঙল প্রতীকের প্রার্থি সিদ্দিকুল আলম বলেন, তার ইন্ডাষ্ট্রীর সংখ্যা বাড়িয়ে দুস্থদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিবেন। কিন্তু বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো: আব্দুল গফুর সরকার তার নির্বাচনী প্রচারণায় বলেন, আমরা ৩১দফা বাস্তবায়নে পূর্ণ সচেষ্ট। স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াদ আরফান সরকার রানা তার ফুটবল মার্কা নিয়ে গণসংযোগে বলেন, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করা হবে এবং জনকল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল মার্কা নিয়ে মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, সৈয়দপুর ক্যাম্পবাসীর উন্নয়নে তিনি বদ্ধ পরিকর। এ নির্বাচনী এলাকায় মোট ৯’ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। বাকি চারজন হচ্ছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাত পাখা মার্কা নিয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন মো: শহিদুল ইসলাম। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদি) কাঁচি মার্কা নিয়ে মো: মাইদুল ইসলাম। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মো: শওকত আকবর রওশন কাঁঠাল মার্কা এবং জোবায়দুর রহমান হীরা ঘোরা মার্কা নিয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। উল্লেখ্য, গত ২১’ জানুয়ারি নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান কর্তৃক নীলফামারী-৪ আসনের উপরে উল্লেখিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।

দীর্ঘ কয়েকযুগ পরে এবারই প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় ডিজিটাল ব্যানারের পরিবর্তে কাপড়ের ব্যানার ব্যবহারে ব্যস্ত সময় পার করছেন শহরের ঐতিহ্যবাহী আর্ট দোকানগুলোর কারিগরগণ। শুধু তাই নয়, পোস্টারহীন প্রচারে পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকছে নির্বাচনী এলাকা। এতে পরিবেশও বজায় থাকছে। সেই সাথে প্রার্থীগণকে স্বাধীনভাবে মিছিল, মিটিং, সভা ও প্রচার-প্রসারনা করতে দেখা গেছে। কোথাও কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী একে অপরকে ছোটো-খাটো দোষারুপ করেই চলেছেন। শহর এবং গ্রামজুড়ে নিরাপত্তার চাদরে বেষ্ঠিত করে রেখেছে বোর্ডার গার্ড এবং পুলিশবাহিনী। প্রচারণার পাশাপাশি চলছে ভোটারদের কাছে হ্যাঁ গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য তুলে ধরা। 

এলাকায় কৌতুহল, উৎকণ্ঠা নিয়ে জনতার আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। জনতার প্রকৃত রায়ই বলে দিবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিজয়ের হাসি নিয়ে কোন্ প্রাথী মাথায় পড়বে বিজয়ের মুকুট। প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে সুনিশ্চিত অদম্য ও দুর্বারগতিতে কে ছিনিয়ে আনবে কাঙ্খিত ফলাফল। সেই প্রত্যাশায় সাধারণ ভোটারগণ।