Opu Hasnat

আজ ১৪ জুলাই রবিবার ২০২৪,

হেঁটে হজ্ব শেষে বাড়ি ফিরেছেন আলিফ কুমিল্লা

হেঁটে হজ্ব শেষে বাড়ি ফিরেছেন আলিফ

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বাতাবাড়িয়া গ্রামের আলিফ মাহমুদ (২৫) হেঁটে গিয়ে হজ পালন শেষে বাড়ি ফিরেছেন। সোমবার রাত ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছেন তিনি। তাঁর আগমনে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত উৎসুক জনতা তাঁকে একনজর দেখতে ভিড় জমায়। মরহুম আব্দুল মালেকের তিন ছেলে ও এক কন্যাসন্তানের মধ্যে আলিফ মাহমুদ সবার ছোট।

আলিফ মাহমুদ জানান, ২০২৩ সালের ৮ জুলাই নাঙ্গলকোটের বাতাবাড়িয়া গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করে ১৩ জুলাই ঢাকা পৌঁছে সে। এরপর ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ভিসাসংক্রান্ত কাজে প্রায় দেড় মাস রাজধানীতে অবস্থান করেন তিনি। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে হাঁটা শুরু করে ১৯ সেপ্টেম্বর বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পৌঁছেন আলিফ। 

ভারতে ৬৭টি দিন হাঁটার পর ২৫ নভেম্বর ভারতের ওয়াগাহ সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান পৌঁছেন আলিফ মাহমুদ। পাকিস্তান থেকে হাঁটা শুরু করে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বন্দর আব্বাস সীমান্ত দিয়ে ইরান পৌঁছেন তিনি। আলিফ ইরান থেকে হাঁটা শুরু করে ২৭ জানুয়ারি আরব আমিরাতে পৌঁছেন। আরব আমিরাতের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে আবুধাবির শিলা সীমান্ত দিয়ে সৌদি আরব পৌঁছেন তিনি। 

সর্বশেষ সৌদি আরবে চার মাস ১৪ দিন থাকার পর ওমরাহ ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৭ মে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় চলে যান আলিফ মাহমুদ। ইথিওপিয়া থেকে ২৩ মে  ফের পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব পৌঁছেন তিনি। এ ছাড়া আলিফ মাহমুদ ২০২২ সালে সাইকেল চালিয়ে ৪১ দিনে ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেন । 

আলিফ মাহমুদ বলেন, ‘২০২৩ সালের ৮ জুলাই বাড়ি থেকে বের হয়ে দীর্ঘ ৯ মাস হেঁটে সৌদি আরব পৌঁছে পবিত্র হজ পালন করি। হজ পালন করে ৮ জুলাই এক বছর পর বাড়িতে এসেছি। এ দীর্ঘ পথযাত্রায় আমি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এই ছয়টি দেশের প্রায় সাত হাজার ৫০০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হেঁটেছি। এর মধ্যে আরব আমিরাতের দুবাই থেকে আবুধাবি পৌঁছাতে এক দিনে ৯০ কিলোমিটার হেঁটেছি। হাঁটতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের কালচার দেখেছি এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। শুধু মুসলিম নয়, অন্যান্য ধর্মের লোকও আমাকে দেখতে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, পবিত্র ভূমিতে গমনের জন্য আমার এ ত্যাগ দেখে নিশ্চয়ই কিছুটা হলেও আমাদের ধর্মের প্রতি অন্য ধর্মের লোকরা অনুপ্রাণিত হয়েছে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’ 

আলিফ তাঁর ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বিশ্ব ভ্রমণ করব। আফ্রিকার দেশগুলোসহ বিশ্বব্যাপী দ্বিনের দাওয়াত দেব। এ ছাড়া আমি স্বপ্ন দেখি, আমি আমার এলাকায় দরিদ্র ও পথশিশুদের জন্য স্কুল, মাদরাসা ও তাদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল স্থাপন করব ইনশাআল্লাহ।’