Opu Hasnat

আজ ১৯ জুন বুধবার ২০২৪,

নীলফামারীতে বোরো ধানের ফলনে সন্তোষ, দামে হতাশ কৃষক নীলফামারী

নীলফামারীতে  বোরো ধানের ফলনে সন্তোষ, দামে হতাশ কৃষক

নীলফামারীতে ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে।  সেই ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকরা। কেউ আঁটি বেঁধে ধানের বোঝা কাঁধে নিয়, আবার কেউ ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন ধান। তবে কৃষকের মুখে হাসি নেই। তারা বলছেন, এবার ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে বেশি। অথচ সেই তুলনায় বাজারে দাম নেই। তাদের লোকসান হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে ৮১ হাজার ৮৫৭ হেক্টর জমিতে বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২২ হাজার ৭০ টন। এ পর্যন্ত ২০ শতাংশ জমির ধান কাটা শুরু হয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ির কৃষক সমির উদ্দিন বলেন, দুই বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি। খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। বিক্রি হবে ৩৮ হাজার টাকার। ধানের দাম যদি বাড়তো তাহলে ধান চাষে পোষাতো। ধানের বাজার খারাপ। এ বাজারে ধান চাষ করে লাভ নেই।

এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর আইসঢাল গ্রামের কৃষক ছাবেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। পোকার আক্রমণও ছিল তুলনামূলক কম। তবে দীর্ঘ খরা থাকায় বাড়তি সেচ দিতে গিয়ে খরচ বেড়েছে। ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকের লাভ কম হবে।

জেলার কিশোরগঞ্জ এলাকার বাহাগিলির শমসের আলী বলেন, বিদ্যুৎ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি-সবকিছুর দাম বাড়তি। অথচ ধানের সেরকম দাম নেই। এত অল্প লাভে ধান চাষ করা মানেই লোকসান। তিনি বলেন, এক বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা আর মেশিনে মাড়াইয়ে দিতে হচ্ছে ১২০০ টাকা। 

ধান বিক্রির বড় মোকাম ঢেলাপীর হাটে গিয়ে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে প্রতিমণ হাইব্রিড জাতের ধান বিক্রি হয়েছে ১১৫০ টাকা মণ। এখন সেই ধান বিক্রি হচ্ছে ৯৫০-১০০০ টাকা মণ। অন্যান্য জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। কৃষকরা বলছেন, এই দামে ধান বিক্রি করে লাভ হবে না। নিরুপায় হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরী ও সংসারের খরচ চালাতে হচ্ছে।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ছিল কম। কীটনাশকের ব্যবহারও লেগেছে অল্প। ঝড়- বৃষ্টির শঙ্কায় কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছেন। ভালো ফলন পাচ্ছেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. এস এম আবু বক্কর সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকার ৩২ টাকা কেজি দরে ধান কিনবে। সে হিসেবে এক বস্তা ধানের দাম দুই হাজার ৪০০ টাকা। সরকারি রেটে ধান কেনা শুর হয়েছে, তাই কৃষকরা লাভবান হবেন এতে কোনো সন্দেহ নেই।