Opu Hasnat

আজ ২২ মে বুধবার ২০২৪,

মোরেলগঞ্জ পৌর শহরে জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা বাগেরহাট

মোরেলগঞ্জ পৌর শহরে জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের  রাস্তার পাশের ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কেটে জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা। চৈত্রের রোদ্রের তাপদাহ উপেক্ষা করে ১৬ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে ভিড় করছেন কলেজ রোডস্থ কাপড়িয়া পট্রিতে । কেউ কিনেছেন নিজেদের জন্য, আবার কেউ স্বজনদের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত। সরেজমিন দেখা যায় কাপড়িয়া পট্রির  গার্মেন্টসের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বেশি ভিড় দেখা গেছে রেডিমেড কাপড়, শাড়ি, থ্রিপিস সহ বিভিন্ন পোশাক, জুতা’র দোকান গুলোতে। পিছিয়ে নেই কসমেটিকসের দোকানগুলো, তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে দোকানগুলো। মার্কেটের পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ব্যাবসায়ীরা বলছেন, গতবারের চেয়ে এবার আশাকরি ভাল বিক্রি হবে। পৌর শহরের মার্কেটগুলোতে শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে এলে বাজারে প্রচুর ভিড় থাকে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিটি পন্যের দাম বেশী,তারপরও উপায় নেই কিনতে হবে।শেষ মুহূর্তে দাম বাড়তে পারে সেজন্য অনেকেই   আগেভাগেই ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছে।

স্কুল শিক্ষিকা ফারজানা  নামের একজন ক্রেতা জানান, এই ভিড়ের মধ্যেই বাবার জন্য একটি পাঞ্জাবি কিনেছি এবং মা’র জন্য একটি শাড়ি কিনেছি। আমার জন্য এখনও কিছু কিনিনি। ঘুরে ঘুরে দেখছি কী কেনা যায়। আয়েশা  নামের আরেক নারী  ক্রেতা বলেন আমি প্রতি ঈদেই মোরেলগঞ্জের মার্কেটে এসে কাপড় কিনি, স্বামী বিদেশে থাকায় আমাকেই মার্কেটে আসতে হয় বাচ্চাদের’কে নিয়ে, বড় মেয়ের জন্য একটি থ্রিপিস এবং আমার ছেলের জন্য সাট পেন্ট কিনলাম। আমি এখনও কিছু কিনি নি, তবে আবার চাঁদ রাতে আসবো।

প্রতিটি গার্মেন্টসের দোকানে বাচ্চাদের জন্য আরামদায়ক দৃষ্টিনন্দন পোশাক সাজানো রয়েছে। গরমের কারণে বাচ্চাদের জন্য পাতলা কাপড় পছন্দ করছেন বাবা-মায়েরা। সঙ্গে পছন্দমতো পাঞ্জাবিও। বড়দের জন্য টি-শার্ট, গ্যাবার্ডিন, জিন্স প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে। পাঞ্জাবির দোকানগুলোতে তরুণদের ভিড় একটু বেশি। পাঞ্জাবির কাপড় ও রঙ অনুয়ায়ী এক হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দিনে বেচা-কেনা শেষে অনেক রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে। ঈদের ঠিক আগে এমন বিক্রি আরও বাড়বে বলে জানান বিক্রেতারা।

বিক্রেতারা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিক্রি কিছুটা কম।

মোরেলগঞ্জ বাজারের কাপড়  ব্যবসায়ীরা বলেন, রোজার ঈদের জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি। আলহামদুলিল্লাহ এখন পর্যন্ত বেশ ভালই সাড়া পাচ্ছি, যত দিন যাচ্ছে দোকানে ভিড় ভাড়ছে, আশাকরি, ঈদের আগপর্যন্ত ভালই বিক্রি হবে।

মোরেলগঞ্জের ঈদ কেনাকাটায় নিরাপত্তার ব্যাপারে মোরেলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দিন জানান, ঈদকে ঘিরে কেনাকাটা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  বাজারে পুলিশ মার্কেট অন ডিউটি রয়েছে।কেউ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।