Opu Hasnat

আজ ১৪ জুলাই রবিবার ২০২৪,

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলা : ১০ জনের মৃত্যুদন্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন কুমিল্লা

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলা : ১০ জনের মৃত্যুদন্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনকে হত্যার দায়ে দশ জনকে (পলাতক) মৃত্যুদন্ড ও ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জুরী এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে দন্ডপ্রাপ্ত ১৮ জনের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৮ জন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দশ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. মোবারক হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের দক্ষিণ বাতাবাড়িয়া গ্রামের তাজুল ইসলামের তিন ছেলে মো. রিয়াদ হোসেন (২৯), মীর হোসেন (৩৭), আনোয়ার হোসেন (৪১), সামছুল হক পাটোয়ারীর দুই ছেলে মো. ইউসুফ (৩৬), মো. ইসমাইল হোসেন (৩৫), ছালেহ আহম্মদের ছেলে মিসু (২২), শহীদ উল্লাহ মেম্বারের ছেলে মো. রাজন, তাজুল ইসলামের ছেলে মানিক মিয়া ও আবুল হোসেনের ছেলে মো. মিজানুর রহমান, মৃত সুলতান আহম্মদের ছেলে মো. রাশেদ।

যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামিরা হলেন একই এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে নোমান (২৩), সিরাজুল ইসলামের ছেলে সালাহ উদ্দিন (৪১), হাজি আ. সামাদের ছেলে আবুল কাশেম (৪২), মৌলভি আলী আকবরের ছেলে মো. শহীদউল্লা মেম্বার (৫৫), নূর আহম্মদের দুই ছেলে মো. সালেহ আহম্মদ (৩২) ও মো. সোহাগ (২৬), মৃত সফিকুর রহমানের ছেলে মো. স্বপন (৩৫), মৃত মন্তাজুর রহমানের ছেলে মো. টিপু (৩৫)।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৩ মে সকাল ৯টায় সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে মনোহরগঞ্জ সরসপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে হামলা চালায় আসামিরা। এ সময় তারা চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীর আলমের ভাই মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে ২০ জনকে আসামি করে মনোহরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনোহরগঞ্জ থানার এসআই মো. নাছির উদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৮ জুন তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর মামলাটির চার্জ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন সাক্ষী ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।