Opu Hasnat

আজ ২১ এপ্রিল রবিবার ২০২৪,

একজন স্বপ্নবাজ নারীর গল্প ‘সৈয়দা রুখসানা জামান শানু শিল্প ও সাহিত্য

একজন স্বপ্নবাজ নারীর গল্প ‘সৈয়দা রুখসানা জামান শানু

বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক,  গবেষক, গ্রন্থপ্রনেতা, নারী উন্নয়ন সংগঠক, সাংবাদিক সৈয়দা রুখসানা জামান শানু একজন নিবেদিত প্রাণ, সাহিত্য সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশ-ভারতে পরিচিত। বাংলা সাহিত্যে শতবর্ষে সৃজন পরম্পরায় যাঁরা নিজেদের সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম উত্তরসুরি রংপুরের অনন্য সংগ্রামী কবি-গল্পকার, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসংগঠক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, গবেষক ও সম্পাদক-প্রকাশক সৈয়দা রুখসানা জামান শানু। যিনি এক নামে উপমহাভারতবর্ষের লেখক ও পাঠক সমাজে নন্দিত হয়েছেন। তিনি নিজ লেখনিরগুণে আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সম্মান অর্জনে সামর্থ্য হয়েছেন। 

নিভৃতচারী বহুমাত্রিক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সৈয়দা রুখসানা জামান শানু অনন্য প্রতিভাবাপন সংগ্রামী রুচীশিল ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। স্কুল জীবনেই দেয়াল পত্রিকা দিয়ে সম্পাদনার কাছ শুরু করেন। বহুমাত্রিক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সৈয়দা রুখসানা জামান শানু’র জন্ম ১৯৬৬ সালে ১১ জানুয়ারী রংপুর জেলা সদর মুন্সিপাড়ায়। তাঁর বর্তমান নিবাস ও কর্মস্থল সৈয়দপুর। মাতা মরহুম সৈয়দা হাদিসা বেগম পিতা মরহুম সৈয়দ মকসুদ হোসেন (মুক্তিযোদ্ধা ও অবসর প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা)। বহুমূখী প্রতিভাধারী নারী জাগরণের অনন্য সংগ্রামী যোদ্ধা ক্লান্তহীন মানব সেবায় নিয়োজিত। নারীদের শিক্ষিত, অনগ্রসর অবহেলিত জাতিকে শিক্ষাদান, নারীকে স্বাবলম্বী ও সুসংগঠিত করে ক্ষমতায়িত করার প্রয়াসে দীর্ঘ চার যুগ  ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি । দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ যাবৎ ১৯টি নারী সংগঠন তৈরি করেছেন। নিজ উদ্যোগ ও খরচে পূর্নবাসন করেছেন ৬ হাজার নারীকে।  গরীব ও ঝড়ে পড়া ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে লেখাপড়া করার জন্য দু’টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। ২৫ বছর ধরে স্কুল দুটি পরিচালনা করে আসছেন। একটি পাঠাগার ও সংগ্রশালা প্রতিষ্ঠা করেছেন। নারীদের জন্য একটি আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। তৃণমূলে যুব সমাজে সাহিত্য চর্চার লক্ষ্যে ১০টি জেলায় সাহিত্য সংগঠন গড়ে তুলেছেন। গঠন করেছেন তিনটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংস্থা। বাঙলা-‘বঙ্গ সাঁকো’ সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশনা করেন। প্রাপ্তি হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেছেন তিন শতাধিক। তার মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন ৫৩টি। তার বাংলা ভাষাসহ হিন্দি, উর্দু, নেপালি, অসমি, ভুটানি, ও ইংরেজি ভাষায় নিয়মিত কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তিনি বাংলাদেশ ভারত নেপাল ইতিহাস মঞ্চের সহ সভাপতি ও বাংলাদেশ মুসলমান ইতিহাস সমিতির সহ সভাপতি, রাইটারর্স ইন্টারন্যাশনালের গ্লবাল সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ রাইটার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক, ‘সাহিত্যাঙ্গন বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাউথ এশিয়ান কালচার এন্ড লিটারেচর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ নানা সংগঠনের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে সক্রিয় হয়ে কাজ করছেন। 

তিনি ২০২৩ সালে পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেছেন। তাঁর রচিত তিনটি মুল্যবান গ্রন্থ বিভিন্ন স্কুলের পাঠ্য বই হয়েছে। তাঁর এ পর্যন্ত মোট ১৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। অপ্রকাশিত পাণ্ডলিপি  প্রায় ৫০টির মত রয়েছে। এ সম্মানীয় নারী সমাজে নানাভাবে সমাদৃত হয়ে আছেন। তার গ্রন্থসমূহ পাঠক প্রিয়তা লাভ করেছে।