Opu Hasnat

আজ ২১ এপ্রিল রবিবার ২০২৪,

ডাসারে সৎ মায়ের গরম খুন্তির ছ্যাকায় শিক্ষার্থী আহত! মাদারীপুর

ডাসারে সৎ মায়ের গরম খুন্তির ছ্যাকায় শিক্ষার্থী আহত!

মাদারীপুরের ডাসারে সৎ মায়ের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিথী আক্তার(১৫) নামে এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতে এঘটনা ঘটেছে। এতে করে আহত শিক্ষার্থীর গরম খুন্তির ছ্যাকায় তার হাত, মুখ ও গাল পুড়ে ঝলসে গেছে।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, উপজেলার আইসার গ্রামের মোল্লা বাড়ির দেলোয়ার মোল্লার প্রথম স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় একযুগ আগে মার যায়। মারা যাওয়া ওই প্রথম স্ত্রী তার সংসারে তিন পুত্র সন্তান ও দুই মেয়ে রেখে যান। দেলোয়ার মোল্লা তার সংসার দেখভাল ও সন্তানদের লালন-পালনের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ধানডোবা গ্রামের স্নেহআরা বেগমকে। তিনি ছোট মেয়ে বিথীসহ বাকি সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে সৎ মা স্নেহআরা বেগম প্রায়ই বীথির সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। এর আগেও একাধিকবার নির্যাতনের শিকায় হতে হয় বীথিসহ তার ভাইদের। এবার পারিবারিক ছুতো ধরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে বীথির মুখের একাধিক স্থান ও হাত ঝলসে দিয়েছেন সৎ মা স্নেহআরা। এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে বিথীর সৎ মা ও বাবা মিলে। 

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে নির্যাতনের শিকার এ শিক্ষার্থীর বাড়ি গেয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার ধামাচাপা দিতে ওই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার কথা বলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীর মামা জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার বোন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৫ বছর আগে ৩ ভাগ্না ও দুই ভাগ্নি রেখে মারা যান। সবার ছোট বিথী। তাকে ওর সৎ মা গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে ঝলসে দিয়েছে। আমি তার বিচার দাবি জানাই। বিথীর শরীরে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরে বিথীকে নিয়ে মাদারীপুরের পেয়ারপুরে আত্মগোপনে চলে যায়। আমার বড় ভাগিনা খবর পেয়ে ওর সৎ মায়ের কাছ থেকে ভাগনিকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে গেছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত সৎ মা স্নেহআরা বেগমকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম শফিকুল বলেন, পরিবারের কেউ এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।