Opu Hasnat

আজ ২১ এপ্রিল রবিবার ২০২৪,

রাজধানীতে খতনা করাতে গিয়ে আবারও শিশুর মৃত্যু, ২ চিকিৎসক গ্রেপ্তার জাতীয়

রাজধানীতে খতনা করাতে গিয়ে আবারও শিশুর মৃত্যু, ২ চিকিৎসক গ্রেপ্তার

রাজধানীর বাড্ডা সাতারকুলে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে শিশু আয়ানের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই মালিবাগের জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে আহনাফ তাহমিন আয়হাম (১০) নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আওলাদ হোসেন।

নিহত আহনাফ কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার আলেখারচর গ্রামের ফখরুল আলমের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল বড়। বর্তমানে তারা খিলগাঁও রেলগেট এলাকার একটি বাসায় থাকতেন। সে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

এ ঘটনায় তার বাবা হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন। এতে গ্রেপ্তাররা হলেন- ডা. এস এম মুক্তাদির ও ডা. মাহবুব।

হাতিরঝিল থানার ওসি মো. আওলাদ হোসেন জানান, শিশু আহনাফের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় ডা. এস এম মুক্তাদিরসহ তিনজনের নামে ও অজ্ঞাত আরও ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত আহনাফের স্বজনদের অভিযোগ, সুন্নতে খাতনার সময় অ্যানেস্থেসিয়ার ভুল প্রয়োগের কারণে শিশু আহনাফের আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় আহনাফকে সুন্নতে খতনা করাতে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছিল। এর ঘণ্টাখানেক পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, মালিবাগের জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন ডা. এস এম মুক্তাদিরের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার রাতে সন্তানকে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন শিশু আহনাফের বাবা ফখরুল আলম ও মা খায়কুন নাহার চুমকি। রাত ৮টার দিকে খতনা করানোর জন্য তাকে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর আর ঘুম ভাঙেনি। এর ঘণ্টাখানেক পর হাসপাতালটির পক্ষ থেকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

অভিযুক্ত চিকিৎসক মুক্তাদির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অর্থোপেডিক বিভাগের জয়েন্ট ব্যথা, বাত ব্যথা, প্যারালাইসিস বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা দিতেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সেটিতে তালা ঝুলিয়ে সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার জন্য হাসপাতালের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু হাসপাতালটির শুধু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন আছে। এ কারণে তাদের অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই।