Opu Hasnat

আজ ১৪ জুলাই রবিবার ২০২৪,

কুষ্টিয়ায় আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগীতার প্রসার ঘটলে স্মার্ট বাংলাদেশে বির্নিমানের স্বপ্ন দ্রুত পুরণ হবে কুষ্টিয়া

মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগীতার প্রসার ঘটলে স্মার্ট বাংলাদেশে বির্নিমানের স্বপ্ন দ্রুত পুরণ হবে

কুষ্টিয়ার খ্যাতিমান শিক্ষানুরাগী প্রতিষ্ঠান আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশনের বেলায়েত হোসেন শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারী) সকালে কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস এলাকায় রোজ ভ্যালি পার্ক এন্ড রিসোর্টে আয়োজিত বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়া জেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলা থেকে বাছাইকৃত জিপি-৫ প্রাপ্ত ৫০ জনকে এ বৃত্তি প্রদান করা হয়। 

আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন শিক্ষা বৃত্তি ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্টপোষক, বিশিষ্ট শিল্পপতি, ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব বশির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৃত্তি প্রদানপুর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট গবেষক, প্রফেসর ড. মোঃ শাহ আজম শান্তনু বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যখাতে অভুতপুর্ব সাফল্য আনছেন। শিক্ষার প্রসার, বিস্তার,গুণগত মানবৃদ্ধিতে অনেক উন্নয়ন ঘটিয়েছেন এবং পরিকল্পনা করছেন। অপরদিকে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু মাত্র আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নের সুযোগ পাচ্ছে না, উচ্চ শিক্ষা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। কেউ কেউ প্রাথমিক স্তর পার না হতেই ঝরে পড়ছেন।

তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মকে মেধা মননে আলোকিত করতে হলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে আর্থিক ভাবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে বিত্তশালীরা সংখ্যা একেবারে কম নয়। বিত্তশালীরা যদি মনে করেন মেধাবী অথচ অস্বচ্ছল তাকে আর্থিক সহযোগীতার আওতায় আনবেন আমাদের শিক্ষায় মেধার শুন্যতা, মান আরও বৃদ্ধি পাবে। এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগীতার প্রসার ঘটলে আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশে বির্নিমানের স্বপ্ন পুরণ হবে দ্রুত। তিনি বলেন, আজকে ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’র স্বপ্ন দ্রষ্টা যে মহত উদ্যোগ গ্রহন করেছেন আজকে ৫০ জনকে নগদ আর্থিক সহযোগীতা করে। অন্য বিত্তশালীরা তাকে অনুসরণ করে এগিয়ে গেলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। 

সভাপতির বক্তব্যে ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ¦ মোঃ বশির আহমেদ বলেন, আমার পিতা ছিলেন একজন শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষার মর্যাদা এবং গুরুত্ব আমি অন্তর দিয়ে অনুধাবন করি। ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা থেকে আপনাদের সকলের দোয়ায় আজকে আমার ৫ বোনের মধ্যে এক মাত্র ভাই আমার সন্তানদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পেরেছি। তিনি বলেন, পিতার নামে আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশনের নামে শিক্ষা, চিকিৎসা সহায়তাসহ অনেক সামাজিক কাজে আত্মনিয়োগ করার চেষ্টা করি আজকে এটা তারই একটা অংশ। আমি মনে করি এস, এস, সি পাশের পর উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য এ টাকা কিছু নয়। তারপরও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে উৎসাহ পায়, উচ্চ শিক্ষায় আরও এগিয়ে যায় সে জন্য এ উদ্যোগ। তিনি বলেন, আজকে ৫০ জনের মধ্যে ১০ লাখ টাকা আগামীতে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। মান সম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার ইচ্ছাও রয়েছে। 

তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি চাই আজকে ভিসি সাহেবের বক্তব্য থেকে তোমাদের অনেক জ্ঞানের প্রসার ঘটবে, বাড়িতে ফিরে তার শিক্ষামুলক কথা মাথায় এনে নিজের জীবনে কাজে লাগাবে। উচ্চ শিক্ষা যেমন মেডিকেলে, বুয়েটে চান্স পাওয়ার যদি কোন সহযোগীতার প্রয়োজন হয় তখনও বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন তোমাদের পাশে থাকবে। পরিশেষে তিনি মিরপুর, আমলা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষক, শিক্ষিকা, সমাজসেবীসহ শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের সকল কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের জয়েন্ট ডিরেক্টর নাজমুল হুদা।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য কামারুল আরেফিনের সহধর্মিনী সামসুন্নাহার পারভিন শেফালী, মিরপুর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, ওয়েষ্টার্ন ডায়াগণষ্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামাউন আহমেদ মৌসুমী, ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’র পরিচালক নাফিদ আহমেদ অনন্য, বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যক্ষ ড. মোফাজ্জেল হোসেন, জাতীয় সাতারু প্রশিক্ষক ও আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন শিক্ষাবৃত্তির আহবায়ক আমিরুল ইসলাম। সার্বিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আলহাজ্ব বেলায়েত শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের সদস্য হাফিজ আল আসাদ। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের অন্যতম সদস্য,বিশিষ্ট সাংবাদিক কাঞ্চন হালদার আমিরুল ইসলাম, সাইফুজ্জামান হিরা,আসাদুজ্জামান মিল্টন মালিথা, মিন্টু আহম্মেদ, সোয়াইব আনসারী টুটুল, রতন, চঞ্চল আহম্মেদসহ ফাউন্ডেশনের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সুধীজন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরান তেলওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। এর পর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সুচনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ ও সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।