Opu Hasnat

আজ ১ মার্চ শুক্রবার ২০২৪,

ফিটনেস ট্রেনার না হলে ক্রিকেটার হতাম: মৌমিতা মুখার্জী সাক্ষাৎকার

ফিটনেস ট্রেনার না হলে ক্রিকেটার হতাম: মৌমিতা মুখার্জী

অত্যন্ত জনপ্রিয় ফিটনেস ট্রেনার মৌমিতা মুখার্জী। সম্প্রতি তিনি মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশের পাঠকপ্রিয় ও তথ্যসমৃদ্ধ অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘টাইমটাচ নিউজ ডটকম’ এর সঙ্গে। বাংলাদেশ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন সাংবাদিক ফয়সাল হাবিব সানি। 

টাইমটাচ নিউজ: কেমন আছেন? 

মৌমিতা মুখার্জী: বড়োদের আশীর্বাদ আর ছোটদের ভালোবাসায় খুব ভালো আছি।

টাইমটাচ নিউজ: আপনি ভারতের একজন জনপ্রিয়  ফিটনেস ট্রেনার। নিজেকে কেন ফিটনেস ট্রেনার হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেন? 

মৌমিতা মুখার্জী: ফিটনেস ট্রেনার হবো, কোচিং করাবো এ ধরণের কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না। ছোটবেলা থেকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল। ক্রিকেট খেলতাম আর মূলত সেই থেকেই ফিটনেস এর উপর আলাদা আগ্রহ তৈরি হয় আমার। আর যেইটা এখন আমার শখ এবং পেশাও বটে। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনার বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই? 

মৌমিতা মুখার্জী: আমার ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাবার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের সম্পূর্ণটায় ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। সকালে ফিটনেস সম্পর্কিত অনলাইন ট্রেনিং করায়; তারপর নিজে প্র্যাকটিস করি। কেননা নতুন বছরের সঙ্গে আমার নিজের বডিবিল্ডিংয়ের বিষয়টাও সম্পৃক্ত। তাই নিজের উপর মনোনিবেশ করতে হচ্ছে ও নিজেকেও সময় দিতে হচ্ছে। পরবর্তীতে আবার অফলাইন ট্রেনিং থাকে আর আমি একটা স্বনামধন্য ব্যায়ামাগারে ফিটনেস ট্রেনার হিসেবে জব করি। নিজের বাড়ি আর সেই সঙ্গে বাইরেরটাও আমাকে দেখতে হয়। বুঝতেই পারছেন কতটা ব্যস্ত থাকতে হয় আর কী (হেসে বললেন)! 

টাইমটাচ নিউজ: আপনি ফিমেল ফিটনেস ট্রেনার হিসেবে কাজ করছেন এবং দীর্ঘদিন ‘Indian Bodybuilding & Fitness Federation’ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। অনেক নারীই আপনার কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং তাদের কাছে আপনি আশীর্বাদস্বরূপও বইকি৷ এই যে নারীদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ধাবিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন; যখন অসংখ্য মানুষের প্রশংসা এবং ভালোবাসা পান তখন কেমন অনুভূতি কাজ করে আপনার? 

মৌমিতা মুখার্জী: যেদিন থেকেই এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ি, ঠিক সেদিন থেকেই ঠিক করি নিজে ফিট থাকার সঙ্গে সঙ্গে আমার আশপাশের মানুষগুলোও যেন ফিট থাকে। আমার কাছে ফিট থাকা অর্থ শুধু রোগা থাকা নয়, সুস্থ হয়ে ভালো একটা লাইফস্টাইল যাপন করা। যেইটাতে কেবলমাত্র নারীরা বা গৃহিণীরা না, ছেলেরাও যেন ফিট থাকে। সর্বোপরি, সুস্থ একটা লাইফস্টাইল আমরা সকলেই প্রত্যাশা করি। আর এতে করে যারা আমার কর্মে খুশি হয় বা তাদের নিজেদেরও একটু হেল্প হয়, এই বিষয়টা সত্যিই ভীষণ ভালো লাগে আমার।

টাইমটাচ নিউজ: শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশেও তো বর্তমানে আপনার অনেক শুভাকাঙ্খী রয়েছে। এই যে কাঁটাতারের গণ্ডি পেরিয়ে তো মাঝেমধ্যে ওপার বাংলার (বাংলাদেশ) মানুষের কাছ থেকেও প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন এবং অনেকে আপনাকে তাদের আদর্শও মনে করে থাকেন। মৌমিতা মুখার্জী থেকে একজন আদর্শবান মৌমিতা মুখার্জী হয়ে ওঠার গল্পটা যদি সংক্ষেপে বলতেন? 

মৌমিতা মুখার্জী: আমার জার্নির শুরু থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াটাকে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) একটা বড়ো প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম আমি। তখন থেকেই ফিটনেস এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন পোস্ট করতাম আমি। কিন্তু তখন এত বেশি মানুষ আমায় চিনত না; তবুও আমি হাল ছেড়ে দিইনি। ক্রমাগত চেষ্টা করে গেছি যেন আমি সকলের কাছে পৌঁছাতে পারি আমার ভালো কাজ দিয়ে। এখন তো ওপার বাংলাতেও (বাংলাদেশ) কিছু মানুষ রয়েছে, যারা আমায় সবসময়-ই অনুপ্রাণিত করে আসছে। আমি আদর্শবান মানুষ হতে পেরেছি কি-না বলতে পারব না; তবে যারা আমায় তাদের আদর্শ মনে করেন তাদের নিকট সর্বদাই আমি কৃতজ্ঞ এবং ঋণী থাকতে চাই। 

টাইমটাচ নিউজ: আজকের সামজে আলোকিত মানুষ হয়ে ওঠার মূল মন্ত্রটা আপনার কাছ থেকেই শুনতে চাই? 

মৌমিতা মুখার্জী: শুধু নিজের কাজটা সৎ পথে থেকে মন দিয়ে করে যেতে হবে। আর কিছু নয়।  

টাইমটাচ নিউজ: অদূর ভবিষ্যতে নিজেকে কোন অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে চান বা মেলে ধরতে চান? 

মৌমিতা মুখার্জী: ভবিষ্যতেও কথা প্রকৃতপক্ষে কেউ-ই বলতে পারে না, আমিও না। তবে কোচিং কন্টিনিউ করে যাব। আমি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে চাই। ভালো কাজ করার ক্ষুধার তাড়না আমায় সবসম-ই উদগ্রীব করে তোলে। আমার একটা স্বপ্নের কথা বলতে পারি। ভবিষ্যতে আমার এমন একটা স্বপ্ন রয়েছে যে, আমার বড়ো একটা ব্যায়ামাগার ওপেন হবে আর যেখানে নারীদেরকে প্রাধান্য দেয়া হবে। ফিটনেস এর উপর আরও কোর্স করার ইচ্ছে রয়েছে, বডিবিল্ডিংয়ের কাজটাও নিয়মিত করে যেতে চাই। এককথায়, অনেক অনেক কিছু করতে চাই (হাহাহা... আবারও হাসতে হাসতে বললেন)। 

টাইমটাচ নিউজ: এখনকার সমাজেও নারীদেরকে আঁধারের বৃন্তেই লুকিয়ে রাখা হয়, তাদেরকে ফুল হয়ে ফুটতে দেবার সুযোগ দেয়া হয় না৷ কিন্তু আপনি সেই মহৎ অসাধ্য কাজকেই সাধন করে চলেছেন। কীভাবে তা সম্ভব করলেন? 

মৌমিতা মুখার্জী: আমি সেইজন্যই বাড়িতে অনলাইন ক্লাস শুরু করেছি তাদের জন্য, যে সকল মেয়েরা বা নারীরা প্রতিবন্ধকতার দরুণ ব্যায়ামাগারে যেয়ে ওয়ার্কআউট করতে পারে না; কিন্তু নিজেরা ফিট থাকতে চায়। আমাদের ব্যায়ামাগারেও এমন অনেক নারী রয়েছেন, যারা গৃহীণী হওয়া সত্ত্বেও পার্ফেক্টলি গর্জিয়াস, ফিট এবং স্বাস্থ্যবতী। অনেকেই আমার কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে এমন হয়েছেন যে অনেক পুরুষের রাতের স্বপ্নের ড্রিম গার্লও বনে গেছেন তারা (হাহাহা... এবার একটু জোরে হাসলেন)। আমি তাদেরকে আমার জীবনের গল্প শুনিয়ে উৎসাহিত করার চেষ্টা করে থাকি প্রতিনিয়ত। আমি তো একদিন তাদের মতোই ছিলাম; তাই আমি মনে করি আমি পারলে তারাও একদিন পারবেন; আমি যদি সফল মানুষ হিসেবে এরই মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তারা কেন পারবেন না! 

টাইমটাচ নিউজ: যদি ফিটনেস ট্রেনার না হতেন, তাহলে জীবনের কোন স্বপ্নকে পূরণ করতে চাইতেন? 

মৌমিতা মুখার্জী: ফিটনেস ট্রেনার না হলে ক্রিকেটার হতাম (হাহাহা... আবারও হাসলেন)।

টাইমটাচ নিউজ: পরিশেষে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই? 

মৌমিতা মুখার্জী: আমার ছোট্ট একটা পরিবার রয়েছে, তাদের সাথেই থাকতে চাই। আমি আমার পরিবারের সাথে কাটানো সময়গুলোই সবথেকে বেশি উপভোগ করি। ট্রেনিং করব, ট্রেনিং করাব আর তত দিনে মনে হয় নিজের ব্যায়ামাগারও প্রতিষ্ঠা করে ফেলব! আর একটা ফার্ম হাউস প্রতিষ্ঠারও ইচ্ছে রয়েছে, যেখানে পোষা কুকুরদের শেল্টার দেবো, তাদের যা যা দরকার সবকিছুর যোগাড় করব৷ সেইটার জন্য অবশ্য অনেক টাকার দরকার (হাহাহা... পুনরায় হাসতে হাসতে বললেন)। বাংলাদেশে যাবার ইচ্ছে রয়েছে, ওখানকার মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের বডিবিল্ডিংয়েও অনুপ্রেরণা যোগাতে চাই আমি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এগুলোই আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে পারেন।