Opu Hasnat

আজ ১৫ জুলাই সোমবার ২০২৪,

ফটোগ্রাফিটাই আমার কাছে নিঃশ্বাসের মতো : শ্রীপর্ণা চৌধুরী সাক্ষাৎকার

ফটোগ্রাফিটাই আমার কাছে নিঃশ্বাসের মতো : শ্রীপর্ণা চৌধুরী

জনপ্রিয় ভারতীয় ফ্যাশন ফটোগ্রাফার শ্রীপর্ণা চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশের পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘টাইমটাচ নিউজ ডটকম’ এর সঙ্গে। বাংলাদেশ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন সাংবাদিক ফয়সাল হাবিব সানি। 

টাইমটাচ নিউজ: কেমন আছেন? ফটোগ্রাফি কেমন চলছে? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: ভালো আছি। ভালো থাকার চেষ্টা প্রতিটা মুহূর্ত করে যাচ্ছি। আমাদের প্রত্যেককেই তো দিনশেষে কোনো না কোনোভাবে ভালো থাকতে হবে। আমার কাছে ফটোগ্রাফি একটা নিশ্বাস বেঁচে থাকার। যতদিন আমি আছি, ততদিনই আমার ছবি তোলা জারি থাকবে। তাই ফটোগ্রাফিটাই আমার কাছে নিঃশ্বাসের মতো। তাই ফটোগ্রাফি নিয়ে ভালো আছি এবং এই মাধ্যমে নিত্যনতুন অনেক কিছুই শিখছি প্রত্যহ। 

টাইমটাচ নিউজ: ফটোগ্রাফার হবার ইচ্ছে কী ছোটবেলা থেকেই নিজের মধ্যে লালন করতেন? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: ছোটবেলা থেকে কখনোই ভাবিনি যে ফটোগ্রাফার হবো। আমি ছোটবেলা থেকে আঁকতে খুবই ভালোবাসতাম। কিন্তু হুট করেই আঁকাআঁকির মধ্যে আমি অনুধাবন করতে সমর্থ হই ফ্যাশনের ছোঁয়া। তারপর শুরু করলাম বিভিন্ন ফ্যাশনকেন্দ্রিক চিত্র সম্বলিত স্কেচ আঁকার কাজ। ধীরে ধীরে বাবার দেয়া উপহারস্বরূপ KODAK CAMERA এবং CANON IXUS দিয়ে শুরু করি রাস্তাঘাটে ছবি তোলা। পরবর্তীতে ছবি তোলায় কিছুটা পারদর্শীতা অর্জনের পর শুরু করি ফটোগ্রাফির চর্চা। তাই ফটোগ্রাফির বিষয়টা আমার কাছে শেষমেশ ধরা দিয়েছে তুলি, আঁকাআঁকি এবং আঁকাআঁকির খাতা থেকেই।

টাইমটাচ নিউজ: আপনার ফটোগ্রাফার হবার পেছনের গল্প সংক্ষেপে যদি বলতেন? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: আসলে একজন গুণী ব্যক্তি ছিলেন আমার অফিস সহকর্মী হিসেবে। তিনি আমার পেইন্টিংয়ের ভীষণ প্রশংসা করতেন। তার হাতের আঁকাও অপূর্ব ছিল। মানুষটা ছিল খুবই সৃজনশীল। আমায় প্রায়-ই তিনি বলতেন, কুমারটুলী গিয়ে ছবি তোলার কথা। একদিন আমি রাজিও হয়ে গেলাম। ছোট ক্যামেরা হাতে গুটিয়ে গেলাম৷ শুরু করলাম ফ্রেমিং মায়ের প্রতিমা থেকে এবং স্ট্রিট ফটোগ্রাফি। তারই ধারাবাহিকতায় একসময় ঝুঁকে গেলাম ফ্যাশন ফটোগ্রাফির পানে৷ 

টাইমটাচ নিউজ: আপনার ফটোগ্রাফিতে নান্দনিকতার বিশেষ ছাপ পরিলক্ষিত হয়। ফটোগ্রাফির অনেক শাখা রয়েছে। কোন শাখায় নিজেকে আরও বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণরূপে অনন্য উচ্চতায় মেলে ধরতে চান? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: প্রথমদিকে আমি ছবি তুলেছি অনেক প্রকারের (যেমন: Street, Bird, animals, festivals, nature based); কিন্তু আমাকে টেনে নিল গ্ল্যামার ভুবন এবং ফ্যাশন। আমি ফ্যাশন ফটোগ্রাফির প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠলাম এবং এদিকেই পা বাড়াতে শুরু করলাম। পাশাপাশি আমি প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফিও করি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের। খুবই সৃষ্টিশীল শৈল্পিক সেকশন এটা। সবমিলিয়ে ফ্যাশন ফটোগ্রাফিই এখন আন্তরিকতার সঙ্গে করে যাচ্ছি এবং আবারও বলছি আমার নিঃশ্বাসের, শান্তির জায়গা এইটা। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনার ফটোগ্রাফি ওপার বাংলা (ভারত) ছাড়া এপার বাংলার (বাংলাদেশ) মানুষও পছন্দ করে থাকেন এবং ভীষণভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন তাদের কাছ থেকেও। এই যে দুই বাংলার মানুষের কাছ থেকেই যখন প্রশংসা পান, ভালোবাসা পান সেই অনুভূতিটা কেমন? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: অবশ্যই ভীষণ ভালো লাগে তখন। আমার তোলা ছবি যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরের দেশের মানুষও পছন্দ করছেন তা সত্যিই আমার জন্য অন্যরকম এক অনুভূতি ও বিশেষ প্রাপ্তি বইকি। সেখানে বাংলাদেশের মানুষ তো আমারই মায়ের ভাষায় কথা বলে, বাংলাদেশীদের সঙ্গে আমাদের আত্মিক যোগসূত্র রয়েছে জন্ম থেকেই। আমি অনেক বেশি খুশি এতে করে। 

টাইমটাচ নিউজ: কোন ধরণের ফটোগ্রাফিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং অদূর ভবিষ্যতে নিজের দেশের ফটোগ্রাফিকে কোন অবস্থানে দেখতে চান? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: আমি ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, সেইটা হয়তো আপনারাও দেখেছেন এবং জানেনও। আমি বহু প্রকারের ছবি তুলি; কিন্তু ফ্যাশন ফটোগ্রাফির প্রতি আমার সবসময়-ই আলাদা এক ভালো লাগা কাজ করে৷ ফ্যাশন ফটোগ্রাফি আমার ভালোবাসার জায়গাও বলতে পারেন। অবশ্য আমি চাই আমার দেশের জন্য কাজ করতে এবং আমার দেশকে আরও অনেক সাফল্য এনে দিতে। যদি আমি সেইটা ঠিকভাবে করতে পারি তবে তা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বটে। নিজেকে চাই সেই স্থানেই এগিয়ে নিয়ে যেতে, যাতে করে যারা ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে আগ্রহী তারা যেন আমার কাছ থেকে শিখতে পারে এবং আমার দেশকে আমি অন্যতম স্থানে অধিষ্টিত করার স্বপ্ন দেখি ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতেই। 

টাইমটাচ নিউজ: জীবনে ফটোগ্রাফার না হলে কী হতে চাইতেন? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: ফটোগ্রাফার না হলে অবশ্যই চাইতাম পেইন্টার হতে। এমনকি এখনও আমি পেইন্টিং করি। মূলত, রঙ, তুলি, ছবি এসবের সঙ্গে আমার বহু বছরের গভীর সম্বন্ধ। 

টাইমটাচ নিউজ: বর্তমানে আপনার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: আমি একজন আইটি প্রোফেশনাল, তার সাথে ফটোগ্রাফার। বুঝতেই পারছেন সকাল থেকেই সবটাই খুব ক্যালকুলেটেড থাকে। তারপর আরও ব্যস্ততা হলো আমি আমি খুবই পশুপ্রেমী (Dog Lover)। তাই আমার বাড়ির পোষা দুই কুকুর এবং আশপাশের কুকুরদের নিয়ে সময় ভালোই কেটে যায়। তারপর মাকে সহযোগিতা, সাংসারিক ব্যস্ততা এবং নিয়মিত জিমে তো যেতেই হয়। আমার পুরোটই ঘড়িতে বাঁধা। 

টাইমটাচ নিউজ: নিজের জীবনে যদি কোনো ফটোগ্রাফারকে আদর্শ মনে করে থাকেন, তাহলে কার নাম বলবেন? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: প্রথমেই আমি একজন ভারতীয় কিংবদন্তী আলোকচিত্রী এবং চিত্র-সাংবাদিক রঘুনাথ রায় চৌধুরী বা রঘু রাইয়ের নামই বলব। তারপর ডাব্বু রত্নামী সহ বর্তমানে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে আরও অনেকেই রয়েছেন। এছাড়াও আমার আদর্শ হিসেবে আমেরিকান পোর্ট্রেইট ফটোগ্রাফার অ্যানি লিবোভিটজকে ভীষণভাবে অনুসরণ করি আমি। 

টাইমটাচ নিউজ: ফটোগ্রাফারদেরও তো ফটোগ্রাফির পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন থাকে, ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে। অবসর সময়টা কীভাবে উদযাপন করতে পছন্দ করেন? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: অবসর সময় কেটে যায় পেইন্টিং, গৃহপালিত পশু (কুকুর), বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েই। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনি হাস্যোজ্জ্বল এবং প্রাণোবন্ত একজন মানুষ। জীবনকে সুখী রাখার পেছনে আপনার মূলমন্ত্র কী? 

শ্রীপর্ণা চৌধুরী: জীবনকে সুখী রাখার পেছনের মূলমন্ত্র হয়তো আমিও রোজ খোঁজার চেষ্টা করি আর খুঁজে বের করি৷ আমি মনে করি, আমি যত বেশি কাজ করব, আমার মস্তিষ্ক তত বেশিই সচল থাকবে৷ এর বাইরেও মানসিক প্রশান্তির জন্য কোথাও ঘুরে আসাটা অতীব প্রয়োজনীয় ব্যাপার এবং নিজের প্রিয়জনেদর সাথে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, হাসি, তামাশায় মেতে ওঠা, বাড়ির মানুষগলোর পাশে থাকা এগুলোই যদি সবটা করা যায় তাহলে জীবনটা ঠিক তালেই কাটবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।