Opu Hasnat

আজ ১ মার্চ শুক্রবার ২০২৪,

সৈয়দপুরে রেললাইনের দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা, ট্রেন চলাচল ঝুঁকিতে নীলফামারী

সৈয়দপুরে রেললাইনের দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা, ট্রেন চলাচল ঝুঁকিতে

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় রেললাইনের উভয় পাশে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে যেমন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন, তেমনি বেড়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। যদিও বাংলাদেশ রেলওয়ের (বিআর) আইন অনুযায়ী রেললাইনের উভয় পাশের বিশ ফুট সংরক্ষিত এলাকা বিপজ্জনক।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্র হতে জানা যায়, সৈয়দপুর থেকে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী পর্যন্ত আন্ত:নগর ও লোকাল এসব মিলে সাতটি ট্রেন ১৪ বার চলাচল করে। সেই সঙ্গে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামতের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় প্রতিদিনেই ওয়াগন ও বগি ওই রেলওয়ে লাইন দিয়েই আনা ও পাঠানো হয়।

আর সৈয়দপুর শহরের ১২৬ নম্বর রেলওয়ে গেট থেকে ১২৫ নম্বর গেট হয়ে দক্ষিণের হাতিখানা বানিয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রেল লাইন ঘেঁষে দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্যক অবৈধ স্থাপনা। এ সবের মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেডিং দোকান, কামার, স্বর্ণকার, মাংস, ট্রাঙ্ক-বালতির কারখানা, কাগজের বাক্স তৈরি কারখানা, টেইলার্স, আসবাব তৈরি কারখান প্রভৃতি। এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রেললাইনে ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ পিকআপ স্ট্যান্ড ও ফলের পাইকারি আড়ৎ।

রেললাইনের দুই পাশের ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটার জন্য ক্রেতারা সাধারণত রেলওয়ে লাইন ব্যবহার করে থাকেন। আর এ সব দোকানপাটের ময়লা আবর্জনা নিত্যদিন রেলওয়ে লাইনের ওপর এনে ফেলছে ব্যবসায়ীরা। এতে রেলওয়ের লাইন, ক্লিপ ও পাথর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

এ ছাড়াও লাইনের ওপরে প্রতিদিনের ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালা বসে। তারা লাইনের ওপর বসে দৈনন্দিন বেচা-বিক্রি করেন। আর তারা ট্রেন আসার হুইসেল শুনে কিছু সময়ের জন্য সরে পড়েন। এতে রেলওয়ে লাইনের ওপর মানুষের সরব উপস্থিতি থাকছে। ফলে এতে করে প্রতিনিয়ত রেলওয়ে লাইনের মারাত্মক ক্ষতিসাধন হচ্ছে। সেই সঙ্গে ফলের পাইকারী আড়তের প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা অহরহ ফেলা হচ্ছে রেললাইনে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুরের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. সুলতার মৃধা জানান, সুষ্ঠভাবে ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যে সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেললাইনের ৩৯৩/০ হতে ৩৯৫/৬ পর্যন্ত দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে রেলওয়ের পাকশী ডিইএন/২/ বরাবরে পত্র দেয়া হয়।  উচ্ছেদ করা হলে আবার বসেন। তিনি আরো জানান, রেললাইনের উপর দোকানপাট বসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন। 

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির স্থানীয় শাখার নেতা কমরেড রুহুল আলম মাস্টার বলেন, এলাকার ব্যবসায়ীরা রেললাইনের পাশে দোকান বসিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। বিশেষ করে পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোকানিরা জানান, পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, পুলিশ ও সাংবাদিককে প্রতিদিন মোটা অংকের বখরার টাকা দিলেই নিশ্চিন্তে ব্যবসা করা যাচ্ছে। 

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম বলেন, রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই সব অবৈধ স্থাপনার কারণে ট্রেন চালকরা সামনে ঠিকভাবে দেখতে পান না। এর ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, গত এক বছরে এই রেলপথে প্রায় ৮ জনের প্রাণহাণি ঘটেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।