Opu Hasnat

আজ ১ মার্চ শুক্রবার ২০২৪,

‘এপার-ওপার বাংলার মানুষের ভালোবাসা নিয়েই এগিয়ে চলতে চাই’ শিল্প ও সাহিত্যসাক্ষাৎকার

‘এপার-ওপার বাংলার মানুষের ভালোবাসা নিয়েই এগিয়ে চলতে চাই’

ওপার বাংলার (ভারত) জনপ্রিয় কবি এবং একজন আলোকিত মানুষ অনুব্রতা গুপ্ত। সম্প্রতি তিনি মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশের অত্যন্ত পাঠকপ্রিয় ও তথ্যসমৃদ্ধ অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘টাইমটাচ নিউজ ডটকম’ এর সঙ্গে। বাংলাদেশ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ফয়সাল হাবিব সানি। 

টাইমটাচ নিউজ: কেমন আছেন? লেখালেখি কেমন চলছে? 

অনুব্রতা গুপ্ত: ভালো আছি। লেখালেখি ভালো চলছে। বর্তমানে একটি গদ্যের বই লিখছি। এটি আমার প্রথম গদ্যের বই হতে চলেছে। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই? 

অনুব্রতা গুপ্ত: ২০১৯ সালে প্রকাশিত আমার প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ ‘‘চাঁদ ও চুমুর ভগ্নাংশ’’। ২০২০ সালে প্রকাশিত হয় একক কাব্যগ্রন্থ ‘‘আইভিলতা ও অনিরুদ্ধ’’। ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয় দুটি কাব্যগ্রন্থ, ‘‘কমলালেবুর গন্ধ’’ ও ‘‘ঈশ্বর যা কিছু দেখলেন’’। আর কোভিড পিরিয়ডে জনস্বার্থে আমরা কিছু বন্ধুরা মিলে একটি অনলাইন পত্রিকা সম্পাদনাও করেছিলাম, ‘‘আলোলিকা’’। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনি তো অনেকের প্রিয় লেখিকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আপনার রয়েছে অগণিত শুভাকাঙ্খী। আর বর্তমান প্রজন্মের অনেক ছেলে এবং মেয়েই আপনাকে তাদের আদর্শ মনে করেন। যদিও আপনার সকল বয়সেরই পাঠক রয়েছে। তবে এই যে তরুণ প্রজন্ম আপনার লেখা পড়ছে এবং আপনাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছে, এই বিষয়টাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন? 

অনুব্রতা গুপ্ত: হ্যাঁ, এখনকার নতুন প্রজন্ম আমার লেখা পড়ছেন। এই বিষয়টা নিঃসন্দেহেই খুব আনন্দের এবং উৎসাহেরও বটে। আর ‘আদর্শ' শব্দটির ব্যাপ্তি তো বিশাল। এখনকার প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা যদি আমাকে তাঁদের আদর্শ মনে করেন বা আমার লেখায় বা আমার ব্যক্তিত্বে তেমন প্রতিফলন দেখতে পায়, তবে তা একদিকে আমার জন্য যেমন বিশেষ প্রাপ্তির; অন্যদিকে দায়িত্বেরও । দিনশেষে আমাদের প্রত্যেকেরই তো কারোর না কারোর কাছ থেকে কিছু শেখার থাকে এবং আমি নিজেও তা শেখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে চাই। লিখতে চাই। তাঁদের সম্মানের মর্যাদা দিয়ে যেতে চাই। 

টাইমটাচ নিউজ: কীভাবে লেখালেখির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করলেন? 

অনুব্রতা গুপ্ত: অনেক ছোট থেকেই লেখালেখি করি। স্কুল-কলেজের ম্যাগাজিন দিয়ে শুরু এবং অন্যান্য স্থানীয় লিটল ম্যাগাজিনে লিখতাম। কলেজের প্রথম বর্ষে অলইন্ডিয়া রেডিওতে (আকাশবাণী কলকাতা) স্বরচিত কবিতা পাঠাই, নির্বাচিত হয় এবং পাঠের ডাক পাই। পরিণতভাবে আমার কবিতা লেখা শুরু হয়েছে আমার যখন একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি। তারপর গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর আমি ফেসবুকে সম্পৃক্ত হই, সেখানে দেখলাম খোলা পাতার মতো একটা জায়গা আছে যেখানে লেখা যায়। কী হবে না ভেবেই লিখতে থাকতাম। ধীরে ধীরে পাঠক তৈরি হলো, তাঁরা আমার লেখা পছন্দ করতে থাকলেন, আমার চিন্তা-ভাবনা, লেখনী শৈলী। বই প্রকাশিত হলো। এভাবেই শুরু, এভাবেই পথ চলছি। 

টাইমটাচ নিউজ: শত ব্যস্ততার মাঝেও আপনাকে সবসময়-ই প্রফুল্ল থাকতে দেখা যায়। ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে কীভাবে এতটা প্রফুল্ল রাখতে পারেন! ‘টাইমটাচ নিউজ' এর পাঠকদের জন্য যদি এই প্রফুল্ল থাকার মূলমন্ত্রটা আজ জানিয়ে দিতেন? 

অনুব্রতা গুপ্ত: প্রফুল্ল থাকার বিষয়টা আমার কাছে মনে হয় যে, ভালো থাকা ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো অপশন থাকে না আসলে। খারাপ থাকার তো বহুবিধ কারণ রয়েছে জীবনে। আমাদের জীবনের যে চলমান চক্র তা ঘুরেফিরে আমাদের ভালো কিছুও দেবে, খারাপ কিছুও দেবে৷ ভালো কিছু যত সহজে আমরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারি, খারাপ কিছু তত সহজে গ্রহণ করতে পারি না। কারণ খারাপ কিছু আমরা চাই না, তাই খারাপ কিছু গ্রহণ করতে আমাদের স্ট্রাগল করতে হয়। তাই প্রফুল্ল থাকার মন্ত্র আলাদা করে কিছুই নেই; তবে আমি বলব, নেতিবাচকতা থেকে বা যে ধরণের বিষয়গুলো মানুষের মনে অন্ধকারের জন্ম দেয়, আমাদের মন ও দৃষ্টির পরিসরকে সংকীর্ণ করে (যেমন- অতিরিক্ত সমালোচনা, মানুষের অনিষ্ট কামনা করা, অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাথা ঘামানো, সেল্ফ-পিটি, পরশ্রীকাতরতা) সেগুলো থাকে দূরে থাকতে পারলেই জীবন সুন্দর। জীবনে অনেক ধরণের প্রতিবন্ধকতা আসবেই। সবমিলিয়েই জীবনকে গ্রহণ করার অভ্যাস করতে হবে। এই অভ্যাসটাই মন্ত্র হয়তো। 

টাইমটাচ নিউজ: একটু মজার প্রশ্ন করতে চাই। জীবনে প্রথম প্রেমে পড়েছিলেন কবে এবং মোট কয়টা প্রেম করেছেন?  

অনুব্রতা গুপ্ত: আচ্ছা, জীবনে যদি প্রথম কোনো পুরুষের প্রেমে পড়ার কথা বলা হয়, তাহলে আমি যাকে বিয়ে করেছি অর্থাৎ আমার স্বামীর প্রেমেই পড়েছিলাম (হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন)। যার সঙ্গে আমার প্রায় আট বছরের বেশি বৈবাহিক জীবনের সম্পর্ক এবং বারো বছরের প্রেম। শুরু হয়েছিলো যখন দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ি। 

টাইমটাচ নিউজ: যদি ভুল না করি, আপনি মূলত কবিতা লিখতেই বেশি ভালোবাসেন। কবিতা লেখার পাশাপাশি আপনার আবৃত্তিও তো হৃদয়স্পর্শী। আপনার আরও অনেক গুণ রয়েছে নিশ্চয়। একজন মানুষ এত গুণ কীভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারে?

অনুব্রতা গুপ্ত: কতটা ভালো করতে পারি আমি জানিনা। লেখালেখিই আমার পেশা কিংবা কাজ বা চর্চা যেইটাই বলি না কেন। এর বাইরে আবৃত্তি , নাচ, আঁকা বিষয়গুলোও আমাকে আনন্দ দেয়। এমনকি একসময় অভিনয় করারও প্রবল ইচ্ছে ছিল আমার; বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব শ্রী কৌশিক সেনের ‘স্বপ্নসন্ধানী' গ্রুপেও সুযোগ পেয়েছিলাম। ওনাদের বার্ষিক পত্রিকায় ‘হরগজ' নাটকটির রিভিউ লিখতে বলেন স্যার নিজে। বেশ প্রশংসিতও হয়৷ কিন্তু তখন আমার বয়স খুবই কম ছিল। সদ্য মাধ্যমিক দিয়েছি। তাই পড়াশুনার পাশাপাশি তাল মিলিয়ে আর ধরে রাখতে পারি নি থিয়েটারটা। আমার অনার্স, মাস্টার্স সবই ইংরেজি সাহিত্যে এবং এম.এ ফার্স্ট  ইয়ারে পড়ার সময় আমি বিয়েও করি। আমি বিয়ে করার পর মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। এর মধ্যে জীবন নানান রকমভাবে এগিয়েছি; তবে লেখার প্রতি যতটা আত্মিক, অভিনয়টাও আমার ঠিক তেমনই একটা জায়গা। কিন্তু অভিনয়ের জন্য সেই ফুরসৎটা ততটা তৈরী হয় নি । আমি তো দীর্ঘ বছর ধরে বিদেশে (সিঙ্গাপুরে) থাকি, যেটা বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি থেকে শত শত হস্ত দূরের একটা জায়গা। তাই সেইভাবে পুরোপুরি অভিনয়ের জগতের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আর ধারণ করার ক্ষেত্রে আমার বাবা নিজেও চিত্রশিল্পী, কমার্শিয়াল আর্টিস্ট। তিনি কলকাতা গর্ভমেন্ট আর্ট কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং নিজেও লেখালেখি করতেন। উনারও প্রকাশিত বই রয়েছে। তাই আমি বাবার থেকেও কিছু তো পেয়েছি অবশ্যই, জিনগতভাবে যেই বিষয়টা থাকে। 

টাইমটাচ নিউজ: অনেক নারীই তো অনুব্রতা গুপ্ত হতে চায় এবং অনুব্রতা গুপ্তের কাছ থেকে জীবনকে সুখী রাখার মন্ত্র আয়ত্ত্ব করতে চায়। তাদের উদ্দেশে যদি আপনার কিছু বলার থাকে? 

অনুব্রতা গুপ্ত: আমি আসলে কী বলব বুঝতে পারছি না (হাসতে হাসতে বললেন)! এই ধরণের কথা শুনে আমার বেশ লজ্জবোধই হচ্ছে! কোনো নারী যদি ‘অনুব্রতা গুপ্ত' হতে চায়, সেইটা সত্যিই আমার জীবনের অনেক বড়ো প্রাপ্তি। আর আমি বলব, কারোর মতোই হবার কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু ‘অনুব্রতা গুপ্ত' কেন, জীবনে কারোর মতোই হবার আবশ্যিকতা আমি দেখি না। প্রত্যেক মানুষই স্বতন্ত্র এবং প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই নিজস্ব কিছু গুণ, প্রতিভা থাকে যা তাকে অন্য মানুষ থেকে আলাদা, বৈচিত্র্যময় করে তোলে এবং সুন্দর করে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকেই তাদের নিজের মতো করে গড়ে উঠুক। আমরা প্রত্যেকেই যে আলোকে বেড়ে উঠি, গড়ে উঠি সেটিই আমরা। কারোর মতো না হয়ে নিজে যেভাবে গড়ে উঠলে নিজের ভালো লাগবে, যেভাবে নিজস্বতা বজায় থাকবে সেভাবেই সকলের গড়ে ওঠা শ্রেয়। আর নিজের মতো করে নিজেকে বিকশিত করতে পারাটাই জীবনের পথ। 

টাইমটাচ নিউজ: লেখিকা পরিচয়ের বাইরে জীবনে আর কী হবার ইচ্ছে ছিল আপনার কিংবা এখনও কী ইচ্ছে হয় এমন কিছু হতে? 

অনুব্রতা গুপ্ত: লেখিকা পরিচয়ের বাইরে সত্যি বলতে আমার অভিনয় করার ইচ্ছে ছিল প্রচণ্ড। মঞ্চে এবং পর্দায়। কিছু সুযোগও পেয়েছিলাম। একটি শর্ট ফিল্মে অভিনয়ও করি। শুধু ভালোবাসি বলব না, চাওয়া আর কী। কিংবা একদম অন্যকিছু করতাম। চাকরি করতাম হয়তো পুরোদমে। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনার প্রিয় শখ সম্পর্কে জানতে চাই?

অনুব্রতা গুপ্ত: শখ আমার অনেক আছে। আমার নাচ ভালো লাগে, আমার আবৃত্তি ভালো লাগে, আমার হাতের কাজ করতে ভালো লাগে, আমার ছবি আঁকতেও ভালো লাগে। গত বছর সাঁতার শেখাও শুরু করেছিলাম। এছাড়াও, জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বা সমস্যা নিয়ে মনস্তত্ত্বের আলোকে আমার আলোচনা করতে, কথা বলতে ভালো লাগে। ফেসবুকে আমার নিজস্ব একটা পেজ রয়েছে। আমার নিজের নামেই (Anubrata Gupta); আমি সেখানে বিভন্ন বিষয়ে মুক্ত আলোচনা করতে ভালোবাসি। সেই আলেচনা থেকে অনেকেই উপকৃত হন বলে জানান। বহু মানুষ কথা বলতে চান। বলেনও। তাদের জীবনের গল্প। এই ভিডিও তৈরীর কাজটিও পুরোদমে করছি এখন। 

টাইমটাচ নিউজ: এই যে ওপার বাংলা ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন অগণিত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, পাচ্ছেন এবং অদূর ভবিষ্যতেও হয়তোবা পাবেন। কেউ হয়তো আপনার প্রতি তার ভালোবাসা জানিয়ে বড়ো করে ইনবক্সে মেসেজ পাঠায়, কেউ হয়তো আপনায় ভালোবেসে কোনো উপহার নিবেদন করতে চায় কিংবা তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে উপহার নিবেদনও করেন। তারপরও তো কিছু নেতিবাচক মন্তব্য বা মেসেজও আসে আপনার কাছে বা আসাটাও স্বাভাবিক। তখন কী অনেক বেশি বিব্রত বোধ করেন নাকি এই বিষয়গুলোকে পাত্তা না দিয়ে বরং উপভোগ করতেই ভালোবাসেন? 

অনুব্রতা গুপ্ত: বাংলাদেশের পাঠকদের থেকে আমি অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। খুবই আন্তরিক। আমার দেশের বাড়িও কিন্তু বাংলাদেশে। আমি খাঁটি বাঙাল আর কী। আর রইল পড়ে খারাপটুকু। ওসব বেশি ধরতে নেই। যাঁর যেমন দৃষ্টি আর রুচি আর অভিসন্ধি সে তেমন ভাবেই দেখবে। আমি শুধু আমার ভূমিকাটুকুই পালন করতে পারি। অন্যদের রেকটিফাই করা আমার কাজ নয়। দুধটুকু নিয়ে জলটুকু ফেলে দেওয়ার মতো। আর ঘৃণা এমন এক জিনিস তা অন্যকে যত না পোড়ায়, যে ঘৃণা করছে তাকে বেশি ধ্বংস করে। 

টাইমটাচ নিউজ: সর্বশেষে জানতে চাই, নিজের অবসর সময়টা কীভাবে উপভোগ করতে পছন্দ করেন? 

অনুব্রতা গুপ্ত: অবসর সময় বলতে আমার তো লেখালেখিটাই প্রধান কাজ। এর বাইরে মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক সচেতনতামূলক কন্টেন্ট বানাই আমি, আমার পেজে। এর পাশাপাশি সাংসারিক জীবনের সব কাজই সামলাতে হয়। আমি রান্না করতে ভালোবাসি, সিনেমা দেখতে ভালোবাসি, গান শুনি প্রচুর। ঘুরতে ভালোবাসি। আর আমার সবথেকে ভালো লাগার বিষয়টা হচ্ছে, আমি আমার কাছের মানুষগুলোর সাথে কোথাও বসে গান করতে, সময় কাটাতে, আড্ডা দিতে খুব ভালোবাসি। আমি বেশ বন্ধুপ্রিয় মানুষ, বন্ধুদের সঙ্গে জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করি তাই। আর যেহেতু আমি বছরের অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে (সিঙ্গাপুর) থাকি, তাই দেশ, দেশের মানুষ আমাকে টানে সবসময়। বই তো পড়িই। সেটা আর অবসর নয় আমার জন্য এখন (হাসতে হাসতে বললেন)।