Opu Hasnat

আজ ১৯ জুন বুধবার ২০২৪,

দর্শকদের আমৃত্যু ভালো কিছু উপহার দিয়ে যেতে চাই : শ্রীতমা বৈদ্য বিনোদনসাক্ষাৎকার

দর্শকদের আমৃত্যু ভালো কিছু উপহার দিয়ে যেতে চাই : শ্রীতমা বৈদ্য

ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় নন্দিত নৃত্যশিল্পী ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী শ্রীতমা বৈদ্য। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশের অন্যতম পাঠকপ্রিয় ও তথ্যসমৃদ্ধ অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘টাইমটাচ নিউজ’ এর মুখোমুখি হয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ফয়সাল হাবিব সানি। 

টাইমটাচ নিউজ: ‘টাইমটাচ নিউজ’ এর পক্ষ থেকে আপনায় স্বাগত ও আপনার প্রতি ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি। কেমন আছেন? 

শ্রীতমা বৈদ্য: প্রথমেই ‘টাইমটাচ নিউজ’কে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার জীবনের নানান অজানা গল্প ও আমার কথাকে এপার বাংলা ছাড়াও ওপার বাংলার (বাংলাদেশ) মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য। আমি ভালো আছি, কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি ভীষণ। আর আমরা শিল্পীরা তো কাজের মাঝেই সবটুকু আনন্দ খুঁজে পাই। তাই সকলের ভালোবাসা পেলে কাজের মধ্য দিয়েই আরও ভালো থাকব নিশ্চয়। 

টাইমটাচ নিউজ: মডেলিং এবং অভিনয় পেশার সঙ্গে নিজেকে কীভাবে সম্পৃক্ত করলেন? 

শ্রীতমা বৈদ্য:  আমি আসলে ‘মডেলিং’ পেশার সঙ্গে ওইভাবে সম্পৃক্ত নই। তবে একটা বিষয় তো থাকে, শিল্পীদের তাদের শুভাকাঙ্খী ও ভক্তদের জন্য ভালো কিছু ছবি, ভালো কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করতে হয়। আমিও তেমনটাই করি। আর অভিনয় পেশার সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত হলাম তার উত্তর দিতে আমাকে আমার ছোটবেলায় ফিরে যেতে হবে কিছুটা। আমি তিন বছর কিংবা সাড়ে তিন বছর বয়স থেকেই নাচ শিখতাম আর নাচের সঙ্গে ‘অভিনয়’ শব্দটিও ওতোপ্রোতভাবে সম্বন্ধযুক্ত। অনেকটা একে অপরের পরিপূরক বইকি। আর নাচ শিখতে শিখতেই অভিনয়ের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা। এককথায়, নাচ থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা। আমি কলকাতায় এসেছি কিছু বছর হলো। যখন নাচের মাধ্যমে আমি অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে থাকলাম, তখন এই প্ল্যাটফর্মটাকে আমি আরও বেশি বিস্তৃততর করতে চেয়েছি এবং যোগ্যতা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি বারবার। মূলত এমনটাই ছিল অভিনয় পেশার সঙ্গে আমার নিজেকে সম্পৃক্তকরণের গল্পটা। এরই মধ্যে ‘জি বাংলা’তে আমার অভিনীত একটা মেগা সিরিয়াল প্রচারিত হচ্ছে। মেগা সিরিয়ালটির নাম ‘মিলি’। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনি তো অসাধারণ একজন নৃত্যশিল্পীও। গানের সঙ্গে আপনার নৃত্য এবং হৃদয়স্পর্শী অভিনয় মুগ্ধতায় তন্ময় করে রাখে লাখো লাখো দর্শকশ্রোতাকে। নৃত্যে আপনার হাতেখড়ি কীভাবে, যদি বলতেন? 

শ্রীতমা বৈদ্য: ধন্যবাদ আমাকে ‘অসাধারণ একজন নৃত্যশিল্পী’ উপমায় উপমায়িত করার জন্য (হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন)। নৃত্যে আমার হাতেখড়ি হয় আমার মামা সন্দীপ দত্ত চৌধুরীর হাত ধরেই। আমি ছোটবেলায় বাড়িতে গানের তালে তালে নৃত্য করতাম এবং তারই অনুপ্রেরণায় আমি নৃত্যের যাবতীয় বিষয়বস্তু সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে থাকি। উনিই আমার নৃত্যের প্রথম ওস্তাদ এবং আমার ক্যারিয়ারে তার অবদান নিঃসন্দেহেই অনস্বীকার্য। তিনি না থাকলে হয়তো আমি আজ এই অবস্থানে আসতে পারতাম না। আমার জীবনে তার তাৎপর্যবহ অবদানের জন্য আমি তাকে সবসময়-ই শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার সঙ্গে বিশেষভাবে স্মরণ করে থাকি। 

টাইমটাচ নিউজ: শৈশব থেকেই কী মডেল বা অভিনেত্রী হবার স্বপ্ন দেখতেন? 

শ্রীতমা বৈদ্য: সত্যি বলতে শৈশব থেকেই মডেল বা অভিনেত্রী হবার স্বপ্ন আমার মধ্যে কখনো জাগ্রত হয়নি। আমি সৃজনশীল বা সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে ভালোবাসতাম। আমি নাচতে ভালোবাসতাম, ছবি আঁকতে ভালোবাসতাম। তবে যখন থেকে নাচের প্রতি আমার অধিক ভালোবাসা জন্মাতে থাকল, তখন থেকেই আমার জীবনের স্বপ্নগুলো অন্যদিকে মোড় নিতে লাগল। তবে এখন আমার প্রোফেশনের জায়গা থেকে যে এত এত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি, তা আমাকে মানুষের কাছে আরও বেশি ঋণী করে তুলেছে। তাই এখন মনে হয় মানুষ আমার কাছ থেকে যা আশা করে, সেই প্ল্যাটফর্মটার দিকেই আমার বেশি মনোনিবেশ করা উচিৎ এবং ভালো অভিনয়ের মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমি তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিয়ে যেতে চাই এই পৃথিবীর বুকেই। 

টাইমটাচ নিউজ: যদি নৃত্যশিল্পী, মডেল বা অভিনেত্রী কোনোটাই না হতেন, তাহলে জীবনে কী হতে চাইতেন? 

শ্রীতমা বৈদ্য: যদি নৃত্যশিল্পী, মডেল বা অভিনেত্রী কোনোটাই না হতাম, তাহলে জীবনে শিক্ষিকা হতাম হয়তো। কেননা আমার এখনও মনে আছে যে, স্কুল থেকে ফিরে শিক্ষিকাদের মতো করে মায়ের শাড়ি শরীরে পেচিয়ে আমি বাড়িতে বোর্ডে ও দেয়ালে  নানা রকম লেখালেখি করতাম। তাই একবাক্যেই বলে দিতে পারি, উপর্যুপরি প্ল্যাটফর্মের কোনোটাই না হলে আমি এক জীবনে শিক্ষিকা হিসেবেই বাঁচতে চাইতাম। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনার নিজস্ব অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল (Sreetama Baidya) রয়েছে; যেখানে আপনার আপলোড করা নাচের ভিডিওগুলো ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আপনার অগণিত শুভাকাঙ্খী ও ভক্ত দেখে থাকেন। এই যে এপার-ওপার বাংলার কাঁটাতারের সীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকেও যখন ভালোবাসা পান, সেই অনুভূতি কেমন? 

শ্রীতমা বৈদ্য: সেই অনুভূতি তো কল্পনাতীত! কাঁটাতারের ওপার থেকে যখন বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা, সম্মান আর সম্প্রীতিতে সিক্ত হই, তখন নিজের অজান্তেই আমার মধ্যে যে অদ্ভুত আশ্চর্য অনুভূতির জন্ম হয় তা হয়তো ভাষা দিয়ে আমি কখনোই প্রকাশ করতে পারব না। আর বাংলাদেশকেও তো আমার খুবই আপন মনে হয়; কেননা আমাদের দুই বাংলার মানুষেরই সবথেকে বড়ো পরিচয় আমরা বাঙালি। তাই বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা আমাকে নতুনভাবে পথ চলতে সহায়তা করে ও আমাকে নতুন দিনের সফলতার স্বপ্ন দেখতে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে। 

টাইমটাচ নিউজ: জনপ্রিয় ভারতীয় চ্যানেল ‘জি বাংলা’র ‘ডান্স বাংলা ডান্স’ প্ল্যাটফর্মে আপনি প্রতিযোগিতা করেছেন এবং অভিনয়, নৃত্যের আরও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অভিনয় করেই আজ আপনি শ্রীতমা বৈদ্য। পথ চলতে চলতে তো অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন অনেকবার। মানুষের ভালোবাসা পেতে কেমন লাগে বা নিজের সাফল্যকে কীভাবে উদযাপন করতে ভালোবাসেন? 

শ্রীতমা বৈদ্য: আজ থেকে বহু বছর আগের কথা। ২০১০ সালে জনপ্রিয় ভারতীয় চ্যানেল ‘জি বাংলা'র ‘ডান্স বাংলা ডান্স’ প্রতিযোগিতায় আমি অংশগ্রহণ করি এবং ওই প্রথমবারই নিজেকে টেলিভিশনের পর্দায় দেখতে পাই। আমাদের সকলের প্রিয় মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী আমাকে খুবই স্নেহ করেন ও ভালোবাসেন৷ ‘জি বাংলা’ ছিল আমার স্বপ্নযাত্রার প্রথম সোপান আর ‘জি বাংলা’ পরিবার তো আজও আমার নিজেরই একটা পরিবার হয়ে রয়েছে। এখনও এত বছর পর আমি ‘জি বাংলা’র সঙ্গেই আছি এবং ‘জি বাংলা’র সঙ্গেই থাকতে চাই আজন্ম। ‘জি বাংলা’র একটা মেগা সিরিয়ালেও কাজ করছি আমি বর্তমানে। 

টাইমটাচ নিউজ: বর্তমানে আপনার কাজের ব্যস্ততা সম্পর্কে বলুন? 

শ্রীতমা বৈদ্য: বর্তমানে আমার কাজের ব্যস্ততা অনেক বেশি এবং কাজ নিয়ে খুবই ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত হচ্ছে আমার। মেগা সিরিয়ালের জন্য ডে-নাইট শুট করতে হচ্ছে, নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের জন্য শুট করতে হচ্ছে এবং আমার প্রোফাইলের জন্যও শুট করতে হচ্ছে। তাছাড়াও, বিভিন্ন মিউজিক ভিডিও’র কাজ নিয়েও খুবই ব্যস্ততায় সময় পার হচ্ছে আমার। দুর্গাপূজার পূর্বে বাংলাদেশে একটা প্রজেক্টের কাজে যাওয়ার কথা ছিল আমার; কিন্তু প্রচণ্ড ব্যস্ততার জন্য যেতে পারছি না। তবে পূজার পর নিশ্চয় খুব দ্রুতই বাংলাদেশে প্রজেক্টের কাজে যাবো আমি। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনার কোন কাজগুলোকে নিজের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট মনে করে থাকেন? 

শ্রীতমা বৈদ্য: আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে আমি ইউটিউবকেই প্রথমত ধন্যবাদ জানাব। ইউটিউব না থাকলে হয়তোবা আমি আমার নাচের ভিডিওগুলো এভাবে মানুষের সামনে নিয়ে আসতে পারতাম না কিংবা ইউটিউবের বদৌলতে আমি অনেক বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সমর্থ হয়েছি। আর নিজের কোনো কাজকে ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে গণ্য করলে আমি প্রথমেই রাহুল দত্তের ‘মিরা’ মিউজিক ভিডিওটার কথা-ই বলব। এই মিউজিক ভিডিও আমাকে রাতারাতি জনপ্রিয় বা দর্শকদের সামনে প্রশংসিত করে তুলেছিল। এরপর অবশ্যই ‘একলা আকাশ’ মিউজিক ভিডিও’র কথা বলতে হয়। তবে ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে আমি সর্বদাই ‘মিরা’ মিউজিক ভিডিওটাকেই দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকার করব৷ 

টাইমটাচ নিউজ: আপনি দেখতে যেমন অপরূপা, তেমনি আপনার অভিনয় প্রতিভা নিয়েও কোনো সংশয় নেই। ভবিষ্যতে কী রূপালি পর্দায় আপনার নায়িকা হয়ে ফিরবার কোনো ইচ্ছে আছে? 

শ্রীতমা বৈদ্য: হাহাহা... ধন্যবাদ আমায় ‘অপরূপা’ বিশেষণে বিশেষায়িত করার জন্য (আবারও হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন)। ভবিষ্যতে অবশ্যই রূপালি পর্দায় পূর্ণাঙ্গরূপে নায়িকা হয়ে আসতে চাই। আমি অবশ্য এখনও রূপালি পর্দায় কাজ করছি, তবে সেকেন্ড রোল হিসেবে। আর মেগা সিরিয়ালের কাজ তো চলছেই আমার। ওয়েব সিরিজ বা সিনেমা যেকোনো মাধ্যমেই নিজেকে দেখতে চাই আমি। আমার প্রতি দর্শকদের আস্থার প্রতিদানরূপে তাদের চাহিদানুযায়ী যেকোনো দৃশ্যে যেকোনো ধরণের অভিনয় করতেই রাজি আছি আমি। সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করতেও আমার কোনো সমস্যা নেই এবং আমি অভিনয়টাই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে করে যেতে চাই। দর্শকরাই আমার ভালোবাসা আর দর্শকরাই আমার পথচলার প্রধান স্তম্ভ; যা বলতে বা স্বীকার করতে আমার কোনো সংশয় কিংবা দ্বিধা নেই। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনার জীবনের স্মৃতিচারণমূলক বিশেষ কোনো অভিজ্ঞতার কথা বলুন? 

শ্রীতমা বৈদ্য: আমার জীবনের স্মৃতিচারণমূলক একটা ঘটনা আমার মনে পড়ে প্রায়-ই। আমাকে অনেকে দেবলীনা দি’র (দেবলীনা কুমার) সঙ্গে মিলিয়ে ফেলে। আমাদের দু’জনের চেহারার মধ্যে নাকি অদ্ভুতভাবে অভিন্ন মিল ও আকর্ষণ খুঁজে পান তারা। কিছুদিন পূর্বে ঋতু দি’র (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত) ‘দত্তা’ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে এবং ওই সিনেমাটি দেখতে আমি সিনেমা হলে গিয়েছিলাম৷ অবশ্য তখন ঋতু দি'র হাউজে সিনেমায় কাজ করা নিয়ে কথাবার্তাও চলছিল আমার। যাই হোক, সিনেমা হলে একদিকে যেমন অনেকে আমাকে শ্রীতমা ভেবেই ছবি তুলছিল; অন্যদিকে আবার অনেকেই আমাকে ‘দত্তা’ সিনেমার ‘নলিনী’ চরিত্রের মেয়েটা মনে করছিল। ‘নলিনী’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দেবলীনা দি। এই বিষয়টা খুবই মজার ছিল এবং আমি কিছুটা বিস্মিতও হয়েছিলাম! আর চলার পথে তো অনেক স্মৃতিচারণমূলক ঘটনাই ঘটে। তবে এই ঘটনাটাকেই আমার জীবনের সবথেকে বেশি ইন্টারেস্টিং ও স্মৃতিচারণমূলক ঘটনা মনে হয় আমার কাছে। 

টাইমটাচ নিউজ: আপনি তো অনেকের কাছেই একজন সফল ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছ্ববি৷ পরিশেষে জানতে চাই, শ্রীতমা বৈদ্য কী নিজেকে এখনও সফল মনে করেন? 

শ্রীতমা বৈদ্য: শেষ প্রশ্নটা আমার কাছে খুবই প্রিয় একটা প্রশ্ন। সত্যি বলতে অনেকেই আমাকে তাদের অনুপ্রেরণা, দিকনির্দেশক ও আদর্শ মনে করেন আর ওই মুহূর্তটা যে আমার জীবনে কত বড়ো প্রাপ্তি আমি বলে কোনোদিনও বোঝাতে পারব না। আর আমি নিজেকে এখনও কোনোভাবেই সফল মনে করি না। আমি মনে করি, আমি ১০০ শতাংশের মাত্র ১ শতাংশ কাজ দর্শকদের জন্য করতে পেরেছি। আমাকে আরও ৯৯ শতাংশ কাজ পূর্ণ করতে হবে। বহুদূর পথচলা বাকি আমার জীবনের। যতদিন আমার দেহে শক্তি থাকবে, আমার প্রাণ থাকবে ততদিনই আমি আমার কাজটাকে, আমার প্রোফেশনটাকে ভালোবেসে নাচ হোক, অভিনয় হোক বা মডেলিং হোক রূপালি পর্দায় নিজেকে দেখতে চাই, নিজেকে ধরে রাখতে চাই এবং মানুষের অন্তরের গভীরে দাগ কেটে যেতে চাই। যেদিন আমি ওই জায়গাটাই পৌঁছাব বা আমার স্বপ্নের আকাশ ছুঁয়ে যেতে পারব; সেদিনই আমি গর্ব করে বলতে পারব, ১ শতাংশ হলেও আমি নিজেকে সফল মনে করি। তবে আমি এই মুহূর্তে তো কোনোভাবেই সফল মনে করি না নিজেকে। আমি খুবই তুচ্ছ একজন মানুষ এবং কেবলই আমার জার্নিটা শুরু করেছি আমি। দু'হাত ভরে আমি সকলের কাছে আশীর্বাদ, ভালোবাসা, সম্মান এবং পাশে থাকা এইটুকুই চাই। কোনো একদিন যেন আমি বলত পারি, যেই লক্ষ্যটাই উত্তীর্ণ হবার আমি স্বপ্ন দেখেছি, আমি সত্যিই আজ নিজেক সেই স্থানে উপনীত করতে সফল হয়েছি। সর্বোপরি বলব, দর্শকদের ভালোবাসা ছাড়া আমার ক্ষুদ্র জীবনে সর্বোত্তম ও মহোত্তম প্রাপ্তি আর কিছুই হতে পারে না! দর্শকদের আমৃত্যু ভালো কিছু উপহার দিয়ে যেতে চাই।