Opu Hasnat

আজ ২০ জুন বৃহস্পতিবার ২০২৪,

পিছু হটেছে সৈয়দপুরে রেলওয়ে মিডিকেল কলেজের বিরোধিতাকারীরা, শিগগিরই শুরু হবে নির্মাণ কাজ নীলফামারী

পিছু হটেছে  সৈয়দপুরে রেলওয়ে মিডিকেল কলেজের বিরোধিতাকারীরা, শিগগিরই শুরু হবে নির্মাণ কাজ

সৈয়দপুরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রেলওয়ে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় বিরোধিতাকারীরা পিছু হটেছে। এখন আর কোন আন্দোলন কর্মসূচি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্টাটাস দিচ্ছেননা তারা। স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মেডিকেল কলেজের পক্ষে কঠোর অবস্হান ও ফেসবুকে সাধারণ মানুষের  সমালোচনার কারণে তাদের এই পশ্চাদপসরণ।

এই অবস্হায় রেলওয়ে মেডিকেল কলেজের প্রস্তাবিত স্থানে দীর্ঘদিন থেকে বসবাসকারীরাও এখন পুনর্বাসনের দাবিসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে বিকল্প স্থান খুঁজছেন।

আবার মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় বিরোধিতাকারীরাও সুর পালটে বলছেন, আমরা কখনোই রেলওয়ে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করিনি। আমরা শুধু স্হান পরিবর্তনের দাবি করেছি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, সৈয়দপুরে রেলওয়ে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এখানকার মানুষের গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। তাই এর বিপক্ষে যারাই অবস্থান নিবে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর স্হানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের যৌথসভায় বিরোধিতাকরীদের কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগীরা রেলওয়ের ভূসম্পত্তি অবৈধ পন্হায় ভোগদখল করবে আবার রেলওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাঁধা দিবে এটা হতে পারেনা। 

তিনি আরও বলেন, একদিকে অবৈধ দখলদারা নিজেদের ভূমিহীন বলে দাবি করছেন অথচ   তাদের নেতার বাড়ীতে রয়েছে এসির সংযোগ।   এছাড়াও ওই স্হানের বাসিন্দাদের কেউ কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যর সুবাদে আর্থীকভাবে বেশ স্বচ্ছল। শহরের অন্য স্হানে তাদের কারো কারো বাসাবাড়িও রয়েছে। তারপরও তারা রেলের জমি কোয়র্টার দখল করে রেখেছেন।এটি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না।

সৈয়দপুরে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসীনুল হক মহসীন বলেন, সৈয়দপুরে রেলওয়ে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে সৈয়দপুরের সর্স্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। তাই সরকার  নির্ধারিত স্হানেই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

অপরদিকে, বিরোধীতাকারী গ্রুপটির নেতা রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দাবির ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, আমরা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছি কথাটি ঠিক নয়। আমাদের দাবি বিদ্যমান রেলওয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় বহু ভূমিহীন পরিবার দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছেন। তাদের উচ্ছেদ না করে সৈয়দপুরে রেলওয়ের বহু পরিত্যক্ত সম্পত্তি রয়েছে সেই স্হানে রেলওয়ের মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। 

বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে আমরা আমাদের যে কোন মৌলিক দাবি রাষ্ট্রের কাছে জানাতেই পারি। সেটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার এখতিয়ার রাষ্ট্রের। তবে এই ইস্যুতে সব পক্ষ যেভাবে আমাদের টার্গেট করেছে তা সত্যি দুঃখজনক।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আনিসুল হক জানান, ২০১২ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় সৈয়দপুরে  ৫০ আসনের একটি মেডিকেল কলেজ ও ২৫০ শয্যার  হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অংশিজনদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় । 

নীলফামারী জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) ড. মো. মুশফিকুর রহমান। সভায় সৈয়দপুরে বিদ্যমান রেলওয়ে হাসপাতালের তিন একর জমির সাথে আরও ৭ এর জমি নিয়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মতবিনিময় সভায় এলাকার শীর্ষ স্হানীয় ব্যবসায়ি, গণ্যমাণ্য ব্যক্তি,  সরকারি ও রেলওয়ের উচ্চ পদস্হ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে ড. মুশফিকুর রহমানকে সাথে নিয়ে প্রকল্পের প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা।

এর পর থেকে মেডিকেল কলেজের প্রস্তাবিত এলাকায়  রেলওয়ে জমিতে অবৈধ দখলদারা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে মিছিল-মিটিং, সমাবেশ ও বিভিন্ন দপ্তরে ভুল তথ্য দিয়ে চিঠি চালাচলি শুরু করে।

তবে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কঠোর অবস্হান ও সাধারণ মানুষের সমালোচনার কারণে বিরোধিতাকারী গ্রুপটি পিছু হটেছে। খুব শিগগিরই সৈয়দপুরে রেলওয়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।