Opu Hasnat

আজ ২০ জুন বৃহস্পতিবার ২০২৪,

‘তিনি ভালোবাসায় বাঁচেন, তিনি ভালোবাসা ছড়াতে চান আজন্ম’ লাইফ স্টাইল

‘তিনি ভালোবাসায় বাঁচেন, তিনি ভালোবাসা ছড়াতে চান আজন্ম’

ফয়সাল হাবিব সানি : এই পৃথিবী বড়ো অদ্ভুত আর অদ্ভুত এই পৃথিবীতে রয়েছেন বিভিন্ন স্বপ্নবাজ মানুষ। কারোর স্বপ্ন থাকে বিখ্যাত হবার, কারোর স্বপ্ন থাকে সুন্দরভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আবার কারোর বা স্বপ্ন থাকে পৃথিবীতে তার মহৎ কোনো কর্ম দিয়ে মানুষের হৃদয়ের অন্দরমহলে মৃত্যুর পরও বসবাস করার। ভারতের অন্তরা ভট্টাচার্য যে মানুষের সেই হৃদয়ের মণিকোঠাতেই থাকবেন তা নির্দ্বিধায় হলফ করেই বলা যেতে পারে। সর্বোপরি, তিনি ভালোবাসা ছড়ান আর মানুষের ভালোবাসা হৃদয়ের নিভৃত কোনো কোণে সঞ্চিত করে বেঁচে থাকেন ভালোবাসায়, আশায় আর প্রদীপ্তজ্জ্বল সুষমামণ্ডিত আলোর গর্ভমূলে। 

চলতি বছর তার জন্মদিনেও কুড়িয়েছেন অজস্র মানুষের ভালোবাসা, সিক্ত হয়েছেন ভালোবাসার ম্যাজিক পারফিউমে! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অগণিত শুভাকাঙ্খীর ভালোবাসায় আপ্লুত ও মোহিত হয়েছেন তিনি। তবে তিনি নিজেকে এতটা বেশি লাইমলাইটে আনতে চান না; উপরন্তু মানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করে সংগোপনেই মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণের অভিপ্রায়ে যেন জীবনব্যাপী করে যেতে চান তার সু-কর্মগুলো, নিতে চান বারবার ভালো কাজের উদ্যোগ। বছরের বিশেষ দিনটিতে (জন্মদিন) প্রতিবারই সমাজের অবহেলিত, অসহায় ও ছিন্নমূল শিশুদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন ‘মানুষ হয়ে মানুষের পাশে' সংগঠনের সদস্য অন্তরা ভট্টাচার্য। বঞ্চিত অনাথ এই শিশুদের মাঝেই যেন জীবনের পরম ও চরম প্রাপ্তি খুঁজে পান তিনি। 

এবারের জন্মদিনেও তার ব্যত্যয় ঘটাননি অন্তরা। এবারও তিনি তার জন্মদিনে সুবিধাবঞ্চিত অনাথ শিশুদের জন্য ছবি আঁকার খাতা, রঙ পেন্সিল, ইরেসার, কেক ও বিস্কুট উপহারস্বরূপ প্রদান করেছেন; তাদের হাসিতে নিজে হেসেছেন, চুপটি করে হয়তোবা খুশিতে হেসেছেন এই ধরিত্রীও। উল্লেখ্য, ‘মানুষ হয়ে মানুষের পাশে' সংগঠনের সঙ্গে অন্তরার সম্পৃক্ততা ২ বছর পেরিয়ে ৩ বছরে উপনীত হয়েছে। অন্তরা ভট্টাচার্য মূলত মানুষকে ভালোবাসার আশ্চর্য শক্তি নিজের মধ্যে ধারণ, লালন ও বহন করতে পেরেছেন বলেই তিনি অনেকের কাছেই আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে মেলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন। 

অন্যদিকে, মরণোত্তর নিজের দু'টি চোখ দান করে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন সমাজের আলোবর্তিকারূপে আবির্ভূত অন্তরা ভট্টাচার্য। প্রতিটা মানুষই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে দেহত্যাগ করবেন। তদ্রুপ, পৃথিবীর অমোঘ অপ্রিয় সত্য নিয়মে অন্তরাও একদিন আর এই স্ন্দুর শাশ্বত পৃথিবীতে থাকবেন না;  তখন তার চোখের আলোয় অন্ধ কেউ পৃথিবীকে অবলোকন করার সুযোগ পাবেন আর আকাশের দিকে তাকিয়ে হয়তোবা অন্তরাকেই সেদিন স্যালুট জানাবেন কেউ একজন। আর সেই মহান কাজেই যে জীবনের সর্বোত্তম প্রশান্তি তার। পৃথিবীতে এসে পৃথিবীর মানুষকে ভালোবেসে পৃথিবীতে আদর্শের চিহ্ন রেখে যাওয়াটাই যে ব্রত অন্তরার। পরিশেষে বলা যেতেই পারে, আজকের এই সমাজেও অন্তরা ভট্টাচার্যরা আছেন বলে পৃথিবীতে মানুষে মানুষে ভালোবাসা আছে, মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য বেঁচে আছে আর মানুষ অন্তরাদের দেখেই ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ ও ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত হয়, হয়েছে এবং হচ্ছে। আর এভাবেই ‘তিনি ভালোবাসায় বাঁচেন, তিনি ভালোবাসা ছড়াতে চান আজন্ম’।