Opu Hasnat

আজ ১৯ জুন বুধবার ২০২৪,

ভারতের গ্ল্যামার অঙ্গনে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত সুমনা দত্ত বিনোদন

ভারতের গ্ল্যামার অঙ্গনে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত সুমনা দত্ত

ফয়সাল হাবিব সানি : শৈশবে স্বপ্ন দেখতেন বড়ো হয়ে ডাক্তার হবেন। কিন্তু বড়ো হয়ে প্রত্নতত্ত্ববিদ হবার ইচ্ছা লালন করতে থাকেন নিজের মধ্যে। তবে গ্ল্যামার অঙ্গনের প্রতি আগ্রহ কাজ করত তার। আর তারই ধারাবাহিকতায়, নানান প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে আজ তিনি ভারতের গ্ল্যামার অঙ্গনের একজন সফল ব্যক্তিত্ব। বলছি, ‘সুমনার মেকওভার আর্টিস্ট্রি (Sumana's Makeover Artistry)’ নামক কলকাতার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী সুমনা দত্তের কথা। 

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্ম সুমনা দত্তের। জীবনের বিভিন্ন চড়াই-উতরাই নিজ চোখে দেখেছেন তিনি এবং সংগ্রাম করেছেন লক্ষ্যের পথে অবিচল থাকার জন্য। আজ তিনি কলকাতার অন্যতম মেকাপ আর্টিস্টদের একজন। হেরে যাওয়া কখনো জীবন হতে পারে না; বরঞ্চ জীবনে নিজের জন্য প্রতিটা মুহূর্ত লক্ষ্যের পথে অটল থাকাটাই মানুষের ব্রত হওয়া শ্রেয়। সুমনা দত্ত যেন তাই-ই করে দেখিয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, তার এখনও বহুদূর পথচলা বাকি। মানুষ আমৃত্যুই স্বপ্নকে লালন করতে থাকে এবং বারবার সেই স্বপ্নকে শক্তি মনে করে সে লক্ষ্যের পথে ধাবিত হতে থাকে। মানুষ যতদিন বেঁচে থাকে, ততদিন-ই যেন সে নতুনভাবে সফল হতে থাকে। এককথায়, মনুষ্য জীবনে সফলতার যেন কোনো শেষ গন্তব্য বা লাস্ট স্টেশন নেই।

প্রসঙ্গত, সুমনা দত্ত বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পিএইচডি করছেন। তার পিএইচডি’র বিষয়বস্তু যাদুঘর সম্পর্কিত বিদ্যা ও প্রত্নতত্ত্ব। তিনি পিএইডি’র জন্য তার গবেষণামূলক তথ্য উপাত্ত জমা দিলেও ডক্টরেট ডিগ্রি এখনও অর্জন করেননি। তিনি মাস্টার্স শেষ করার পর ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে ইন্টার্ন ছিলেন এবং পরবর্তী সময় উপর্যুপরি বিষয়বস্তুর উপর পিএইচডি সম্পন্ন করতে মনোনিবেশ করেন। 

সুমনা দত্ত ইতোমধ্যেই তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন মহলে বহুল প্রশংসিত হয়েছেন এবং তিনি বিভিন্ন তারকার কাছ থেকে ব্যাপক ভালোবাসাও অর্জন করেছেন। শুভশ্রী গাঙ্গুলী, পায়েল সরকার, দেবলীনা নন্দী থেকে শুরু করে জনপ্রিয় তারকারা তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। সফল হতে কার না ভালো লাগে; কিন্তু আমাদের প্রত্যেককেই মনে রাখা উচিৎ, সহজ পথে কখনো সফল হতে না চেয়ে একটা দীর্ঘ পরিকল্পনাই আমাদের সফল করে তুলতে পারে। 

আমাদের নিজেদের কাজের প্রতি প্রবল ভালোবাসা, মনোযোগ, পরিশ্রম, চেষ্টা ও সাধানা আমাদেরকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে একদিন না একদিন ঠিকই অধিষ্ঠিত করবে। যেমনটা ভাবেন সুমনা দত্ত নিজেও। তিনি গ্ল্যামার অঙ্গনে ভীষণ সফল হয়েও মনে করে থাকেন যে, অহংকার বা দাম্ভিকতা কখনো মানুষের প্রতীক হতে পারে না। বিনয়ী মনোভাব ও নিজের প্রতি নিজের প্রবল আত্মবিশ্বাস একজন মানুষকে সফল করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্ববহ অবদান রাখতে পারে। অন্যদিকে, সফল ব্যক্তিরা নিজেদের কখনো সফল মনে করে না; উপরন্তু মানুষ-ই তাদের স্থান নির্ধারণ করে দেয়। ভালো কাজ করলে অবশ্যই মানুষ তার যথার্থ মূল্যায়ন করবে। মানুষ বেঁচে থাকে তার স্বীয় মহিমায়, তার কর্মের ঐজ্জ্বল্যে আর আপন যোগ্যতায়। পৃথিবীতে সফল ব্যক্তিদের জীবন পর্যালোচনা করলে ইতিহাস আমাদেরকে সেই বিষয়েরই জানান দেয় প্রতিবার।