Opu Hasnat

আজ ১৪ জুলাই রবিবার ২০২৪,

বরিশালে যুবলীগের সম্মেলনে

বিশ্বাস ঘাতকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে : বাহাউদ্দিন নাসিম নির্বাচনে বরিশাল

বিশ্বাস ঘাতকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে : বাহাউদ্দিন নাসিম নির্বাচনে

বরিশালে যুবলীগের বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় কেন্দ্রীয় বক্তারা দলের আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, খোকন নেরনিয়াবাতের জনপ্রিয়তার কাছাকাছি বরিশাল মহানগরীতে আর কেউ নেই। তাকে কেন্দ্র করে আমরা ঘরে বাইরে এক ও অভিন্ন রয়েছি। গাজিপুরে আমাদের জনগণ ভোট দিয়েছে। সেখানে আমরা ভোটে হারিনি হেরেছি বেঈমান ও বিশ্বাস ঘাতকদের কাছে। বরিশাল সিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এইসব বিশ্বাস ঘাতকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এদেশে দূর্বৃত্তদের কোন জায়গা নাই। আমরা সম্ভাবনার জাতি। আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যেমনিভাবে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে, তেমনি জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামীলীগকে জয়ী করে শেখ হাসিনাকে চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। 

আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহকে (খোকন সেরনিয়াবাত) বিজয়ী করার লক্ষ্যে যুবলীগের বরিশাল মহানগর ও বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার (৩০ মে) বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন চলমান রয়েছে। এদেশে রাজনীতির পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে। যার একটি উদাহরন বিএনপি- জামায়াত রাজপথে মিছিল মিটিং করে যাচ্ছে। বরিশাল সিটি নির্বাচনে নৌকার নির্বাচনী পরিচালনা কমিটিতে যাদের রাখা হয়নি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, মান অভিমান ভুলে নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করুন। নৌকা ক্ষতিগ্রস্থ হলে আওয়ামীলীগ ক্ষতিগ্রস্থ হবে, ক্ষতিগ্রস্থ হবেন শেখ হাসিনা। ব্যাক্তির সম্মান পরেও ফিরে পাবেন, নৌকার সম্মান পাবেননা। 

বরিশালে কোন রাজনৈতিক মেরুকরন নেই দাবী করে তিনি বলেন, এখানে মেরুকরন একটাই। যাদের মাঝে বিভক্ত করা হচ্ছে তারা কিন্তু একই পরিবারের। রক্ত কখনও আলাদা হয়না এটা সবার মনে রাখতে হবে। বরিশাল সিটি নির্বাচনে ঐক্যের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে যুবলীগ। প্রায় ৬ মাস পরই জাতীয় নির্বাচন। বরিশালের সিটি নির্বাচন তাই খুবই গুরুত্বপূর্ন। এ নির্বাচনে খোকন সেরনিয়াবাতের ব্যাক্তিগত স্বচ্ছ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই তাকে বিজয়ী করবে। 

নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, খোকন সেরনিয়াবাতের সততার কথা জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারলে তিনি হবেন অপ্রতিরোধ্য। তবে এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও তাদেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কেননা তারা আওয়ামীলীগকে হারাতে নানা ষড়যন্ত্র করে যাবে। তাদের ডামি প্রার্থীও থাকবে। তাই সকল নেতা-কর্মীকে সতর্ক থাকার আহবান জানান এই নেতা। যাকে ঘিরে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন সেই আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ বলেন, ৭৫ পরবর্তী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ভুমিকা অবিস্বরনীয় হয়ে থাকবে। পরশের নেতৃত্বে যুবলীগ আরো শক্তিশালী হবে। শেখ হাসিনা সারাদেশে যে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন তা থেকে বরিশালবাসী বঞ্চিত। শেখ হাসিনা সেগুলো পুরন করার জন্য আমাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে বরিশালে পাঠিয়েছেন। নির্বাচিত হলে সেই কাজ গুলো সর্বাত্তকভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো। এ ক্ষেত্রে যুবলীগই পারে সর্বাত্তক সহযোগীতা করতে। 

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার পর ৪০ টা দিন কেটে গেলেও অনেকেরই সহযোগীতা এখনও পাইনি। আমাদের অভিভাবক জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ উপেক্ষা করলে সেটা হবে আত্মঘাতি। অথচ আমি অনেকের কাছ থেকে বিরুদ্ধাচারন পাচ্ছি। আমরা গাজিপুর থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলি। কিন্তু আমরা কোন কিছু থেকেই শিক্ষা নেইনা। তিনি আরো বলেন, মেয়র হতে পারলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনেকে উন্মুক্ত করা হবে। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। যে অঙ্গীকার আমি দিয়েছি তা পালন করবো। আমি মানুষের ভালবাসা পেতে চাই। আমরা গড়বো নতুন বরিশাল। 

যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আফজাল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ গোলাম কবীর রাব্বানী চিনু, বাবু নির্মল চ্যাটার্জী ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু আহমেদ নসিম পাভেল, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, তাজ উদ্দিন আহমেদ ও মোঃ জসিম উদ্দিন মাতুব্বর, যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম, বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশা ও ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোঃ মাজহারুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, সহ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মুক্তা আক্তার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ইসহাক আলী পান্না, বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. এ কে এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, সহ-সভাপতি জাফর ইকবাল, ঢাকা দক্ষিন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান, বরিশাল মহানগর যুবলীগের আহবায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম, যুগ্ম আহবায়ক মাহামুদুল হক খান মামুন ও শাহিন সিকদার, জেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, সাধারন সম্পাদক ফজলুল করিম শাহিন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য অসীম দেওয়ান, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন ও বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মঈন তুষারসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় শতাধীক নেতৃবৃন্দ।