Opu Hasnat

আজ ১০ ডিসেম্বর শনিবার ২০২২,

ব্যাংকে ডলার সংকট, ঠিকমত ঋণপত্র (এলসি) না হওয়া

সৈয়দপুরে প্রতিনিয়ত গরম হচ্ছে গরম মসলার বাজার নীলফামারী

সৈয়দপুরে প্রতিনিয়ত গরম হচ্ছে গরম মসলার বাজার

সাধারণত ঈদ বা উৎসব আয়োজনকে ঘিরে দাম বাড়ে মসলার। কিন্তু এবার ব্যাংকে ডলার ঘাটতির কারণে আমদানি ঠিকমত না হওয়ায় মসলা পণ্যের দাম বেড়েছে। এমনি দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা যাচ্ছে না এমন কারণে এবার সব ধরনের গরম মসলার দাম বেড়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। এক মাসের ব্যবধানে বাজারে জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি ও কিশমিশের দাম এখন অনেকটা বাড়তি, আর ব্যাংকে ডলার সংকটের কারনে এলসি যদি এরুপ কমে যায় বা বন্ধ হয় তাহলে মসলার বাজার আরও গরম হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজিমনে সৈয়দপুর রেলওয়ে বাজার মসলাপট্টি, শহীদ ডা. শামসুল হক ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারী ও খুচরা পর্যায়ে বেশিরভাগ মসলার দাম বাড়তি। গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৬০-১০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিভাগ মসলা। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলার অন্যতম আমদানিকারক সৈয়দপুরের নুর ইসলাম ট্রেডার্স এর মালিক নুর ইসলাম জানান, এলসি এখন খুব কম হচ্ছে ব্যাংকে ডলার সংকটের কারণে। আমি নিজেই জিরা আমদানি করতাম কিন্তু ডলার সংকটের কারনে এখন তেমন করতে পারছি না। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও মসলার দাম বাড়তি রয়েছে তাই বাজারে সব ধরনের গরম মসলার দামই ঊর্ধ্বমুখী।

এক মাস আগে প্রতি কেজি জিরার দাম ছিল ৩৮০-৪০০ টাকা, বর্তমানে তা ৪৮০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০০ টাকার দারুচিনি ৩৪০-৪১০ টাকা। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কিশমিশের। ৩১০ টাকার কিশমিশ ৪৫০-৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও আরও বেশি দামে গরম মসলা বিক্রি হচ্ছে। কারণ, অধিকাংশ ক্রেতা গরম মসলা কেনেন অল্প পরিমাণে।

শহীদ ডা. শামসুল হক সড়ক মসলাপট্টির মসলা বিক্রেতা আব্দুল গনি অ্যান্ড ব্রাদার্স নুরু জানান, মূলত বেশিভাগ চট্টগ্রাম থেকে গরম মসলার এলসি হয়ে থাকে এবং সেখান থেকে হয়ে মসলা আসে সৈয়দপুর। এখন এলসি কম হওয়ার কারণে যদি বন্দরে মসলা না আসে তাহলে মসলার দাম বাড়বেই। গত ১০ দিনের ব্যাবধানে সৈয়দপুরের বাজারেও বেড়েছে বিভিন্ন মসলার দাম। এমনে যদি চলতে থাকে তাহলে সামনে গরম মসলার বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।

ওই বাজারের মুদি দোকানি ইমরান হোসেন বলেন, গরম মসলার দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই কেনা বন্ধ রেখেছেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ গরম মসলা কিনছেন না। আবার যাঁরা কিনছেন, তা পরিমাণে খুবই কম। মানুষের চাল, ডাল, আটা, তেল নিয়েই চিন্তা বেশি।

সৈয়দপুর বাজারের গরম মসলার পাইকারি ব্যবসায়ী এস এম ইশতিয়াক স্টোরের ইশতিয়াক জানান, গত এক মাসের মধ্যে মসলার দরদাম উঠা নামা করছে। সব মসলায় কিছুটা দাম বেড়েছে। ভবিষ্যতে যদি আমদানীকারকরা আমদানী না করতে পারেন তাহলে মসলার বাজারও উর্ধমূখী হবে তাতে সন্দেহ নেই। তিনি আরও বলেন এক মাস আগে তিনি প্রতি কেজি জিরা বিক্রি করেছিলেন ৪০০ টাকা। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায়। একইভাবে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকার ছোট এলাচ এখন ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা এবং বড় এলাচ ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করছেন। একই কথা বলেন একই বাজারের মশলা ভান্ডারের নঈম উদ্দিন।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার তদারকির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে জিরার দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ, দারুচিনি ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং লবঙ্গের ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর দি বণিক সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, শুধুমাত্র সৈয়দপুরে ৩৪টিরও বেশি ব্যাংকের শাখা রয়েছে যেটি নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুরেও নেই। এবং এসব ব্যাংকে এলসির পরিমান কমে গেছে ব্যাংকগুলোতে ডলার সংকটের কারনে। অনেক আমদানিকারক এখন ঠিকমত এলসি খুলতে পারছেন না। অনেক ব্যাংকই এলসি দিতে পারছে না। এ কারনে মসলাসহ আমদানিকারক প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ছে। তবে সরকার তা সমাধানের চেষ্টা করছে। খুব শিগগিরই সংকট কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।