Opu Hasnat

আজ ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০২২,

ব্রেকিং নিউজ

চৌহালীতে ভাঙ্গণ রোধে যমুনা পাড়ে মুসল্লীদের দোয়া ও মোনাজাত সিরাজগঞ্জ

চৌহালীতে ভাঙ্গণ রোধে যমুনা পাড়ে মুসল্লীদের দোয়া ও মোনাজাত

ইসমাইল হোসেন, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর নাকালিয়া গ্রামসহ আশপাশের ৭ গ্রামের মানুষ শুক্রবার চর নাকালিয়া জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে যমুনা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণ রোধে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। গ্রামগুলি হল, চর নাকালিয়া, দেওয়ানগঞ্জ, চর বিনানুই, মেটুয়ানি, চর সলিমাবাদ, ভূতের মোড়, মুরাদপুর প্রমুখ। 

আব্দুল করিম মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন, মাওলানা ক্বারী মোঃ নাসির উদ্দিন। এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চর নাকালিয়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মওলানা মোঃ ময়নুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আব্দুল বাতেন, দুলাল শেখ, আবু সামা প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে চৌহালী উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে ভয়াবহ আকারে যমুনা নদীর ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। এ ভাঙ্গণের তান্ডবে এ সব গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক  বাড়িঘর, ফসলি জমি, তাঁত কারখানা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, কবরস্থান ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে নিঃস্ব হয়ে গেছে প্রায় ২ হাজার মানুষ। 

তারা আরও বলেন, এই ভাঙ্গণ রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেও কোন কাজ হয়নি। তারা এ ভাঙ্গণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ খবর নেয়নি। ফলে তাদের কাছে আর নয়, এ ভাঙ্গণ থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে এ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ দোয়া মোনাজাতে আল্লাহ যেনো আমাদের জান-মাল হেফাজত করেন এই কামনা করা হয়।

এদিকে চর নাকালিয়া ও দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকার ১০টি বাড়িঘর গত ২দিনে যমুনা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ায়। নিঃস্ব এ সব মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এ বিষয়ে ঘোরজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রমজান আলী বলেন, ভাঙ্গনের তান্ডবে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছি। মানুষজন খুবই অসহায় জীবন যাপন করছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার বলেছি। তারা ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশার মধ্যে আছি।

এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা ইয়াসমিন বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিওব্যাগ ফেলার কাজ অব্যাহত আছে। এছাড়া এ ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে এ বছর ৪৫/৪৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। এটি অনুমোদন হলে আর এ সমস্যা থাকবে না। এছাড়া ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। অচিরেই এদের সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।