Opu Hasnat

আজ ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০২২,

ব্রেকিং নিউজ

ইতিহাসের এক অনন্য উদ্ঘাটন শিল্প ও সাহিত্য

ইতিহাসের এক অনন্য উদ্ঘাটন

সৈয়দা রুখসানা জামান শানু : সোহেল মো: ফখরুদ-দীন, শুধু একটি আলোকিত নাম নয়, একটি প্রাণ নয়, একটি ইতিহাস। এ ইতিহাস সমাজের বাতিঘর। অন্যদের থেকে আলাদা এবং অক্লান্ত। এ সাহিত্যজন শুধু প্রায় অর্ধশত গ্রন্থ রচনা করেননি বরং তিনি ইতিহাসের এক অনন্য উদ্ঘাটন, অনবদ্য যোজনা। তাঁর এ উদ্ঘাটনে অনেকের জীবনীতে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে। অনেক সাধারণ মানুষ যাঁরা ইতিহাস জানতে চান, পড়তে চান, ইতিহাস নিয়ে থাকতে চান, তাঁদের জানার আগ্রহ অপরিসীম। তাঁদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছেন। একাধিক সংগঠনের কর্ণধার হয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করলেও বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদগণকেও শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে তাঁদের জীবনী তুলে ধরার প্রায়াসেও লিপ্ত রয়েছেন। এসব গবেষণা করতে অনেক সময় তাঁকে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও যেতে হচ্ছে। 
 
কালের বিবর্তনে স্মরণীয়-বরণীয় কিংবদন্তীগণকে এ প্রজন্ম প্রায় জানেই না বলেলই চলে। কথা সাহিত্যিক, শিশু সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সংগঠক, গবেষক ও বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ এবং ইতিহাসবেত্তা সোহেল মো: ফখরুদ-দীন তাঁর নিরলস গবেষণার মাধ্যমে প্রায়ত সেইসব বরেণ্যদের নিজ সমৃদ্ধ কলমে নতুন করে তরুণপ্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। প্রায় তিন যুগ ধরে নিরলস পরিশ্রমের ফসলে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সূফী-সাধকগণকে নিয়ে প্রকাশ করেছেন প্রায় এক হাজারেরও বেশি প্রবন্ধ-নিবন্ধ। বহুগ্রন্থ প্রণেতা সোহেল তাঁর গ্রন্থ প্রকাশনার পাশাপাশি দেশের প্রাচীন প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, প্রাচীন স্থাপনার আলোকচিত্র নিয়ে দেশে তাঁর ১৭টি একক প্রদর্শনি হয়েছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে অর্থাৎ’ ইরান, কানাডা এবং ভারতেও প্রদর্শিত হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় বরেণ্যদের নিয়ে যেমন তাঁর গবেষণা অব্যহত রয়েছে তেমনি প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজেও নিরলসভাবে নিয়োজিত রয়েছেন। ইতিহাসবেত্তা সোহেল মো: ফখরুদ-দীন চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি এবং বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ইতিহাস মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদের সাধারন সম্পাদক। এই গুণী সংগঠক তরুণপ্রজন্ম নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তেমনি সাহিত্যে অসামান্য অবদান যাঁরা রেখেছেন এবং রেখে চলেছেন তাঁদের সম্মানা প্রদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যহত রেখেছেন। ইতিহাস, ঐতিহ্য রক্ষায় ইতিহাসবেত্তা মো: ফখরুদ-দীনের দীর্ঘ এ সংগ্রামে অনেক তরুণ প্রজন্ম অনূপ্রাণিত হয়ে ইতিহাস নিয়ে চর্চা করছেন এবং সংরক্ষণে এগিয়ে আসছেন। এ আমাদের অহংবোধ। তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখার যে পিপাসা তাঁর দেখেছি, তা থেকে আমি প্রতিনিয়ত আলোড়িত এবং গর্বিত। বরেণ্য এ গুণী মানুষটি জন্মেছেন পীর-আউলিয়া, সুফী সাধকের উর্বর ভূমি চট্টগ্রামে। বলা যায় বাংলা ভাষার আদি কবিগণের তীর্থভূমি অর্থাৎ চর্যাপদের উৎস স্থল। যাঁদের কোল আলোকিত করে এ পৃথিবীর আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছেন তাঁরাও এ সমাজের আলোকিত ব্যক্তিবর্গ। অর্থাৎ মো: ফখরুদ-দীন’র পিতা প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ মাওলানা মোহাম্মদ আলী এবং মাতা শামসুন নাহার আলী। পারিবারিক মূল্যবোধের দীর্ঘ ছায়ায় আশৈশব বেড়ে ওঠা তাঁর।এ মূল্যবোধই তাঁকে সমাজে অসামান্য অবদান রাখতে সাহায্য করেছে।
 
বাংলার সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ও সম্পদশালী নগরী অর্থাৎ বাংলাদেশের বানিজ্যিক রাজধানী পাহাড়, সমুদ্র, উপত্যকা, বন-বনানীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি চট্টগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম তথা শিক্ষাবিদ পরিবারে জন্ম নেয়া আলোকিত এ মানুষ গবেষণাধর্মী কাজ করে যাচ্ছেন বঙ্গদেশে মুসলমান ও পীর আউলিয়া সূফী সাধকের আগমন নিয়ে, চন্দনাইশের ইতিহাস নিয়ে, চট্টগ্রামের জেলা মহানগরের ইতিহাস ও মনীষীগণকে নিয়ে। আরো কাজ করে যাচ্ছেন চট্টগ্রামে মুসলমান আগমনের ইতিহাস নিয়ে। নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রাচীন চট্টগ্রামের কালপঞ্জি ও চট্টগ্রামের সোনার মানুষদের নিয়ে। সম্পাদনা করছেন ইতিহাস বিষয়ক লিটিল ম্যাগ ' কিরাত বাংলা।

চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান, স্বপ্রতিভার উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং সমগ্র বাংলাদেশে ইতিহাস গবেষণায় যিনি লিপ্ত, তিনি আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গনে এ বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। এ আমাদের অহংকার ও গৌরব। ইতিহাসবেত্তা সোহেল মো: ফখরুদ-দীন’র অন্তহীন দীর্ঘায়ু কামনা করি।

লেখক পরিচিতি : আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বহুমাত্রিক লেখক, প্রাবন্ধিক, সমাজ উন্নয়নকর্মী, সম্পাদক, প্রকাশক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও কবি।