Opu Hasnat

আজ ১৩ আগস্ট শনিবার ২০২২,

ব্রেকিং নিউজ

কলেজ অধ্যক্ষ লাঞ্ছিতের ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার, মুল ইন্ধনদাতা বহাল তবিয়তে! নড়াইল

কলেজ অধ্যক্ষ লাঞ্ছিতের ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার, মুল ইন্ধনদাতা বহাল তবিয়তে!

নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ’র ছাত্র রাহুল দেব রায়’র ধর্মীয় উস্কানির ফেসবুক স্ট্যাটাস’র বিষয়কে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছিতের (জুতার মালা দেয়া) ঘটনায় নড়াইল সদর থানার ওসি শওকত কবিরকে খুরনায় ক্লোজড করা হয়েছে। রোববার (৩ জুলাই) নড়াইল জেলা পুলিশ সূত্রে বিষযটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা দেয়ার ব্যাপারে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।  জেলা প্রশাসন কর্তৃক এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার (২ জুলাই) রাতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এ তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। সদস্যরা ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম ছাইয়্যেদুর রহমান ও সদর থানার ওসি শওকত কবির। মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি রোববার (৩ জুলাই) কলেজ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাতকার নেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত দল মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাক্ষাতকার নেন। তদন্ত চলাকালেই সদর থানার ওসি শওকত কবিরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা দেয়ার নেপথ্যের কারিগর হিসেবে বিভিন্ন মহল থেকে ওই কলেজের শিক্ষক আকতার হোসেনের বিরূদ্ধে অভিযোগ উঠে। এমনকি বিভিন্ন মিডিয়ায় শিক্ষক আকতার হোসেনকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় এবং উক্ত ঘটনা সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় আকতার হোসেনকে বিছালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) নড়াইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট অচিন কুমার চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সাক্ষরিত পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

গত ১৮ জুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করা, শিক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম, ৩টি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও পুড়িয়ে দেয়া, পুলিশের কাজে বাঁধা ও পুলিশের উপর আক্রমন করার বিষয় নিয়ে মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ  মুরসালিন বাদি হয়ে সোমবার (২৭ জুন) অজ্ঞাত ১৭০ থেকে ১৮০ জনকে আসামী করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ৪ যুবককে গ্রেফতার করেছে। ২৭ জুন রাতে গ্রেফতারকৃতরা হলেন নড়াইল সদরের বিছালী ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মালেক মুন্সীর ছেলে বখাটে শাওন মুন্সী, মির্জাপুর গ্রামের সৈয়দ মিলন এর ছেলে সৈয়দ রিমন এবং একই গ্রামের মনিরুল শেখ। ২৯ জুন রাতে খুলনা হতে অন্যতম আসামী নড়াইল সদরের বিছালী ইউনিয়নের রুখালি গ্রামের রহমত উল্লাহ বিশ্বাস রনিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। 

এদিকে শিক্ষক আকতার হোসেনকে বিছালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদ হতে অব্যহতি দেয়ায় তিনি শনিবার (২ জুলাই) মির্জাপুর বাজারে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সাংবাদিকদের নিকট দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন  ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কোন দোষ ছিল না। অহেতুক তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন দলীয় পদ হতে অব্যহতি দেয়ার পর আকতার হোসেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পক্ষেই কথা বলছেন। অথচ এ যাবতকাল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সমালোচনা করেছেন। তার সামনেই মাইকে ঘোষনা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জুতার মালা দেয়া হলেও তাকে কখনও উদ্বিগ্ন দেখায়নি। তার মত ভোল পাল্টেছেন এ কলেজের জিবি’র সভাপতি এ্যাডভোকেট অচিন কুমার চক্রবর্তী। তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদ হতে স্বপন কুমার বিশ্বাসের নিকট শিক্ষকদের মাধ্যমে অব্যহতি পত্র চাইলেও এখন বলছেন স্বপন কুমার বিশ্বাস ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’র দ্বায়িত্ব পালন করবেন। ঘটনার দিন অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে জীবনের ঝুকি নিয়ে দ্বায়িত্ব পালন করার পরও প্রত্যাহার হয়েছেন ওসি শওকত কবির। অথচ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় যার দিকে বিভিন্ন মহলের অভিযোগের তীর, তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে। সচেতন মহলের দাবি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার মুল হোতাকে গ্রেফতার করে আইন আমলে নেয়া হোক।