Opu Hasnat

আজ ২৮ জুন মঙ্গলবার ২০২২,

ইতালিকে উড়িয়ে ফাইনালিসিমায় চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলাধুলা

ইতালিকে উড়িয়ে ফাইনালিসিমায় চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

ফাইনালিসিমায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাতে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ফাইনালিসিমায় তথা মহা ফাইনালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে পাত্তাই পেলো না ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি।

লাওতারো মার্টিনেজ ও অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার গোলে প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। বিরতির পর শেষ মুহূর্তে পাওলো দিবালা গোল করে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। যদিও পুরো ম্যাচ জুড়ে লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থরা দুর্দান্ত খেলে আরও বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু সেগুলো থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেননি।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই হাই প্রেসিং ফুটবল খেলতে শুরু করে উভয় দল। অবশ্য বল দখল ও আক্রমণের দিক দিয়ে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। সেটার সুফলও তারা পেয়ে যায় ২৮ মিনিটে। এ সময় বামদিক দিয়ে ইতালির রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে পরাস্ত করে বক্সে ঢুকে মেসি বল বাড়িয়ে দেন লাওতারো মার্টিনেজকে। লাওতারো খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান।

এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১) ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডি মারিয়া। এ সময় পেছন থেকে লাওতারো তাকে বল বাড়িয়ে দেন। লিওনার্দো বোনুচ্চিকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে সেটার নিয়ন্ত্রণ নেন ডি মারিয়া। এরপর ইতালির গোলরক্ষক ইমিলিয়ানো মার্টিনেজের মাথার ওপর দিয়ে ট্যাব করে বল জালে জড়ান। তাতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

বিরতি থেকে ফিরেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ডি মারিয়া। কিন্তু তার নেওয়া শট ধরে ফেলেন গোলরক্ষক মার্টিনেজ। এরপর লিওনেল মেসি একক প্রচেষ্টায় বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানান। কিন্তু জালের নাগাল পাননি।
 
শেষ মুহূর্তে (৯০+৪) আক্রমণে উঠেন মেসি। বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। তাকে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেন ইতালির রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। বল তার কাছ থেকে ইতালির খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে চলে যায় দিবালার কাছে। দিবালা বল পেয়েই দূরের পোস্টে শট নেন। বল জালে জড়ায়। তাতে ৩-০ গোলে ইতালিকে হারিয়ে ফাইনালিসিমায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

ম্যাচের ৫৬ শতাংশ বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার কাছে। তারা আক্রমণ শানিয়েছিল ১৭টি। তার মধ্যে অন টার্গেটে ছিল ৭টি। এর মধ্যে ৩টি গোল হয়। অন্যদিকে ৪৪ শতাংশ বল দখলে রাখা ইতালি আক্রমণ শানিয়েছিল ৭টি। তার মধ্যে অন টার্গেটে ছিল ৩টি। কিন্তু কোনো গোল হয়নি।

এটা ছিল  আর্তেমিও ফ্রাঞ্চি কাপ তথা কাপ অব চ্যাম্পিয়নসের ‍তৃতীয় আসর। ১৯৮৩ সালে প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল উরুগুয়ে। এরপর সবশেষ ১৯৯৩ সালে ফাইনালিসিমায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেবার ডেনমার্কের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর টাইব্রেকারে শিরোপা জিতেছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা। এর ২৯ 
বছর পর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আবার ফাইনালিসিমা জিতলো আলবিসিলেস্তারা।

২০১৯ সালের জুলাই থেকে কোনো ম্যাচ না হারা দলটি এই নিয়ে টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত রইল। নিজেদের ইতিহাসে তাদের আগের রেকর্ড ছিল ৩১ ম্যাচের, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে করেছিল তারা।

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা জয়ীর মধ্যে এমন ম্যাচের আয়োজন আগেও দুবার হয়েছে; ১৯৮৫ সালের প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্স জিতেছিল ২-০ গোলে আর ১৯৯৩ সালে ডেনমার্কের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জয়োল্লাস করেছিল আর্জেন্টিনা।

সেই হিসেবে বলা যায়, ২৭ বছর পর হলেও বিশেষ লড়াইয়ের শিরোপা ধরে রাখল আর্জেন্টিনা। সেই সঙ্গে ইতালির সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়েও সমতা টানল তারা।