Opu Hasnat

আজ ৪ ডিসেম্বর শনিবার ২০২১,

মাগুরায় ৪ জন নিহতের ঘটনায় দুই মামলা, আসামী ১২০ জন মাগুরা

মাগুরায় ৪ জন নিহতের ঘটনায় দুই মামলা, আসামী ১২০ জন

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদের  সম্ভাব্য দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনায়  একে অপরের নামে ১২০ জন কে আসামী করে পৃথক দুটি মামালা করেছে মাগুরা থানায়।  ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় বুধবার দুপুরে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলাটি করেন নিহত ইমরান মোল্লার (২৫) মা ফরিদা খাতুন বাদী হয়ে।

নিহত ইমরান জগদল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের সমর্থক ছিলেন। একই সংঘর্ষে অপর পক্ষের দুই ভাই কবির মোল্লা (৫২), সবুর মোল্লা (৫০) ও তাঁদের চাচাতো ভাই রহমান মোল্লা (৫৬) নিহতের ঘটনায় গত সোমবার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। ওই মামলায় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ ৬৮ জনকে আসামি করা হয়। গত শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জগদল দক্ষিণপাড়ায় সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।

বুধবার বিকেলে মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে নিহত যুবক ইমরানের মা বাদী হয়ে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তবে এ মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, অপর পক্ষের করা মামলায় চার আসামিকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা কারাগারে আছেন।

মাগুরা সদর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমরান নিহতের ঘটনায় তাঁর মায়ের করা মামলায় ৫২ জনকে আসামি করা হয়েছে। যেখানে অপর পক্ষে নিহত মাতবর সবুর মোল্লার বড় ভাই দুদু মোল্লাকে এক নম্বর আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে ইউপি নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া সৈয়দ হাসান ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম ওরফে নুজুর নাম আছে। মামলার আসামিদের বেশির ভাগই নিহত মাতবর সবুর মোল্লার পরিবারের সদস্য ও তাঁদের অনুসারী।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন নিহত ইমরান নিজেদের মাছের ঘেরে খাবার দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে ২০০ গজ পশ্চিমে খালেক মোল্লার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর তাঁর ওপর রাম দা, ছ্যান দাসহ বিভিন্ন রকম দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান আসামিরা। এজাহারে মামলার বাদী দাবি করেছেন, আসামিদের সঙ্গে তাঁদের আগে থেকেই গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর সূত্র ধরেই আসামিরা বাদীর ছেলের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেন।

এদিকে সংঘর্ষের পর থেকেই জগদল গ্রামের একটি অংশ পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। হামলা ও লুটপাটের আশঙ্কায় অনেকেই বাড়ির জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। মঙ্গলবার জগদল এলাকায় গিয়ে থমথমে পরিস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বেশির ভাগ বাড়িতে কেবল নারী সদস্যদের পাওয়া গেছে। অনেক বাড়ি তালাবদ্ধ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জগদল এলাকার পাঁচটি জায়গায় পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। হামলা ও লুটপাটের আতঙ্কে প্রথম দিকে কিছু মানুষ মালামাল সরিয়ে নিলেও পরবর্তী সময়ে কাউকে কিছু নিতে দেয়নি পুলিশ। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।

 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর