Opu Hasnat

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর শনিবার ২০২১,

ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলো মজবুত করে গড়া নীলফামারী

সৈয়দপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলো মজবুত করে গড়া

কোথাও কোন ঘর ভেঙ্গে পড়েনি। সামান্য ফাটলও দেখা যায়নি। বরং এসব ঘরে স্বস্থিতে বসবাস করছেন শ্রীলাল দাস, নার্গিস বেগমের মত ৬০টি পরিবার। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় ২য় পর্যায়ে ওই ঘরগুলো দেওয়া হয়। ১ম পর্যায়ে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের নিজবাড়ি গ্রামে ৩৪টি ঘর দেওয়া হয় যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিলনা তাদের। 

শ্রীলাল দাস (৩০) বলেন, হাসিনা হামার মায়ের কাম কইরছে। বাপ মাও যা করি পায় নাই, প্রধানমন্ত্রী হামাক তাই করি দেখাইছে। জমিসহ একখান বাড়ি গড়ে দেওয়া কম কথা নয় বাহে।  শ্রীলালের নিজের কোন বাড়ি ছিল না। থাকতেন অন্যের জমিতে ছাপড়া তুলে, একই এলাকার নয়াহাটে। দিনমজুরের কাজ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়ে বেজায় খুশি তার পরিবার।

দিনমজুর আব্দুর রহমানের স্ত্রী নার্গিস বেগম বলেন, শুনোছো মাইনসের ঘর ভাঙ্গি পড়েছে, হামার ঘরগুলো এইংকা নোহায়। খুব মজবুত করি বানে দিসে সরকার। উপজেলার ধলাগাছ এলাকায় উঠেছে ৫১টি পৃথক পৃথক বাড়ি। এছাড়াও ৯টি বাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে। এসব বাড়ির বাসিন্দারা বেশ ভালো আছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার এসব বাড়ি নির্মাণ হয় সৈয়দপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদের থাকাকালে। নিজ তদারকিতে তিনি এসব নির্মাণ করেন। বর্তমানে তিনি বদলি হয়ে কক্সবাজার জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসাবে কর্মরত। মুঠোফোনে কথা হয় তার সাথে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ওই বাড়িগুলো উপযুক্তভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরগুলোর নকশায় আরসিসি পিলার ছিল না। আমরা এসব মজবুত করতে সে ব্যবস্থা করেছিলাম। প্রকল্প এলাকায় ভিন্নখাতের অর্থ (এলজিএসপি) অর্থ দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদ। বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের টাকায় ৯টি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫০ ফুট সিসি রাস্তাসহ ৩৫৩ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে কামারপুকুর ইউনিয়নে ৩৪টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সভায় যোগ দিয়ে ওই ঘরগুলো উদ্বোধন করেন। 

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রমিজ আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরগুলো পেয়ে এর বাসিন্দারা অনেক অভিভূত। প্রকল্প এলাকা বেশ দৃষ্টিনন্দন এবং এর ঘরগুলো অনেক মজবুত করে গোড়া। নীলফামারীর জেলা প্রশাসাক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী ওই ঘরগুলো পরিদর্শন করেছেন। এসব দেখভালের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।