Opu Hasnat

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর শনিবার ২০২১,

ব্রেকিং নিউজ

ফরিদপুরে ১৮ বছর ধরে গর্তে শিকলবন্দি মানসিক ভারসাম্যহীন ওসমানকে পাঠানো হলো পাবনায় ফরিদপুর

ফরিদপুরে ১৮ বছর ধরে গর্তে শিকলবন্দি মানসিক ভারসাম্যহীন ওসমানকে পাঠানো হলো পাবনায়

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় আলোবাতাসহীন জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মানসিক ভারসাম্যহীন ওসমান মোল্যা ওরফে রবিউল (২৯) নামের এক যুবক। ওসমান বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের পশ্চিম চরবর্ণী গ্রামের ভ্যানচালক মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি ফেসবুকে ছবি সহ পোষ্ট হলে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় দেশে। এদিকে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে পাবনায় মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য। 

এলাকাবাসি সূত্রে জানাযায়, কোরবানীর ঈদের দিন বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা সুমন রাফি কোরবানির মাংস, চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে দেখতে আসেন ওসমানকে। এসময় তিনি নগদ কিছু টাকাও দেন ওসমানের পরিস্থিতি দেখে। এরপর সুমন রাফি তার ফেসবুকে পোষ্ট দেন ছবিসহ। এই পোষ্টটি দেখার পর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন তাকে দেখতে তার বাড়িতে যায়। ওসমানকে দেখার পর তাদের চোখ কপালে উঠে। তারা জানতে পারেন দীর্ঘ ১৮ বছর ওসমান এই একটি ঘরে শিকলবন্দী অবস্থা দিনপাত করছেন। মাটির ঘরটি তিনি একটি কুয়ার মতো করে হাত দিয়ে কেটে সেই গর্তে তার জীবনযাপন করছেন। গর্তটি হবে প্রায় ২০ ফুটের কাছে।   

এ বিষয়ে ওসমানের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ওসমান আমার বড় ছেলে। ওর বর্তমান বয়স ২৯ বছর। ওর বয়স যখন ৮ থেকে ১০ বছর তখন ওর জ¦র হয়। তারপর থেকে আস্তে আস্তে শরীর শুকিয়ে যায়। স্থানীয় ছাড়াও জেলা সদর থেকে শুরু করে বড় বড় ডাক্তার, কবিরাজ, ফকির, হুজুরের সব ধরনের চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। দিন দিন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ভাঙচুর-পাগলামি করার কারণে মাজায় ও পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি। তিনি বলেন, একদিন আমার সব ছিল। কৃষিজমি, দুইটা মুদি দোকান এখন তা আর নেই, সব শেষ। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমি এখন পথের ফকির। ওসমানসহ আমার তিনটি ছেলে। মেজ ছেলে ইমরান কৃষিকাজ করে, ছোট ছেলে কোরআনে হাফেজ। আমি এখন ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। এদিকে অভাবের সংসারে কেউ খোঁজ নেন না বলেও জানান তিনি। 

প্রতিবেশী আক্কাস বলেন, আমরা ওসমানকে এই অবস্থা দেখে আসছি ১৮ বছর। বর্তমানে যে ঘরে থাকে সেখানে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগেরও বেশি এই ঘরেই পড়ে আছে। মাজায় ও পায়ে শিকল দিয়ে বাঁধা। সারাদিন শুধু হাত দিয়ে মাটি খুঁড়ে। হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না। শরীরে কোনো কাপড়-চোপড় রাখে না।
 
বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনর্চাজ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর জানতে পারি। বিষয়টি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান স্যার ও পুলিশ সুপার মোঃ আলীমুজ্জামান জানতে পেরে দ্রুত আমাদের থানাকে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করি এবং তাকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য ছাড়াও যা যা সুবিধা দেওয়ার সকল সুবিধাই পুলিশের পক্ষ থেকে করা হবে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে একটি মাইক্রোবাস ও ১৫ হাজার টাকা দিয়ে তার পরিবারের সাথে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।   

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝোটন চন্দ্র বলেন, আমরা ওসমানের বিষয়টি জানার সাথে তাকে দ্রুত সুস্থ্য করে তোলার ব্যাপারে কাজ করছি। এছাড়া তার পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করা ছাড়াও খাদ্য সামগ্রী ও জামা কাপড় দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। এখন মঙ্গলবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওসমান যাতে সুস্থ্যভাবে পরিবারে ফিরে আসতে পারে সেই কাজটির উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে সকলে মিলে। আশা করছি সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।