Opu Hasnat

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০২১,

সিংগাইর থানার ওসির হস্তক্ষেপে ছেলেরা ঘরে তুলে নিলেন বৃদ্ধ বাবাকে মানিকগঞ্জ

সিংগাইর থানার ওসির হস্তক্ষেপে ছেলেরা ঘরে তুলে নিলেন বৃদ্ধ বাবাকে

পুত্র সন্তানেরা বাবার সম্পত্তি লিখে নিয়ে কোনো রকম ভরন-পোষন না করে বাড়ি থেকে বের করে দেন আলম মাদবর নামের এক বৃদ্ধ বাবাকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যরা একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা করতে পারেননি। বৃদ্ধ বাবার ঠাঁই হয়নি সন্তানদের ঘরে, মেলেনি ভরন-পোষন। উপায়ন্তরহীন বৃদ্ধ বাবা স্থানীয়দের সহযোগিতায়  সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্ল্যার শরণাপন্ন হন।

উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের খোলাপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী আলম মাদবর (৯০) শুক্রবার (৩০ জুলাই) নিজের ছেলেদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে প্রকাশ, আলম মাদবরের ৬ ছেলে ও ৫ মেয়ে রয়েছে। সব মেয়েদের বিয়ে হলেও ছেলে হাসমত মেম্বার, আবুল হোসেন, বাবুল হোসেন ও রমজান আলী  তার বেশ কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা পয়সা নষ্ট ও ভাগ-বাটোয়ারাসহ বাকী সম্পত্তি লিখে নেন। বঞ্চিত হন দ্বিতীয় বিয়ের দু’ছেলে সুরুজ আলী ও ছোরহাব আলী। এরপর ছেলেদের মধ্যে দ্ব›দ্ব শুরু হলে বাবাকে ভরন-পোষন করতে অস্বীকৃতি জানান। বেশ কিছুদিন যাবত বৃদ্ধ আলম মাদবর অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে থাকেন। পরে থানায় অভিযোগ দিলে ওসি ওই দিনই সন্ধ্যার পর বৃদ্ধের ছেলে ও আত্মীয় স্বজনদের থানায় ডেকে এনে বাবাকে ভরন-পোষনের শর্তে মুচলেকায় সিংগাইর পৌর কাউন্সিলর মো. শামসুল হকের মধ্যস্থতায় সমাধান করে দেন।

স্থানীয় নূর মোহাম্মদ জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার চেষ্টা করেও সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছি। ওসি স্যারের এমন মানবিক হস্তক্ষেপে বৃদ্ধ আলম মাদবর ফিরে পেলেন তার ভরন-পোষনের নিশ্চয়তা । এতে আমরা এলাকাবাসী খুশি হয়েছি।

আলম মাদবরের মেঝো ছেলে আবুল হোসেন বলেন, বাবার বেশ কিছু সম্পত্তি বড় ভাই আদম ব্যবসা করতে গিয়ে নষ্ট করেছেন। যার কারণে বাবার ভরন-পোষন নিয়ে ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমাদের ভাইদের মধ্যে বাবার ভরন-পোষনের জন্য ১ মাস করে সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্ল্যা বলেন, বৃদ্ধকে ভরন-পোষনের শর্তে তার ছেলেদের কাছে বুঝিয়ে দেয়ো হয়েছে। এর কোনো প্রকার ব্যতয় ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।