Opu Hasnat

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর শনিবার ২০২১,

ব্রেকিং নিউজ

‘কঠোর বিধি-নিষেধ’ লকডাউনে প্রশাসনের মাইকিং, জরিমানা আদায়

খাগড়াছড়ি করোনার হটস্পটে পরিণত হচ্ছে খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ি করোনার হটস্পটে পরিণত হচ্ছে

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। করোনার লক্ষণ থাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে নমুনা দেয়ার সংখ্যা। তবে যে হারে নমুনা দেয়া হচ্ছে বা শনাক্ত বাড়ছে সে হারে রোগী নেই হাসপাতালগুলোতে। এতে করে সংক্রমণের হার বাড়ছে বলে মনে করছে নাগরিক সমাজ। তাতে করোনার হটস্পটে পরিণত হচ্ছে, ‘কঠোর বিধি-নিষেধ’ লকডাউনে প্রশাসনের মাইকিং, জরিমানা আদায় প্রত্যকদিন করা হচ্ছে। গত রোববার নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৫৭জন। জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৬জন। জেলায় দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে।

খাগড়াছড়ি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, গত ২২ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত ৭ দিনে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৪৫২জনের। যার মধ্যে ৭৬জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। আর এ সময়ে ২৩জুন ৯৭টি নমুনা সংগ্রহ হলেও সেদিন হাসপাতালের আইসোলেশনে ছিল ২২জন রোগী, ২৫জুন ১০৩টি নমুনা সংগ্রহের বিপরীতে ছিল ১৭জন এবং ২৭জুন ১৭১টি নমুনার বিপরীতে ২০জন। করোনার লক্ষণে নমুনা সংগ্রহ হলেও সন্দেহভাজন রোগীদের কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনের ব্যবস্থা জোরদার নেই।

সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক খাগড়াছড়ির স্বাস্থ্য সেবার আহ্বায়ক মো: জহুরুল আলম বলেন, যারা করোনার লক্ষণ নিয়ে নমুনা দিচ্ছেন তাদের অন্তত: ফলাফল না আসা পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগতভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকা প্রয়োজন। প্রশাসনের নজরদারি পাশাপাশি সচেতনতার অংশ হিসেবে যার যার অবস্থান থেকে এ বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার। পাশের দেশ ভারতের মতো করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যেতে পারে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত চলছে। যারা বিধি নিষেধ মানছে না তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা: নুপুর কান্তি দাশ বলেন, সারাদেশে করোনার কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা মানা হচ্ছে না। যারা করোনার লক্ষণ নিয়ে নমুনা দিচ্ছেন তাদের মধ্যে যাদের চিকিৎসা দরকার তাদের আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিধি ও সচেতনতার কোন বিকল্প নাই।

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ আরো জানান, জেলায় গত ২৪ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে ও র‌্যাপিড এবং আরটি-পিসিআর টেস্টে ৩৯জনের নমুনায় ২৪জনের পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে ২৮দশমিক ৬৩শতাংশে দাঁড়িয়েছে করোনা শনাক্তের হার।

গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) খাগড়াছড়িতে প্রাপ্ত ফলাফলের ২৪জনের নমুনায় মিলেছে করোনা পজেটিভ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ১হাজার ৯শত ২৭জনে। চলতি মাসে মোট টেস্ট ২৬৩৯জন, মোট পজিটিভ ৭৬৭জন। শনাক্তের হার ২৮.৬৩%। মোট টেস্ট ১০৬০৯ জন, মোট পজিটিভ ১৯২৭জন, শনাক্তের হার ১৮.১৬%। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৫০জন। তার মধ্য পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ২৭জন, সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ২৩জন।

এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে খাগড়াছড়িতে শুক্রবার (২৩ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে চলমান রয়েছে দুই সপ্তাহের ‘কঠোর বিধি-নিষেধ’। জেলাতে প্রথম দিন কঠোর অবস্থানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল রয়েছে।

জেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচলকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি ও আইন অমান্যকারীদের জরিমানা করছে।

এতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যে দিয়ে লকডাউন চলছে। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করছে না। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশাসনের মাইকিং চলছে। বিনা কারণে কেউ বের হলে জবাবদিহিতা করতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। আদায় করা হচ্ছে জরিমানাও।

তবে  শহরতলির চায়ের দোকানগুলোতে লোকজন অবাধে আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া করছে। এসব দোকান গুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ।

 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর