Opu Hasnat

আজ ২৭ জুলাই মঙ্গলবার ২০২১,

সিংগাইরে পেঁপে চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে কৃষি সংবাদমানিকগঞ্জ

সিংগাইরে পেঁপে চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

অধিক পুষ্টিমানের সবজি ও মিষ্টি সুস্বাদু ফল হওয়ায় প্রতিটি এলাকাতেই দিনদিন কৃষকদের পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে। অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার প্রতিটি এলাকাতেই এখন দিগন্ত জুড়ে পেঁপে গাছের সবুজ সমারোহ ।  এ এলাকার উৎপাদিত পেঁপে জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। সবজির চাহিদা  মেটানোর পাশপাশি পেঁপে চাষ করে অনেক পরিবার হচ্ছেন স্বাবলম্বী। 

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ক্ষেতের পেঁপে গাছে থোকা থোকা পেঁপে শোভা পাচ্ছে। চাষিরা গাছ থেকে পেঁপে তুলে নিয়ে বাজারজাত করছেন।  উপজেলার চর নয়াডাঙ্গী গ্রামের মো. জয়নুল আবেদীন ও আজিমপুর গ্রামের মোনায়েম আহম্মেদ বিপ্লব বলেন, এ বছর একেকজন  ৮ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। এতে কীটনাশক, শ্রমিকের মুজরীসহ মোট খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকার উপরে। প্রথম তোলাতে দেড় লাখ টাকার মতো পেঁপে বিক্রি হয়েছে।  এভাবে ফলন থাকলে ও বাজারে দাম ভালো পাওয়া গেলে খরচ বাদে একেকজনের ৮-১০ লাখ টাকা করে লাভ হবে।  আরেক পেঁপে চাষী মেদুলিয়া গ্রামের ফজল হক জানান, তার ৬ বিঘা জমিতে এ পর্যন্ত এক লাখ টাকার উপরে পেঁপে বিক্রি হয়েছে। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পেঁপে বিক্রি করে গেল বছরের বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

পেঁপের জাত সম্পর্কে কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, তিনি হাইব্রিড জাতীয় ‘রেডলেডি’ পেঁপে বেশি লাগিয়েছেন। এটি আকারে গোল হয়। এছাড়া আকারে বড় এবং সুস্বাদু জাতের শাহী ইন্ডিয়ান পেঁপে তার জমিতে রয়েছে। 

তিনি জানান, তিন বিঘা জমিতে পেঁপের আবাদ করেছেন। সাথী ফসল হিসেবে অন্যান্য সবজি জাতীয় ফসলও ছিল। জমি তৈরি, পেঁপের চারা, শ্রমিকের মুজরীসহ  ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। সবমিলে ৩ লাখ টাকা লাভ হবে বলেও তিনি জানান। একাধিক চাষির সাথে কথা বলে জানা যায়, পেঁপে পরিপক্ক হলে গাছ থেকে তোলার পর ক্ষেত থেকেই গাড়ীতে করে পাইকারেরা কিনে নিয়ে যায়। 

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবদি টিপু সুলতান সপন বলেন, এ মওসুমে সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৯৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে এবার আবাদের পরিমাণ দ্বিগুণ। এ বছর ৩১ হাজার ৬০০মেট্রিক টন পেঁপে উৎপাদন হবে বলে সম্ভাবনা রয়েছে। 

তিনি আরো জানান, মানিকগঞ্জ জেলার মধ্যে সিংগাইর উপজেলা তুলনামূলকভাবে উঁচু এলাকা। উঁচু জমি পেঁপে চাষের জন্য বেশি উপযোগী। কারণ, জমিতে পানি জমে গেলে পেঁপে গাছ মরে যায়। এ অঞ্চলে স্বাভাবিক বর্ষায় জমিতে পানি উঠে না। নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চাষীদের সার্বিক সহযোগিতা করায় চাষিদের পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।