Opu Hasnat

আজ ২৭ জুলাই মঙ্গলবার ২০২১,

হত্যার ৯ দিন পর খন্ডিত লাশ উদ্ধার, খুনি গ্রেফতার মাগুরা

হত্যার ৯ দিন পর খন্ডিত লাশ উদ্ধার, খুনি গ্রেফতার

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার কালুকান্দি গ্রামে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার আজিজুর রহমান (৩০) এর বিছিন্ন মাথা ও একটি পা ৯ দিন পর সোমবার রাত ৮টার দিকে মাগুরা সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের ঘোড়ানাছ গ্রামের কালভার্টের নিচ থেকে পা ও পাট ক্ষেত থেকে খন্ডিত মাথা উদ্ধার করেছে ব্যার-৬ ।

সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬ এর একটি চৌকস দল যশোরের শার্শা থেকে আজিজুর হত্যার মূল হত্যাকারী আশরাফ আলী বিশ্বাস (৩২) কে  গ্রেফতার করে। আটকের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উক্ত স্থান থেকে আজিজুরের মাথা ও পা উদ্ধার করা হয় এবং সে র‌্যাবের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

র‌্যাব খুলনার অধিনায়ক লে.কর্ণেল রওশনুল ফিরোজ জানান, আশরাফ সদর উপজেলার মালিকগ্রামের আহম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। মাগুরা শহরের বেলতলায় তার হোমিও প্যাথির ব্যবসা আছে। মাল্টি লেভেল মার্কেটিং-এমএলএম  ব্যবসার সূত্রেই আজিজুরের সাথে তার সম্পর্ক ছিল। আশরাফ আজিজুরের নিকট ৩ হাজার টাকার ইনসেন্টিভ পেত কিন্তু আজিজুর তাকে ৫ শত টাকা দিতে চাওয়ায় দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ দ্বন্দ্বের জের ধরেই ৫ জুন খুনি আশরাফ আলী আজিজুরকে নিজ হোমিও দোকানে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মস্তিস্কে হত্যা করে। হত্যার পর দেহ থেকে মাথা ও পা খন্ডিত করে ঘোড়ানাছ গ্রামের কালভার্টের নিচে পা ও পাট ক্ষেতে খন্ডিত মাথা লুকিয়ে রাখে। আর মূল দেহসহ একটি পা বস্তাবন্দি করে আজিজুরের মামা বাড়ির সন্নিকটে কালুকান্দি গ্রামের একটি পুকুরে ফেলে রেখে আত্মগোপন করে।

উল্লেখ্য, পরে ৬ জুন সকালে কালুকান্দি গ্রামের মতিয়ার মোল্যার পুকুরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত বস্তা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বস্তা ভর্তি মাথা ও একটি পা বিহীন লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন । এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান ওইদিনই মহম্মদপুর থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও র‌্যাব এ হত্যাকান্ডে অভিযান শুরু করেন এবং হত্যার মূল খুনি আটকের পর সকল রহস্য উন্মোচিত হয়। ধৃত আশরাফ আলী বিশ্বাস কে আজ মাগুরা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর