Opu Hasnat

আজ ১৫ মে শনিবার ২০২১,

ব্রেকিং নিউজ

অনলাইনে প্রকাশিত নিউজ নিয়ে বিপুল ঘোষের প্রতিবাদ ফরিদপুর

অনলাইনে প্রকাশিত নিউজ নিয়ে বিপুল ঘোষের প্রতিবাদ

কয়েকটি অনলাইন নিউজে প্রকাশিত নিউজ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা বিপুল ঘোষ। তিনি বলেন  আমি বিপুল ঘোষ, গত শনিবার (১লা মে) একটা ফেসবুক পেজে দুইটা অনলাইন পত্রিকায় দুইটা নিউজ দেখতে পাই। 

এমন অনলাইন এর নাম এর আগে শুনি নাই। অখ্যাত এসব অনলাইন এর নিউজ দিয়ে আমাদের মতো তাগী নেতাদের নামে মিথ্যা ও অসত্য লিখে কিছু সুবিধা বাজ শ্রেনির মন খুশি করা ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি বলেন এই অনলাইন নিউজ নিয়ে এমনটাই মনে হয়েছে। যাতে আমার নাম ব্যবহার করা হলেও আমার বক্তব্য নেয়া হয়নি। 

তিনি বলেন, ফরিদপুরের চলমান রাজনীতি নিয়ে দলাদলি বা গ্রুপিং নিয়ে কিছু কথা আলোচনা করা হয়েছে এই অনলাইন নিউজে। আমি দেখতে পেলাম নাম উল্লেখ করে ফরিদপুরের একাধিক গ্রুপ তার মধ্যে আমারও একটা গ্রুপ আছে এইটা বলেছে। তার পরিপেক্ষিতে আমি বলছি আমি ১৯৭৩ সালে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। পরবর্তীতে আমি ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ছিলাম এবং বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলাম। পরবর্তীতে আমি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। 

১৯৯২ সালে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত আমি নিষ্ঠার সাথে ১৩ বছর উক্ত দায়িত্ব পালন করি।
 
২০০৫ সালে আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য করা হয়। আমি ২০১২ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সদস্য পদে বহাল ছিলাম। আমার বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সময় আমি ১৭ বার জেল খেটেছি। উল্লেখ্য, এর ভিতর ফরিদপুর কারাগারে থাকার সময় আজকের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা ওবায়দুল কাদের এবং আমি একই বিছানায় ঘুমাতাম। এরপর যশোর সামরিক আদালতে আমার বিরুদ্ধে তথকালীন সামরিক সরকার ফরিদপুর জজ কোর্টের মামলা যশোরের ৬ নং সামরিক আদালতে পাঠায়। 

যশোরে ৬ নং সামরিক আদালতে প্রেরন করার পর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আমি ৩৬ মাস ছিলাম। সেই সময় সেখানে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্ণেল ফারুক আমার পার্শ্ববর্তী সেলে ছিলো।  সামরিক আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাই। এছাড়াও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় অসংখ্য বার জেলে গেছিলাম।  বিভিন্ন সময় মিলে মোট ৭ বছর জেল জীবনযাপন করি।

গতকাল যিনি এই রিপোর্ট করেছেন তিনি এই গ্রুপ গুলো ভাগ করেছেন তাকে এবং আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল নেতা কর্মীকে জানানোর উদ্দেশ্য বলছি যে, আমি এইসব কোনো গ্রুপের লোক না। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনা'র লোক। আমি আওয়ামী লীগের লোক। মাননীয় নেত্রীর যখন কোনো কঠিন নির্দেশই হোক সেই গুলো বাস্তবায়ন বাংলাদেশের নূন্যতম যারা করতে পারে নাই সেইগুলো আমি তার নির্দেশে করেছি।  

অনলাইন পত্রিকায় যা বুঝানো হয়েছে এর পরিপেক্ষিতে বলছি আমাদের ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আলীমুজ্জামান আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে তার অফিসে সন্ধ্যাকালীন সময়ে দাওয়াত করেছিলেন এবং আমি সহ ১০ জন নেতার সাথে একান্তে কথা বলেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. সুবল চন্দ্র সাহা,  এ কে আজাদ, শামিম হক, শামসুল হক (ভোলা মাস্টার), যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ফারুক হোসেন, ঝর্ণা হাসান তারা সবাই এসপি সাহেব এর সামনে বলেছিলেন আমাদের মধ্যে সামান্য যে ভূল বুঝা বুঝি আছে আমাদের মুরব্বি বিপুল দা। বিপুল দা আমাদের কে যেভাবে নির্দেশ করবে আমরা সবাই সেগুলো মেনে চলবো। 

আর খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পতনের পূর্ব পর্যন্ত ফরিদপুরে দুইটা গ্রুপ ছিলো। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন আর আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দিতাম আমি বিপুল ঘোষ। খন্দকার মোশাররফের গ্রুপে বিএনপি-জামাতের লোকদের এনে ব্যাবসায় বানিজ্য দেওয়া হয়েছে সেখানে যারা আওয়ামী লীগের নির্যাতিত কর্মী ছিলো তারা নিয়মিত আমার সাথে যোগাযোগ করতো। আমি নেতৃত্ব দিতাম গ্রাম গ্রঞ্জের না খাওয়া অগনিত নেতা কর্মী ও আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের নেতা কর্মীদের। আমি তাদের পাশে সবসময় ছিলাম। মানুষ তখন মনে করতো এখানে দুইটা গ্রুপ। একটা বিপুল ঘোষের, আর একটা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের। 

খন্দকার মোশাররফের পতনের পর আমার কোনো গ্রুপ নেই। আমি বঙ্গবন্ধুর গ্রুপ, আমি শেখ হাসিনার গ্রুপ। মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা যেটা করবেন সেই দলেই আমি। অতীতে অসংখ্য প্রমান আছে মাননীয় নেত্রী যখনই কোনো বিপদজনক কাজের জন্য বলতেন আমি এবং ফারুক হোসেন যত বিপদ ও বাঁধা বিপত্তি থাক আমরা সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো পালন করার চেষ্টা করেছি বা করতে সক্ষম হয়েছি। আমার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্ণেল ফারুক ফরিদপুরে সভা করতে এলে আমার নেতৃত্বেই তাকে প্রতিহত করা হয়েছে। যা বিবিসি ভয়েস আমেরিকা সহ বাংলাদেশের সকল পত্র পত্রিকায় ফলাও করে নিউজ করা হয়েছিলো। 

সুতরাং আপনারা আমাকে নিয়ে যে বিভ্রান্তি মূলক তথ্য পরিবেশন করেছেন এইটা থেকে বিরত হন এবং এই ধরনের কর্মকান্ড আর করবেন না। কারও সমন্ধে লিখতে হলে তার সাথে কথা বলে লেখা উচিত, যা নেয়া হয়নি। 

উল্লেখ্য,  ফরিদপুরের একটি অফিসে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. সুবল চন্দ্র সাহা, এ কে আজাদ, শামিম হক, শামসুল হক (ভোলা মাস্টার), ঝর্ণা হাসান ছিলেন। অনলাইন পত্রিকায় তাদের এবং আমার নামে গ্রুপ লিখে যে নিউজ করা হয়েছে তারা সবাই সেইদিন ওইখানে যে ফরিদপুরে চলমান রাজনীতির ফরিদপুর আওয়ামী লীগের সব থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ্য ব্যক্তি বিপুল ঘোষ, তিনি যা বলবেন আমরা সবাই সেটা মেনে চলবো, সেই দিন এই ওয়াদা তারা করেছিলেন।  

কিন্তু দেখা গেছে দুইদিনের মধ্যে শামসুল হক (ভোলা মাস্টার) রেড ক্রিসেন্টের কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কে আজাদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড.  সুবল চন্দ্র সাহা কে প্রকাশ্যে অনেক কথা বলেন। এ কে আজাদের পারিবারিক জীবনের উপরও আঘাত করা হয়। এ কে আজাদ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। শামসুল হক (ভোলা মাস্টার) জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হয়ে এই ধরনের মন্তব্য করা তার উচিত ছিলো না এবং এর ফলশ্রুতিতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভায় শামসুল হক (ভোলা মাস্টার) এর কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ৭ দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয় একটা নোটিশ দিয়ে, যা কেন্দ্রে যথারীতি প্রেরন করা হয়েছে । 

আওয়ামী লীগের নামে বিগত দশ বছর ফরিদপুরে যে স্বৈরশাসন চালানো হয়েছে, কিছু লোক দ্বারা যে লুন্ঠন-বানিজ্য করা হয়েছে আমি সব সময় এই অপকর্মের প্রতিবাদী ছিলাম এবং মার্কেট ভেঙ্গে পুনরায় নির্মান করে বিভিন্ন লোককে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে টাকার বিনিময়ে। সেখানে আমাকে দোকান সাধার পরও আমি এই ধরনের ভাগ গ্রহন করতে রাজি হয়নি। সুতরাং আমাকে কোনো গ্রুপের মধ্যে বা আমার একটা গ্রুপ আছে এটা ঠিক না। আমার কাছে  এ কে আজাদ, শামিম হক, ভোলা মাষ্টার সহ সবাই আসে। সুতরাং আমাকে কোনো গ্রুপে চিহ্নিত করা ঠিক না। আমি রিপোর্টার এর উদ্দেশ্য বলছি  এই ধরনের মন্তব্য করার আগে যার সম্পর্কে লিখবেন তার সাথে কথা বলাটা জরুরী। কিন্তু আপনি সেটা করেননি সেটা কোন আইনের মধ্যে পরে।  

পরিশেষে বলতে চাই আমি জননেত্রী শেখ হাসিনা'র গ্রুপ করি। আমি আওয়ামী লীগের গ্রুপ করি। মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা যদি মনে করেন আমার দ্বারা দলের এই কর্মকান্ড পরিচালনা করা সম্ভব তাহলে মাননীয় নেত্রী যেখানে আমাকে রাখতে চাইবেন আমি সেখানেই থাকবো। আর এাটও বলি, মাননীয় নেত্রী যদি আমাকে সেভাবে রাখতে না চান তবুও আমি আওয়ামী লীগ ছেড়ে অন্য কোনো দলে যাবো না। 

একই সাথে আপনাকে অনুরোধ করবো কারো কাছ থেকে সুবিধা গ্রহন করে এহেন মিথ্যা নিউজ সাজাঁবেন না। যাতে দেশ ও মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছায়।