Opu Hasnat

আজ ১৩ মে বৃহস্পতিবার ২০২১,

সালথার সহিংসতায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল ফরিদপুর

সালথার সহিংসতায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল

সালথায় গত ৫ এপ্রিল রাতে সহিংসতার ঘটনা গঠিত জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির তদন্ত শেষে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রটের নিকট প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয় ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করার লক্ষ্যে। অপর কমিটি ঘটনা সংশ্লষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই রাতের হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে গঠিত কমিটির প্রধান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম আলী মোল্যার নেৃতত্বে গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের নিকট একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এই কমিটিতে অন্যা আরো ছিলেন গণপূর্ত বিভাগের একজন উপ সহকারী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। ওই রাতের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করতে ছয় সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়সহ তাদের দুটি সরকারী গাড়ি ও বাসভবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তারা নির্ণয় করেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সবমিলিয়ে ওই ঘটনায় প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেদিনের হামলায় যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসি ল্যান্ডের সরকারী যেই দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয় তার পরিমাণই প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এছাড়া আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, চেয়ার টেবিল, দরজা জানালা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্রকল্প কর্মকর্তার গুদামে রাখা খাদ্য সামগ্রীর হিসাবও এতে এসেছে। 

উপজেলা কৃষি অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলায় তাদের প্রায় ৪ লাখ ২৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা দামের একটি মোটর সাইকেল। এছাড়া থাই গ্লাস রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার। এভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অন্যান্য দপ্তরেরও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হয়েছে আলাদা আলাদাভাবে।

এদিকে, এই সহিংসতার কারণ, বিস্তার ও ঘটনার পুঙঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরতে জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলীমা আলীকে প্রধান করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অতুল সরকারের নিকট এই কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ৯ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি প্রধান। 

জানা গেছে, ওই কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। তবে তদন্ত কি পেলেন এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তদন্ত কমিটি প্রধান তাসলীমা আলী।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার তদন্ত প্রতিবেদন দুৃপি হস্তগত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ ওই রাতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৮০ জনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে ৫৪ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ৪৮ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলার এসি ল্যান্ড মারুফা সুলতানা খান হিরামনি লকডাউন অভিযানে সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে যান পরিদর্শনে। এসময় লকডাউন না মানাকে কেন্দ্র করে সাধারন মানুষের সাথে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে পুলিশ এলে তাদেরও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। এরপর তারা বিভিন্ন গুজব রটিয়ে উপজেলা ঘেরাও করে গভীর রাতপর্যন্ত পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়, ভূমি অফিস ও দুটি সরকারী গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সরকারী বাসভবন ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স অফিসে ভাংচুর করা হয়।

এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামী করা হয়েছে ৩ হতে চার জনকে। এর মধ্যে প্রায় ২৬১ ব্যক্তির নামোল্লেখ করা হয়েছে।