Opu Hasnat

আজ ১৩ মে বৃহস্পতিবার ২০২১,

সিংগাইরে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু, ভাইয়ের অভিযোগ হত্যা মানিকগঞ্জ

সিংগাইরে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু, ভাইয়ের অভিযোগ হত্যা

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা গ্রামে রবিউল বাশার (৫৫) নামে এক গৃহকর্তার লাশ রোববার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত রবিউল ২ সন্তানের জনক ও মৃত রুস্তম খন্দকারের পুত্র। তার পৈত্রিক বাড়ি জেলার শিবালয় উপজেলার রুপসা গ্রামে। নিহতের বড় ভাইয়ের অভিযোগ তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। 

এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রবিউল গত ২০-২২ বছর যাবত শ্বশুর বাড়ির পাশেই জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস করে আসছিলেন। তিনি প্লাষ্টিকের বেড়ার ব্যবসা করতেন। গত ২ বছর আগে তার স্ত্রী আবেদা সুলতানা কর্ম সংস্থানের জন্য দুবাই চলে যান। পরবর্তীতে ছেলে রনিকেও  বিদেশে নিয়ে যান। একমাত্র মেয়ে মিথিলা পাশেই নানা ফজল হক মন্ডলের বাড়িতে থাকতো। মেয়েই তাকে রান্না করে নিয়মিত খাবার পৌঁছে দিত। রোববার সকাল ১০ টার দিকে মিথিলা বাবার খোঁজ নিতে গেলে ঘরের ভেতর তার মরদেহ দেখতে পায়। পরে তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। 

নিহতের বড় ভাই আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, অনেক দিন ধরে স্ত্রীর সাথে টাকা পয়সা নিয়ে তার ভাইয়ের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ নিয়ে বছর খানেক আগে থানায় জিডিও করা হয়েছিল। সন্দেহ তারাই আমার ভাইকে খাবারের সাথে কিছু মিশিয়ে খাইয়ে মেরে ফেলেছে। 

রবিউলের শ্বশুর ফজল হক মন্ডল বলেন, আমি নিজেই মেয়ের জামাইকে আমার বাড়ির পাশে ৫ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করে দিয়েছি। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে তিনি জানান। 

লাশের সুরতহালকারী কর্মকর্তা এসআই বখতিয়ার বলেন, নিহতের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ২/৩ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। 

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম নিহত রবিউলের পারিবারিক দ্বন্দ্বে ইতিপূর্বে থানায় অভিযোগ দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, উদ্ধারকৃত লাশের পচন ধরা শুরু হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া কিছুই বলা যাচ্ছে না। 

এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাফিজুর রহমান, সহকারি পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) মোঃ রেজাউল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের শ্বশুর ফজল হক মন্ডল ও তার স্ত্রী,  মেয়ে মিথিলা এবং শ্যালক ইউনুছ কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর