দেশে দারিদ্র্য কমাতে হলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে অর্থ-বাণিজ্য / 
পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল বলেছেন দেশে দারিদ্র্য কমাতে হলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে । পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্যের সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধি জড়িত। এ কারণে দারিদ্র্য কমাতে হলে আমাদের জিপিডির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে হবে।’
রোববার দুপুরে ব্র্যাক আয়োজিত ‘সামাজিক সুরক্ষা ও দারিদ্র নিরসন’ সংক্রান্ত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
দারিদ্র্যসীমার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমানে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। ২০০০ সালে এর সংখ্যা ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে বর্তমান দেশে অতিদারিদ্র্যের সংখ্যা ১২ শতাংশ। যা ২০০০ সালে ছিল ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যে প্রকল্পগুলো হাতে নিচ্ছি, এগুলোর এক-তৃতীয়াংশ হাওর, বাওর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য। আশা করি, এ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হলে দারিদ্র্যতা কমে আসবে।’
‘২০৩০ সালে দেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত’ এই আশাবাদ ব্যক্ত করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি আশা করছি, ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত করব। দেশে এখন যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গ্রোথ, এটা আমাদের সম্ভব। যদি কোনো ধরনের সমস্যা না থাকে তাহলে এর আগেই দেশকে দরিদ্র্যমুক্ত করবো।’
এ সময় মন্ত্রী দেশের ধনী সম্প্রদায়কে ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সবার সাধ্যমত গরীব-দুঃখীদের সহায়তা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের পক্ষে দারিদ্র্য নিরসন সম্পর্কিত একটি মডেল উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনোমিক অ্যান্ড সোস্যাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান সায়ীদ মেসবাহ উদ্দিন হাসমি।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রচেষ্টায় অনেক উন্নতি সাধন হয়েছে। কিন্তু এখন প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি বড় অংশ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণী মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫৬ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ে যায়।’
দরিদ্রতার কারণে শিক্ষার্থীরা ঝড়ে পরে বলে মন্তব্য করে সায়ীদ মেসবাহ উদ্দিন হাসমি বলেন, ‘প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হার বৃদ্ধি পেলেও ঝড়ে পড়ার হারও না। ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের। এর কারণ হলো শিক্ষার ব্যয়ভার বহনে অক্ষমতা, শিশুশ্রম, পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অসচেতনতা। এজেন্য সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে সেই সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
দেশে অতিদরিদ্রতা হ্রাস করতে তাদের জন্য যে প্রকল্পগুলো হাতে নেয়া হয়, এর মধ্যে প্রাণীসম্পদ প্রদান করা ভালো উদ্যোগ। এ কারণে টেকসই উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সেবাগুলো আরও অতিদরিদ্রবান্ধব করা যেতে পারে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।
ব্র্যাকের উপদেষ্টা ড. আহমেদ মোস্তাক রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল- ইসলাম, ডেপুটি চিফ মনিরুল ইসলাম, ব্র্যাকের স্ট্রাটেজি কমিউনিকেসন অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট বিভাগের সিনিয়র পরিচালক আসিফ সালেহ প্রমুখ।

সব খবর
সর্বাধিক পঠিত