​রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে লাইসেন্সবিহীন একটি অবৈধ মশার কয়েল কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি কারখানাটি সীলগালা ও বিপুল পরিমাণ মানহীন কয়েল এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক মালামাল ধ্বংস করা হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন রায়েরবাগ এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

​বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহবুবুল ইসলাম এর নেতৃত্বে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সার্বিক সহায়তায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রসিকিউটিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআইয়ের ফিল্ড অফিসার (সিএম) মোঃ আশিকুজ্জামান এবং পরীক্ষক (মেট্রোলজি, রসায়ন) আবু সাকিব তানভীর।

​বিএসটিআই সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রায়েরবাগের গ্যাস রোডে অবস্থিত ‘আলেয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামক প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ এই অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স এবং পণ্য মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ছাড়াই অবৈধভাবে বিভিন্ন জনপ্রিয় নামের আড়ালে নিম্নমানের মশার কয়েল উৎপাদন, বিক্রয় ও বাজারজাত করে আসছিল।

​অভিযানকালে কারখানাটি থেকে মানহীন ও অবৈধ বডিগার্ড, সুপার জাম্বু, বাংলার সেরা, তুলসী পাতা, নিমপাতা, আফি পল্লী খামারী, টি. কে. হাই বুস্টার, নিউ সোলার, ধনুক, মিশন ম্যাক্স পাওয়ার এবং ব্ল্যাক ক্যাটস সহ বিপুল পরিমাণ মশার কয়েল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি উপস্থিতিতে এসব কয়েল, স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ও কয়েল তৈরির আনুষঙ্গিক মালামাল কিছু বিনষ্ট ও ধ্বংস করা হয়। ​আইন লঙ্ঘনের দায়ে আলেয়া এন্টারপ্রাইজকে ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। একই সাথে জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে তা সীলগালা করে দেওয়া হয়।

​বিএসটিআই কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং বাজারে গুণগত মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে বিএসটিআইয়ের এ ধরনের ভেজাল ও অবৈধ বিরোধী অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।