আজ ২৭ আগস্ট প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়ান দিবস।

নজরুলকে অনেকেই বিদ্রোহের কবি হিসেবে চেনেন। কিন্তু তাঁর সাহিত্যজগতের আরেকটি উজ্জ্বল পরিচয়—তিনি ছিলেন গভীর প্রেমের কবি। তাঁর গান ও কবিতায় প্রেম কখনো এসেছে আকাঙ্ক্ষা হয়ে, কখনো বিরহের বেদনা হয়ে, আবার কখনো প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার আকুলতা হয়ে। তাঁর প্রেমের রচনাগুলো আজও বাংলা সংগীত ও সাহিত্যে সমান জনপ্রিয়।

নজরুলের প্রেমের কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি প্রকৃতি, সৌন্দর্য ও মানবিক আবেগের অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। তাঁর গানে প্রেমিকের অপেক্ষা, অভিমান, বিচ্ছেদ ও মিলনের আকাঙ্ক্ষা এমনভাবে উঠে এসেছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।

তাঁর সৃষ্টির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল প্রেম ও বিদ্রোহের পাশাপাশি অবস্থান। একদিকে তিনি লিখেছেন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে, অন্যদিকে ভালোবাসার কোমল অনুভূতিকে দিয়েছেন গভীর মর্যাদা। তাঁর সাহিত্যসত্তার এই দুই দিককে একসঙ্গে ধারণ করেই নজরুল হয়ে উঠেছেন বাংলা সাহিত্যের অনন্য এক প্রতিভা।

নজরুলের সংগীতভাণ্ডারও প্রেমের আবেগে সমৃদ্ধ। প্রায় সাড়ে তিন হাজার গান রচনা করা এই কবির অসংখ্য গান আজ ‘নজরুলগীতি’ হিসেবে বাংলা সংগীতের স্বতন্ত্র ধারাকে সমৃদ্ধ করছে। প্রেম ও বিরহের পাশাপাশি তাঁর গানগুলোতে মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তাও উঠে এসেছে।

১৯৭৬ সালের ১২ ভাদ্র ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর অর্ধশতক পেরিয়েও তাঁর কবিতা, গান ও চিন্তা বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।

প্রয়াণ দিবসে তাই শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে নয়, প্রেম ও মানবতার কবি হিসেবেও নজরুলকে স্মরণ করছে বাঙালি। তাঁর সৃষ্টির সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো এখানেই—সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তাঁর প্রেমের ভাষা ও মানবতার বার্তা আজও সমান জীবন্ত।