দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন দেশের অগণিত দম্পতি। চিকিৎসকের পরামর্শে নারীর ডিম্বস্ফোটন, ডিম্বনালীর অবস্থা, জরায়ু এবং পুরুষের শুক্রাণু পরীক্ষার পর যখন কোনো নির্দিষ্ট রোগ বা ত্রুটি শনাক্ত করা যায় না, তখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় 'Unexplained Infertility' বা ব্যাখ্যাতীত বা অজ্ঞাত কারণজনিত বন্ধ্যত্ব। চিকিৎসকদের সব রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতি দম্পতিদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক এবং মানসিকভাবে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।
প্রজনন প্রক্রিয়ার জটিলতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহে প্রজনন কোনো সাধারণ প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত জটিল জৈবিক প্রক্রিয়া। ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর সঠিক গুণগত মান, যথাযথ নিষেখ (Fertilization), ভ্রূণের সঠিক বিকাশ, জরায়ুতে ভ্রূণের সফল সংযুক্তি এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সূক্ষ্ম শারীরবৃত্তীয় বিষয়গুলো গর্ভধারণে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ প্রচলিত সাধারণ চিকিৎসাগত পরীক্ষায় এগুলোর সবকিছুর সূক্ষ্ম মূল্যায়ন করা সবসময় সম্ভব হয় না।
কম এএমএইচ (Low AMH) মানেই কি মাতৃত্বের আশা শেষ?
বর্তমান সময়ে আধুনিক ব্যস্ততা ও জীবনযাত্রার কারণে সন্তান ধারণে বিলম্ব হওয়ায় অনেক নারীই AMH (Anti-Müllerian Hormone) বা এএমএইচ পরীক্ষা করিয়ে থাকেন। এই হরমোনটি মূলত ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ বা ডিম্বাণুর মজুদ সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, এএমএইচ কম হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট নারী কখনো মা হতে পারবেন না। মূলত নারীর বয়স, ডিম্বাণুর গুণগত মান, ডিম্বস্ফোটন এবং সামগ্রিক প্রজনন স্বাস্থ্যই গর্ভধারণের মূল সম্ভাবনা নির্ধারণ করে। অনেক সময় তরুণ নারীদের এএমএইচ কম থাকলেও তাদের ডিম্বাণুর গুণগত মান ভালো থাকায় স্বাভাবিক বা আধুনিক চিকিৎসায় গর্ভধারণ সম্ভব হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি
ব্যাখ্যাতীত বন্ধ্যত্ব বা আনএক্সপ্লেইনড ইনফার্টিলিটি নির্ণয়ের আগে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়ে নেন যে রোগীর যথাযথ প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে কি না। রোগীর বয়স, বন্ধ্যত্বের সময়কাল এবং পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস গভীরভাবে বিবেচনা করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা সাজানো হয়।
কিছু দম্পতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ, ওভারিয়ান ইনডাকশন (Ovulation Induction)-এর সঙ্গে আইইউআই (IUI) অথবা অত্যাধুনিক আইভিএফ (IVF)- এর মতো চিকিৎসাপদ্ধতি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরিষ্কার বার্তা হলো- প্রতিটি রোগীর শারীরিক গঠন ও হরমোনজনিত অবস্থা আলাদা, তাই সবার জন্য একই চিকিৎসা উপযোগী নয়। এই ধরনের মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে জটিল পরিস্থিতিতে রোগীদের বাস্তবসম্মত ধারণা দেওয়া, সঠিক মানসিক সহযোগিতা প্রদান এবং কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অতিরিক্ত চিকিৎসা এড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
এই বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন দেশের খ্যাতনামা ফার্টিলিটি ও গাইনী বিশেষজ্ঞ- ডা. হাসনা হোসেন আখী, ফার্টিলিটি ও গাইনী বিশেষজ্ঞ, মার্কস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

