যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর আজ। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে হামলা চালায় ১৯ জন। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ওয়াশিংটনের পেন্টাগন হয়ে ওঠে হামলার লক্ষ্য। চতুর্থ বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
এই হামলায় নিহত হন বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রায় ৩ হাজার মানুষ। হামলার ২৫ বছর পরও সেই দিনের ক্ষত মুছে যায়নি পুরোপুরি। হামলাকারীদের অধিকাংশই সৌদি আরবের নাগরিক ছিলেন। তাদের কেউ ছিলেন শিক্ষক, কেউ শিক্ষার্থী, কেউ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। কেউ আবার আগে থেকেই আল—কায়েদার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
চারটি বিমানে ছিলেন মোট ১৯ হামলাকারী। তাদের মধ্যে চারজন ছিলেন প্রশিক্ষিত পাইলট। বাকিরা যাত্রী ও ক্রুদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য সঙ্গে ছিলেন। তাদের বলা হয় ‘মাসল হাইজ্যাকার’।
আফগানিস্তানে আল—কায়েদার প্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের বাছাই করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য তারা সৌদি আরবে গিয়ে ভিসা নেন। হামলার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। একইসঙ্গে প্রস্তুতি নেন বিমান ছিনতাইয়ের।
বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানটি লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে বিমানটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত করে। হামলার সময় এই বিমানের পাইলট ছিলেন মিসরের ৩৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ আত্তা। নাইন—ইলেভেন হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে দ্রুত চিহ্নিত হন তিনি।
এই বিমানে মাসল হাইজ্যাকারের ভূমিকায় ছিলেন সৌদি আরবের ২৮ বছর বয়সী ওয়াইল আল শেহরি। ওয়াইল ও ওয়ালিদ আল শেহরি ছিলেন ভাই। তাদের বাড়ি সৌদি আরবের আসির অঞ্চলে। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি দরিদ্র হিসেবে পরিচিত।
ওয়াইল খামিস মুশাইত শহরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০০০ সালে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য মদিনায় যান। ভাই ওয়ালিদও তার সঙ্গে ছিলেন। সেখান থেকে তাদের আফগানিস্তানে পাঠানো হয়। পরে আল—কায়েদা তাদের নাইন—ইলেভেন হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য নিয়োগ করে। ২০০১ সালের জুনে ওয়াইল যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
ওয়ালিদ আল শেহরি, ওয়াইলের সঙ্গে প্রথমে মদিনা এবং পরে আফগানিস্তানে যান। সেখানে আল—কায়েদার একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন।
এই বিমানের আরেক ছিনতাইকারী সতাম আল সুয়াকামির বয়স ছিল ২৫ বছর। তিনিও ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক। সৌদির রাজধানী রিয়াদে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুয়াকামির। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। আল—কায়েদা তাকে এবং আরেক সৌদি হামলাকারী মাজেদ মোয়াকেদকে আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগ করে।
আল—কায়েদায় যুক্ত হওয়ার আগে তাকে খুব একটা ধর্মীয় মনে করা হতো না। এমনকি তার নাম জড়িয়েছিল মদ্যপানের সঙ্গেও। হামলার পর তার পাসপোর্ট ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাছে পাওয়া যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। একটি ভবন ধসে পড়ার কিছুক্ষণ আগে এক ব্যক্তি সেটি কুড়িয়ে পুলিশকে দেন।
আরেক ছিনতাইকারী ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক আবদুল আজিজ আল ওমারি। তার বয়স ছিল ২২ বছর। ওমারিও আসির অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নেন তিরি। ওমারি বিবাহিত ছিলেন। তার একটি কন্যাসন্তান ছিল। আল ওমারিকে শনাক্ত করা হয় তার পাসপোর্টের মাধ্যমে। তার লাগেজ বিমানবন্দরে থেকে গেলেও সেটি বিমানে ওঠেনি।
দ্বিতীয় বিমানটিও বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। ছিনতাইয়ের পর সকাল ৯টা ৩ মিনিটে এটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত করে।
হামলার সময় এই বিমানের পাইলট ছিলেন ২৩ বছর বয়সী সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক মারওয়ান আল শেহহি। তিনি ১৯৯৬ সালে জার্মানিতে যান। হামবুর্গের আল কুদস মসজিদে তার সঙ্গে পরিচয় হয় মোহাম্মদ আত্তা ও জিয়াদ জাররাহর।
তারা পরে আল—কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হন। আফগানিস্তানের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেওয়ার পর আল শেহহি ফ্লোরিডায় যান। সেখানে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেন। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে পাইলটের লাইসেন্স পান তিনি।
হামলার পরিকল্পনায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কীভাবে হামলা চালানো হবে, তা পর্যবেক্ষণ করতে কয়েকটি নজরদারি ফ্লাইটেও অংশ নেন। নাইন—ইলেভেনের চার পাইলটের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সী।
এই বিমানের ছিনতাইকারীর নাম ফায়েজ বানিহাম্মাদ। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। তার বয়স ছিল ২৪ বছর। ১৯ হামলাকারীর মধ্যে মাত্র দুজন ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। তাদের একজন বানিহাম্মাদ।
বানি পরিবারকে ছেড়ে সৌদি আরবের আসির অঞ্চলে যান। পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, বিদেশে ত্রাণকাজে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
সেখানেই আল—কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হন। হামলার অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা সৌদি নাগরিক মুস্তাফা আল হাওসাউইর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। পর্যটন ভিসায় পরে যুক্তরাষ্ট্রে যান বানিহাম্মাদ।
এই বিমানের আরেক ছিনতাইকারীর নাম আহমেদ আল গামদি। ২২ বছর বয়সী গামদি ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক। গামদি দেশটির আল বাহাহ অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। অঞ্চলটি বিচ্ছিন্ন ও অনুন্নত হলেও সেখানে বেশ কিছু ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে।
রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে চেচনিয়ায় যান তিনি। সেখানেই আল—কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হন। পরে প্রশিক্ষণের জন্য আফগানিস্তানে পাঠানো হয় তাকে। ২০০১ সালের মে মাসে পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন তিনি।
২০ বছর বয়সী সৌদি আরবের অপর এক ছিনতাইকারীর নাম হামজা আল গামদি। ১৯ হামলাকারীর মধ্যে হামজা আল গামদি ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সী। সৌদি আরবের আল বাহাহ অঞ্চল থেকে আসা হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন হামজা আল গামদি, আহমেদ আল গামদি, সাঈদ আল গামদি ও আহমাদ আল হাজনাউই।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সাল থেকেই তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। আহমেদের মতো হামজাও চেচনিয়ায় রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়তে সৌদি আরব ছাড়েন। সেখানেই আল—কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হন।
২০০১ সালের মে মাসে পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তবে পরিবারকে তিনি তখনও বলতেন, তিনি চেচনিয়ায় আছেন।
অপর ছিনতাইকারীর নাম মোহান্দ আল শেহহি। তার বয়স ছিল ২২ বছর। একই অঞ্চলের বাসিন্দা হলেও আল শেহহি, ওয়াইল ও ওয়ালিদ আল শেহহির আত্মীয় ছিলেন না। মোহান্দ আল শেহহি সৌদি আরবে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। পরে তিনিও রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়তে চেচনিয়ায় যান।
পরে আফগানিস্তানের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেন। সেখান থেকে আল—কায়েদার কর্মকর্তারা তাকে নাইন—ইলেভেন হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য বাছাই করেন।
তৃতীয় বিমানটি ভার্জিনিয়ার ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। গন্তব্য ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ওহাইওর আকাশসীমায় বিমানটি ছিনতাই করা হয়। সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে এটি ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগনে আঘাত করে।
হামলার সময় এই বিমানের পাইলট ছিলেন ২৯ বয়সী সৌদি নাগরিক হানি হানজুর। আল—কায়েদার বাছাই করা হামলাকারীদের মধ্যে হানজুরই একমাত্র ব্যক্তি, যার আগে থেকেই বাণিজ্যিক পাইলটের লাইসেন্স ছিল।
ইংরেজিতেও তার দক্ষতা ছিল বেশ ভালো। ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসের জন্য আবার যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে অ্যারিজোনায় পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৯৯ সালে লাইসেন্স পান।
এই বিমানের ছিনতাইকারী ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক নওয়াফ আল হাজমি। তার বয়স ছিলো ২৫ বছর। নওয়াফ আল হাজমি ও সালেম আল হাজমি ছিলেন দুই ভাই। তারা নাইন—ইলেভেনের হামলায় অংশ নেওয়া দুই ভাইয়ের দ্বিতীয় জোড়া।
নওয়াফ ও খালিদ আল মিহদার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রথম দুই হামলাকারী। ২০০০ সালে সান দিয়েগোতে বিমান চালনার প্রশিক্ষণে তিনি ভালো করতে পারেননি। তবে নওয়াফ আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর নজরদারিতে ছিলেন। ২০০১ সালের এপ্রিলে পাইলট হানি হানজুরের সঙ্গে ভার্জিনিয়ায় বসতি স্থাপন করেন তিনি।
ছিনতাইকারীর তালিকায় থাকা আরেকজনের নাম খালিদ আল মিহদার। সৌদি আরব নাগরিক মিহদারের বয়স ছিল ২৬ বছর। নাইন—ইলেভেনের সময় সিআইএর কাছে পরিচিত ছিলেন আল মিহদারও।
১৯৯০ এর দশকের বসনিয়া যুদ্ধে তিনি বসনিয়ার মুজাহিদদের সঙ্গে লড়াই করতে বাড়ি ছাড়েন। সেখান থেকেই আল—কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হন। প্রশিক্ষণের জন্য যান আফগানিস্তানে। পরে পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
তবে নওয়াফ আল হাজমির মতো তিনিও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেননি। ফলে তাকে রাখা হয় মাসল হাইজ্যাকার হিসেবে।
পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এক মাসের জন্য ইয়েমেনে ফিরে যান নওয়াফ। পরে তাকে আবার আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণে ফেরার জন্য রাজি করানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জীবন নিয়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন বলেও প্রতিবেদন রয়েছে।
আরেক ছিনতাইকারী ২৪ বছর বয়সী মাজেদ মোয়াকেদও ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক। তিনি সৌদির মদিনার পশ্চিমে আল—নাখিল নামের ছোট শহর থেকে এসেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলেন আইন নিয়ে। পরে আল—কায়েদার সঙ্গে প্রশিক্ষণের জন্য আফগানিস্তানে যান। প্রথম বিমানের হামলাকারী সতাম আল সুয়াকামির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। ২০০১ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মোয়াকেদ। হামলার আগের মাসগুলোতে পরিকল্পনায় অংশ নেন।
আরেক ছিনতাইকারীর নাম সালেম আল হাজমি। সৌদি নাগরিক সালেমের বয়সও ছিল মাত্র ২০ বছর। সালেম ছিলেন নওয়াফ আল হাজমির ছোট ভাই। একই বিমানে দুজনই হামলাকারী ছিলেন।
আল—কায়েদার এক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ভাই নওয়াফ ওসামা বিন লাদেনের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন সালেমও হামলায় অংশ নিতে পারেন। ২০০১ সালের জুনে পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান সালেম। ১১ সেপ্টেম্বরের আগে নিউ জার্সিতে বসবাস করছিলেন।
চতুর্থ বিমানটি নিউ জার্সির নিউয়ার্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সান ফ্রান্সিসকোর উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। ছিনতাইয়ের পর বিমানটি ওয়াশিংটন ডিসির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু যাত্রীরা হামলাকারীদের প্রতিরোধ করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
ছিনতাইয়ের সময় এই বিমানের পাইলট ছিলেন ২৬ বছর বয়সী লেবাননের নাগরিক জিয়াদ জাররাহ। ১৯ হামলাকারীর মধ্যে একমাত্র লেবাননের নাগরিক ছিলেন জাররাহ।
ধর্মনিরপেক্ষ পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। ১৯৯০ এর দশকে জার্মানির হামবুর্গে যান। সেখানে মোহাম্মদ আত্তা ও মারওয়ান আল শেহহির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারা হামবুর্গ সেল গড়ে তোলেন। পরে আল—কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হন।
২০০০ সালের গ্রীষ্মে পাইলটের প্রশিক্ষণ নিতে ফ্লোরিডায় যান জাররাহ। লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে জার্মানিতে ফিরে যান। সেখানে থাকার সময় হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথা ভেবেছিলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হামবুর্গ সেলের আরেক সদস্য রামজি বিন আল শিব তাকে আবার পরিকল্পনায় ফিরিয়ে আনেন।
বিন আল শিব নিজেও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পাইলটের লাইসেন্স নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। জাররাহকে শনাক্ত করা হয় তার পাসপোর্টের মাধ্যমে। সেটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া যায়।
এই বিমানের ছিনতাইকারীদের মধ্যে আরেকজন ছিলেন ২১ বছর বয়সী সাঈদ আল গামদি। তিনিও আল বাহাহ অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। দ্বিতীয় বিমানে থাকা আহমেদ আল গামদি এবং একই বিমানে থাকা আহমাদ আল হাজনাউইয়ের সঙ্গে তার একই গোত্রীয় সম্পর্ক ছিল।
অন্য কয়েকজনের মতো তিনিও পড়াশোনা ছেড়ে রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়তে চেচনিয়ায় যান। পরে আফগানিস্তানে গিয়ে আল—কায়েদার প্রশিক্ষণ নেন। ২০০১ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। হামলার প্রস্তুতির সময় ফ্লোরিডায় অনুশীলন করেন। জাররাহর পাসপোর্টের সঙ্গে তার পাসপোর্টও দুর্ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।
২০ বছর বয়সী সৌদির আরেক ছিনতাইকারীর নাম আহমাদ আল হাজনাউই। তিনিও আল বাহাহ অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদের মতো তিনিও চেচনিয়ায় যুদ্ধ করেন। সেখান থেকে তাকে আফগানিস্তানের আল—কায়েদার প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠানো হয়। ২০০১ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেপ্টেম্বরের হামলার প্রস্তুতির সময় ফ্লোরিডায় বসবাস করেন।
ছিনতাইকারীদের মধ্যে আরেকজনের নাম আহমেদ আল নামি। ২৩ বছর বয়সী এই সৌদি নাগরিকের দেশটির দরিদ্র আসির অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০০ সালে হজ পালনের কথা বলে পরিবার ছেড়ে যান। কিন্তু আর ফিরে আসেননি।
আল—কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর আফগানিস্তানের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে যান। সেখানে আল শেহহি ভাইদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একই বিমানে থাকা সাঈদ আল গামদির সঙ্গেও তার পরিচয় ছিল। ২০০১ সালের মে মাসে পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। হামলার আগে ফ্লোরিডায় বসবাস করছিলেন। সূত্র : স্কাই নিউজ

