Opu Hasnat

আজ ৫ জুলাই রবিবার ২০২০,

নিম্ম মানের খেজুর চড়া মূল্যে বিক্রি

ঝালকাঠিতে খোলা খেজুরে ব্র্যান্ডের মোড়ক লাগিয়ে গ্রাহকদের প্রতারণা ঝালকাঠিবিশেষ সংবাদ

ঝালকাঠিতে খোলা খেজুরে ব্র্যান্ডের মোড়ক লাগিয়ে গ্রাহকদের প্রতারণা

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অব্যাহত অভিযানের মধ্যেও রমজানে বিপুল মুনাফার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের এখনও টার্গেট খেজুর। তারা বিদেশ থেকে খোলা আমদানি করা খেজুর দেশে ছাপানো মনোরম প্যাকেটে মুড়িয়ে ১০ গুণ বেশি দামে বাজারজাত করছেন। বিভিন্ন আকৃতির প্যাকেটের বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডের নাম লেখা এসব  খেজুর পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে অভিজাত দোকানেও বিদেশ থেকে মোড়কজাত আমদানি করা খেজুর হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

শহরের কালীবাড়ি রোড, কুমারপট্টি রোড, কাপুড়িয়া পট্টি, বায়তুল মোকাররম চৌমাথা, কলেজ মোড়, পূর্ব চাঁদকাঠি চৌমাথাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন  দোকানে নজরকাড়া মোড়কে  খেজুরের পসরা। বিভিন্ন দোকানে যেসব  খেজুর বিক্রি হচ্ছে, তা বিভিন্ন পরিমাপের। ২৫০ গ্রাম পরিমাপের খেজুরের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। ৫০০ গ্রাম পরিমাপের ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ১ কেজি মাপের খেজুরের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। আবার কিছু কিছু প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। এসব প্যাকেটে মাপ উল্লেখ নেই। প্যাকেটগুলো এমনভাবে সাজানো, যাতে পলিথিনের বাইরে থেকে খেজুর দেখা যায়। কিন্তু প্যাকেটের ভেতরে কী পরিমাণ খেজুর আছে, তা বোঝার  কোনো উপায় নেই। তবে প্যাকেট খুললে মোটা কাগজের ওপর শুধু একটি স্তরে অল্প কিছু খেজুর সাজিয়ে মানুষকে প্রতারিত করছে তারা। পলিথিন এবং কাগজের যেসব মনোরম প্যাকেটে খেজুর বিক্রি হচ্ছে, তার গায়ে লেখা আছে মরিয়ম, ওমানি ডেট, ক্রাউন ডেট ও সাউদিয়া ডেটসহ নানা নাম। প্যাকেটগুলোর গায়ে তিউনিশিয়া, সৌদি আরবিয়া, ইউএই, ওমান, ইরাক ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশের নাম। আরও উল্লেখ করা আছে বারকোড, টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বর, ই- মেইল ঠিকানাসহ নানা বর্ণনা। যা নিবিড় যাচাই-বাছাই করলে বোঝা যাবে, সবই ভুয়া।

ঝালকাঠি ফল ব্যবসায়ীরা জানান, অসাধু কয়েকজন ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার লোভে খেজুর নিয়ে জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে বেশিরভাগ খেজুর আমদানি হয় ইরাক, ইরান, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও  সৌদি আরব থেকে। খোরমা আমদানি হয় পাকিস্তান থেকে। প্রতি বছর  যে পরিমাণ খেজুর আমদানি হয়, এর ৯০ শতাংশই ব্যবহার হয় রমজানে। বাজারের দর অনুযায়ী বর্তমানে প্রতি কেজি খেজুরের পাইকারি দাম ৫০ টাকার মধ্যে। খুচরা বাজারে এসব খেজুর প্রতি কেজি ৬০ টাকার বেশি হতে পারে না। বাজারে কিছু প্যাকেট করা খেজুর বিক্রি হয়, যা বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি আমদানি করা। এসব  খেজুরের দাম প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। এসব প্যাকেটজাত  খেজুর বিক্রি করে মুনাফা করা যায় নির্দিষ্ট পরিমাণ। কিন্তু বর্তমানে মনোরম প্যাকেটে করে যেসব খেজুর বিক্রি হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ নকল। নকল খেজুরের ভিড়ে আসল খেজুর বাজার থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বেশি মুনাফা করা যায় না বলে বিক্রেতারা আসল খেজুর রাখতে চান না। দেশে আমদানি করা খেজুর বস্তা অথবা কার্টনে ভরে জাহাজে করে দেশে  পৌঁছে। এসব আমাদের দেশে লুলু, বড়ই ও বাংলা খেজুর হিসেবে পরিচিত। নকল প্যাকেটে খেজুরগুলোর দীর্ঘদিন অবিকল থাকার জন্য মেশানো হয় বিষাক্ত উপাদান ফরমালিন। এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে  খেজুর বিক্রি করে শুধু রমজান মাসেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পাশাপাশি মানুষ না বুঝে  বেশি টাকা দিয়ে খেজুরের সঙ্গে পেটে ঢোকাচ্ছেন বিষাক্ত ফরমালিন।