Opu Hasnat

আজ ৩০ মে বৃহস্পতিবার ২০২৪,

মোরেলগঞ্জের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত, অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন বাগেরহাট

মোরেলগঞ্জের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত, অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন

প্রতিটি সন্তানের পিতামাতা স্বপ্ন দেখে তার সন্তান বড় হয়ে আলোকিত মানুষ  হোক, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক।সমাজ যেন স্বকৃীত দেয় সন্তানের গর্বিত পিতা-মাতা।আর সেই আদরের সন্তান যখন মাধ্যমিকের গন্ডি পার হওয়ায় আগেই নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরে, মাদক নেশায় বুঁদ হয়ে যায়, তখন পিতা-মাতার দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না, চোখের সামনে ছেলেকে নস্ট হতে দেখে অনেক পিতা-মাতাই অসুস্থ হয়ে পরেন। বলছি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মাদক সেবনে আসক্ত হওয়ার কথা। সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি  মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজের একঝাঁক কিশোর  শিক্ষার্থী তীব্রভাবে মাদকাসক্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে কয়েকজন অভিভাবক গোপনে তাদের সন্তানদের চিকিৎসাও করিয়েছেন। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে মাদক সংগ্রহ করে এসব শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে গাঁজা সবচেয়ে বেশি বিক্রি করা হয়। ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সী কিশোরদের কাছে এই মাদকদ্রব্য  সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। আবার কোন শিক্ষার্থীর পারিবারিক অবস্থা ভালো থাকলে তারা ইয়াবা সহ অনন্য মাদকও সেবন করছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাদকে আক্রন্ত হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরিবারের লোকজন এ ব্যাপারে কোনোই ভূমিকা রাখছে না।অভিভাবকের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। সামাজিক লজ্জার ভয়ে তারা এগুলো গোপন রাখছেন। রাতের অন্ধকারে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয় মাদক । মোরেলগঞ্জ শহরের একটি সনামধন্য  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভিতরে খোলা জায়গায় রাতে দলবেঁধে মাদক সেবন করেন শিক্ষার্থীরা এমনও অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা পেয়ে পাওয়ার দেখাতে গিয়ে মাদকাসক্ত সেবনে জড়িয়ে পড়ছেন  বেশিরভাগ ছেলে-মেয়েরা।এদের মধ্যে ভালো পরিবারের সন্তানও রয়েছে। মোরেলগঞ্জ পৌরপার্কের পেছনে পানগুছি নদীর পার, সানকিভাঙা খাদ্যগুদাম নিকটস্থ বালুর মাঠ, ৪ নং ওার্ডের বালির রাস্তার কয়েকটি স্পর্ট, উপজেলা হেডকোয়ার্টারের পাশ্ববর্তী কয়েকটি পরিত্যক্ত ভবন মাদক সেবনের নিরাপদ স্হান মনে করে। 

এছাড়াও উপজেলার জিউধারা, বহরবুনিয়া, নিশানবাড়িয়া,খাওলিয়া, বলইবুনিয়ার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠেও এসব মাদক আড্ডা বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে এর বিস্তার দিনদিন দীর্ঘ হচ্ছে। বিশেষ করে অভিভাবকরা নিজের সন্তানকে ঠিক মতো গাইড না দেওয়ার কারণে মাদকাসক্ত হচ্ছে। অভিভাবকরা এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  মাদকাসক্ত কয়েকজন স্কুল ছাত্রের অভিভাবক বলেন, আমাদের অজান্তেই আস্তে আস্তে মাদক সেবনে আসক্ত হয় আমাদের ছেলেরা। কোন ভাবেই তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছিনা। আমাদের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাচ্ছে, কয়েক বছর আগেও দেখেছি রাতের বেলায় পুলিশ বাজারে সহ বিভিন্ন স্হানে ঘুরে বেড়াতো, এখন আর পুলিশ সন্ধ্যার পরে দেখা যায় না।তারা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘কম-বেশি সব বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষার্থীরা মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব মাদক সম্পর্কে সচেতন করা হয়। কিন্তু পারিবারিক ভাবে তাদেরকে কোন শাসন করা হয় না। এর ফলে ইভটিজিংয়েও জড়িয়ে পরছেন অনেকে। যারা মাদক সেবন করে এরা খুব কম বিদ্যালয়ে আসে। 

এদিকে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম তারেক সুলতান  বাগেরহাট জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় নিয়মিত মাদকের বিরুদ্ধে অভ্যিান পরিচালনা করছেন,অনেককেই ভ্রাম্যমাণ আদালতে  সাজা দিয়েছেন। 

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, আমরা বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে মোরেলগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছি, সুর্নিদিস্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের কাছে মাদকের তথ্য আসলে আমরা অভিযান পরিচালনা করি।তবে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অভিভাবকদেরকে আরও সচেতন হতে হবে।