Opu Hasnat

আজ ১০ ডিসেম্বর শনিবার ২০২২,

সৈয়দপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ সন্তানদের সংবাদ সম্মেলন নীলফামারী

সৈয়দপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ সন্তানদের সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারীর সৈয়দপুরে মঙ্গলবার  স্থানীয় আদিবা কনভেনশন হলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও শহীদ সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ৭১ ফেসবুকে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের শয়তান ও তাঁদের সন্তানদের পিঁপড়ার মত পায়ে পিষে মারার হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান প্রজন্ম ৭১ সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক। বক্তব্যে বলা হয়, কুখ্যাত রাজাকার নঈম খানের (নঈম গুন্ডা) ছেলে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক দিলনেওয়াজ খান তাঁর ফেসবুক পেজে গত অক্টোবর মাসে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ও শহিদ পরিবারদের নিয়ে ধৃষ্ঠতাপূর্ণ কটুক্তি করে বলে শয়তানদের মাটিতে ফেলে পিঁপড়ার মতো পা দিয়ে কুচলায় মারবো।’ কঠোরভাবে ওই উক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কুখ্যাত রাজাকার নঈম গুন্ডা একাত্তরের ৯ মাসে দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকায় অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। সৈয়দপুরে গোলাহাট বধ্যভূমিতে হিন্দু মাড়োয়ারি নিধনেও অংশ নেন ওই রাজাকার। অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমহানী ঘটান তিনি। তাঁরই সন্তান দিলনেওয়াজ খান কলেজে পা না রেখেও কৌশলে ছাত্রলীগে প্রবেশ করেন এবং সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। বর্তমান তিনি সৈয়দপুর উপজেলার আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক। কালো টাকার বিনিময়ে ৭ বছর ধরে একই পদে বহাল আছেন তিনি। দিলনেওয়াজ সৈয়দপুরে মাদক ও জমি দখল ব্যবসায় জড়িত বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। তাঁর একটি পেটোয়া বাহিনীও রয়েছে। এতসব অপকর্মের বিষয়ে আমরা বহুবার লিখিতভাবে আওয়ামীলীগের নীলফামারী জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটিকে অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু কোন ফল পাইনি। শেষ ভরসা হিসেবে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।

তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ওই ঘটনায় গত ১৭ নভেম্বর সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আজ অবদি পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে রাজাকার সন্তান দিলনেওয়াজ খানকে গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এমনকি সৈয়দপুরকে অচল করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী একেএম রাশেদুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর্জা সালাউদ্দিন বেগ, শহীদ সন্তান ইসরাত জাহান কলি, শহীদ সন্তান মোনায়েমুল হক প্রমুখ।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক দিলনেওয়াজ খানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি আমার ফেসবুকে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কোন উক্তি করিনি। ওটা আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। বিষয়টি তদন্ত করতে আমি সৈয়দপুর থানায় গত ১৬ নভেম্বর একটি সাধারণ ডায়রি করেছি। আর আমার বাবা রাজাকার এর কোনো প্রমাণ নেই। আমি বঙ্গবন্ধু আদর্শের একজন সৈনিক। এ নিয়ে অনেকের গাত্রদাহ আছে।