Opu Hasnat

আজ ১০ ডিসেম্বর শনিবার ২০২২,

মোরেলগঞ্জে বাতি আছে আলো নেই, কোটি টাকার সোলারের ৮০ শতাংশই নষ্ট! বাগেরহাট

মোরেলগঞ্জে বাতি আছে আলো নেই, কোটি টাকার সোলারের ৮০ শতাংশই নষ্ট!

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দেখভালের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না প্রত্যন্ত গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সড়কের পাশে স্থাপন করা সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে। কোটি  টাকার সৌর সড়ক বাতির প্রায় ৮০ শতাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায়  সোলার লাইট স্হাপনের কয়েক মাসের মধ্যে তা দেখতে অনেকটা খেলনা লাইটের মত হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সোলার আছে বাতি নেই, ল্যামপোস্ট ভেঙে পরেছে। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে এগুলো রক্ষানাবেক্ষন, সংস্কার বা দেখভালের কথা থাকলেও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে না লাগামহীন  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

নিম্নমানের, নামসর্বস্ব সৌর প্যানেলসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংযোজন করে একটি সিন্ডিকেট এই বরাদ্দের বেশির ভাগ অর্থই হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সৌরবাতিগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে কোনো বরাদ্দ না থাকায় অন্ধকারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষকে। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সুত্রে  জানা যায়, দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাটামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায়  ২০১৭-১৮ অর্থ বছর থেকে পরবর্তী কয়েকটি অর্থ বছরে ব্র্রীজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই উপজেলায়  স্ট্রিট সোলার ও হোম সোলার স্থাপন করেন। এরপর আরো  একটি প্রতিষ্ঠান  স্ট্রিট সোলার লাইট  ও হোম সোলার স্থাপনের কাজ করেছেন। এই উপজেলায় আনুমানিক  প্রায় ৫০০ এর অধিক স্ট্র্রিট সোলার লাইট স্হাপন করা হয়েছিল। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, রাস্তা, মসজিদ, মন্দির, স্কুল, কলেজ ও প্রতিষ্ঠানের সামনে পথচারীদের সুবিধার্থে ২৫, ৩০ ও ৫০ ওয়াটের এ স্ট্রিট সোলার গুলো বাসানো হয়। মোরেলগঞ্জ  উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন ও  ১ টি পৌরসভায় এসব  সোলার লাইটগুলোর দেখভালের দায়িত্ব কার এমন প্রশ্ন স্থানীয় সাধারণ মানুষের! নিয়মতান্ত্রিক ভাবে এই সোলার লাইট স্হাপন ও দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন  কর্মকর্তার, কিন্তু মোরেলগঞ্জের  এসব  লাইট সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিস্টান লাগিয়ে যাওয়ার পর আর সেগুলো সংস্কার করা হয় না।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬  ইউনিয়নসহ পৌরসভায় মসজিদ, মন্দির, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে সোলার সিস্টেম প্যানেল ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়। প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টের বরাদ্দ ধরা হয়েছে আনুমানিক ৫৬ হাজার ৪৯০ টাকা। প্রতিটি স্ট্রিট লাইট মেরামতের জন্য তিন থেকে চার বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি রয়েছে।এদিকে সড়ক বাতিগুলো না জ্বলায় সরকারের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। সরকারের কোটি কোটি টাকা জলে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। 

সরেজমিনে কয়েকটি  ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, জনবহুল এ সড়কের অধিকাংশ সৌরবাতি অকেজো হয়ে আছে। সৌরবাতির খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে আছে। অনেক স্থানে ব্যাটারি ও লাইট হারিয়ে গেছে। কয়েকটি  ইউনিয়নের মধ্যে  বারইখালী, বহরবুনিয়া, দৈবজ্ঞহাটি, খাওলিয়া, রামচন্দ্রপুর, নিশানবাড়িয়া, হোগলাবুনিয়া, কয়েকটি  বাজারসহ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো ল্যাম্পপোস্টের লাইটগুলোর অধিকাংশ যেন এক একটি খেলনার মত দাড়িয়ে রয়েছে,সেগুলো এখন অকেজো, দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে।

বারইখালী  এলাকার একজন ইউপি সদস্য  জানান, নিম্নমানের উপকরণ দেওয়ায় সড়ক বাতিগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। রাত হলেই বাজারগুলো সহ তার আশেপাশের  সড়কে নেমে আসছে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সড়কে চুরি-ছিনতাই বেড়ে গেছে। স্থানীয় কতৃপক্ষকে বারবার বলার পরও সৌরবাতিগুলো ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে বহরবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান টি এম রিপন বলেন, তার ইউনিয়নে সোলার প্যানেলে গুরুত্বপূর্ণ ল্যাম্পপোস্টগুলো অধিকাংশ  বন্ধ হয়ে আছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে বললে তারা কোন ব্যাবস্হা নেয় না । উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় কয়েকবার বলেছি তাতে কোন ফল আসে না, সরকারের এতো টাকার সড়ক বাতি ব্যবহারে কোন সুফল আসছে না। 

খাওলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের কয়েকটি বাজার সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো সোলার লাইট নস্ট হয়ে গেছে, কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জাবির বলেন, এ সোলার লাইট গুলো আমি আসার পূর্বে বসানো হয়েছে তাই এ সম্পর্কে আমি অবগত নই।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর