Opu Hasnat

আজ ৩০ নভেম্বর বুধবার ২০২২,

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশের মেয়েরা খেলাধুলা

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশের মেয়েরা

নান্দনিক ফুটবল খেলে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। সেইসাথে অবসান হলো ১৯ বছরের শিরোপা জয়ের প্রতিক্ষা। সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চারবারের ফাইনালিস্ট নেপালকে উড়িয়ে ৩-১ গোলে দিয়ে প্রথমবার সাফের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল।

পুরুষ ও নারীদের সাফের ইতিহাসে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় শিরোপা। এর আগে ১৯ বছর আগে ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে জাতীয় পুরুষ ফুটবল দল মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। তারও আগে ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) ফুটবল ইভেন্টে এই রঙ্গশালা স্টেডিয়ামেই নেপাল জাতীয় পুরুষ দলকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। আজ সেই রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের হাজার বিশেক দর্শককে নিস্তব্ধ, নিঃসাড় করে দিয়ে লাল-সবুজের কেতন উড়িয়েছে সাবিনা-কৃষ্ণারা। হয়েছে নারী সাফের নতুন রানী।

এমন জয়ে বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেছেন কৃষ্ণা রানী সরকার। অপর গোলটি করেছেন সুপার সাব শামসুন্নাহার জুনিয়র। অবশ্য দেশের ক্রিকেট ও ফুটবলের খারাপ সময়ে তাদের এই শিরোপা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রীড়ামোদি মানুষের জন্য দারুণ কিছু। এ অর্জন নিঃসন্দেহে অসামান্য।

অবশ্য নারীদের সাফ ফুটবল মানেই ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য। আগের পাঁচ আসরে পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। বাংলাদেশ ফাইনালে খেলে মোটে একবার। তাও ২০১৬ সালে। নারী ফুটবলে বছর তিনেক আগেও ভারতের সাথে বাংলাদেশ দলের দূরত্ব ঢাকা-দিল্লির মতোই ছিল। কিন্তু এবারের আসরে সেই দূরত্ব কমিয়ে আনে বাংলাদেশের মেয়েরা। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আসে গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। যা ছিল ভারতের বিপক্ষে ১২ বছরের চেষ্টায় ১১তম মুখোমুখিতে প্রথম জয়। আর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে ভারতের মেয়েদের প্রথম হার।

অবশ্য বাংলাদেশ নারী ফুটবল মানেই তারুণ্যের জয়গান। বয়সভিত্তিক দলে তারাই এনে দিয়েছে একাধিক সাফল্য। জাতীয় দলের হয়ে ছিল ব্যর্থতার মিছিল। তবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের হয়ে যারা ফাইনাল খেলেছিল। তারা এখন আরও পরিণত, আরও অভিজ্ঞ। তাদের পারফরম্যান্সে ভর করেই বাংলাদেশ গড়েছে ইতিহাস।

প্রথমবারের মতো নারী সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ার আনন্দকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া। পুরো আসরে বাংলাদেশ গোল হজম করল মাত্র একটি। অন্যদিকে ফাইনালের আগ পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রেখেছিল নেপালও।  

দেশের নারী ফুটবল এক নতুন জাগরণের সুর উঠেছে। এই সুরেই একদিন বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।