Opu Hasnat

আজ ৩০ নভেম্বর বুধবার ২০২২,

জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী লাবণ্য ঘোষের নানান সাফল্য গাঁথা বিনোদন

জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী লাবণ্য ঘোষের নানান সাফল্য গাঁথা

ফয়সাল হাবিব সানি : অল্প বয়সেই কলকাতার একজন সফল নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন লাবণ্য ঘোষ। নৃত্যে পেয়েছেন অসাধারণ সফলতা এবং নৃত্যের নিখুঁতশৈলির পারঙ্গমতায় প্রতিনিয়তই অগণিত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন এবং হচ্ছেন তিনি।

স্বপ্ন মানুষের জীবনের চিরায়ত সত্য। স্বপ্নকে আষ্টেপৃষ্টে আঁকড়ে ধরেই মানুষ এগিয়ে যায় তার অভিষ্ট লক্ষ্যের দ্বারপ্রান্তে। কেউ কেউ তার স্বপ্নের অপমৃত্যু দেখে আর কেউ কেউ শত বাধা-প্রতিবন্ধকতাকে টপকিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যায় স্বপ্নের অমৃত স্বাদ আস্বাদনের অভিপ্রায়ে। ব্যর্থতার নিকষ অন্ধকার ভেদ করে সফলতার রঙিন মোড়কে মোড়ানো নতুন ভোরের জন্য যারা অপেক্ষা করতে না পেরে লক্ষ্যচ্যুত হয়, স্বপ্ন সেই সকল হেরে যাওয়া মানুষদের জন্য কখনোই সফলতা আর সুখের বার্তা বহন করে না। দিনশেষে তাদের স্বপ্নের বিনাশ ঘটে পরাজিত আক্ষেপের রিক্ত ধূসর বেলাভূমিতে। স্বপ্ন পূরণের জন্য তাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বপ্নকে মন ও মননের আঙিনায় ধারণ, বহন ও লালন করে পরিশ্রম, মেধা, যোগ্যতা আর ‘আমি পারবই’ শব্দটিকে নিজের মধ্যে প্রবলভাবে যত্ন করে পুষে রাখা। 

লাবণ্য ঘোষের স্বপ্নের শুরুটাও যেন ছিল এই চিরন্তন ধ্রব সত্য কথাগুলোর মতোই। আজ তিনি কলকাতার একজন জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী। তার জীবনে মা-বাবার অবদানকেই তার নৃত্য জীবনের সঞ্জীবনী শক্তি হিসেবে মনে করেন তিনি। গড়িয়ায় তিনি মাত্র দু’বছর বয়সে তার মায়ের হাত ধরে একটি স্কুলে নাচ শিখেন এবং পরবর্তীতে ভুবনেশ্বরে যেয়ে তার নাচের গুরু মা শ্রীমতি রাজশ্রী প্রহরাজের নিকট ওড়িশি নাচ শেখার হাতেখড়ি হয় তার। পরবর্তীতে তিনি  কলকাতায় আসার পর দীর্ঘ ৭ বছর শ্রীমতি নন্দিনী ঘোষালের কাছ থেকে ওড়িশি নাচের তালিম নেন। বর্তমানে তিনি তার ছাত্রীদের নাচ শিখিয়ে থাকেন এবং তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃত্য বিভাগে পড়াশুনা করেছেন। 

তিনি ২০১৪ সালে ত্রিধারা উৎসবে দ্বিতীয় স্থান, পঞ্চম বার্ষিকী কটক উৎসবে শ্রেষ্ঠ ওড়িশি নৃত্যশিল্পী মনোনীত হন। তার প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে- মুরারী স্মৃতি সংগীত সম্মিলনীতে প্রথম স্থান, সমগ্র ভারত নৃত্য প্রতিযোগিতা-২০১৪ তে ওড়িশি নৃত্যে প্রথম স্থান, ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্সে (২০১৬-১৭) দ্বিতীয় স্থান, ভারত সংস্কৃতি উৎসব-২০১৪ তে প্রথম স্থান, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত একাডেমি আয়োজিত ওড়িশি নৃত্য প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান প্রভৃতি। এছাড়াও তিনি পরপর দু’বার যুগল শ্রীমল এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন এবং রাজ্যসংগীত আকাদেমিতে পরপর দু’বার দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। 

নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে লাবণ্য ঘোষ এগিয়ে চলেছেন তার আপন স্বরূপের সন্ধানে। প্রতিটি পুরস্কার এবং সম্মাননাকেই তিনি তার জীবনের অনুপ্রেরণার গল্প হিসেবে মনে করে থাকেন এবং তার নাচের ভিডিও বিভিন্ন সময়-ই বিভিন্নভাবে আলোচনায় এসেছে বলে জানান তিনি। মূলত, তিনি তার সু-কর্মের মাধ্যমেই মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিতে চান। ওপার বাংলা ছাড়াও বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার কথাও তিনি অকপটে স্বীকার করেন এবং সকলের ভালোবাসার কাছেই আজন্ম কৃতজ্ঞ থাকতে চান এই নৃত্যশিল্পী।