Opu Hasnat

আজ ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০২২,

ব্রেকিং নিউজ

সাহিত্য সৃষ্টির অন্তর্লোকে একজন লেখক নিজেকে সংগঠিত করেন শিল্প ও সাহিত্য

সাহিত্য সৃষ্টির অন্তর্লোকে একজন লেখক নিজেকে সংগঠিত করেন

সাহিত্য সৃষ্টির অন্তর্লোকে একজন লেখক নিজেকে সংগঠিত করেন। এই গঠন সমাজের ভাব-বস্তুর ভেতর দিয়ে নিজেকে সংগঠিত করে থাকেন। দ্বিতীয়ত সাহিত্য সংগঠনের ভীত দিয়ে চেতনাগত জায়গায় সমাজ-মানুষ-প্রকৃতির সাথে অপার মেল-বন্ধন ঘটে। আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রকৃতি নিজেই অপার সংগঠন। এই সংগঠন থেকে আমরা অজস্র রসদ সংগ্রহ করে নিজের মত করে লিখি, লিখতে লিখতে নিজের লেখনি সমৃদ্ধ ও টেকসই করে গড়ে তুলি। কথাগুলো বলেন বহুমাত্রিক লেখক, প্রাবন্ধিক, কথা সাহিত্যিক, গবেষক, লিটল ম্যাগ প্রকাশক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক কবি সৈয়দা রুখসানা জামান শানু।

তিনি আরো বলেন, দেশে বর্তমানে কবিদের সংগঠন সংখ্যা রাজনৈতিক দলের সংখ্যার থেকে বেশিই হবে বলে অনুমান করতে দোষ নেই। মতের অমিল নেই কিংবা মিলও নেই, মতাদর্শও নেই তবু সংগঠনের বিস্তার আছে এবং চর্চার নাম আছে। কিন্তু চর্চা হোক বা না হোক ব্যানার আছে। মাঝে মাঝে দেখি কোনো কোনো সংগঠনের মাসিক-সাপ্তাহিক সাহিত্য সভাও হচ্ছে বা হয় এবং কেউ কেউ প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি বা আলোচক-সমালোচক হিসেবে উপস্থিত থাকেন বা থাকছেন। সংগঠন হতে কোনো ক্ষতি নেই, যদি তা সংশ্লিষ্ট কাজে সক্রিয় থাকে এবং ক্রমাগত চর্চার মধ্য দিয়ে বিষয়ের উৎকর্ষতা অর্জন লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। 

খানসামা উপজেলার পাকের হাট পল্লিতে উজান-ভাটি সাহিত্য এ সংগঠনের মাধ্যমে ভালো কিছু-তা গল্প-কবিতা-নাটক-প্রবন্ধ যা-ই হোক, তার আশাপ্রদ প্রকাশ তরান্বিত হয়ে উঠবে বলে মনে হয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, অসত্য নয় যে, লেখকগণ সংগঠন প্রিয় হলেও প্রকৃত সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কেননা কবি-সাহিত্যিকগণকে স্পনসর করতে সাধারণত কাউকে দেখা যায় না। কিন্তু আজ আমি যেখানে এসেছি এ সংগঠনে পা দেবার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে এখানে যারা উপস্থিত রয়েছেন তারা শক্ত ভীত দিয়ে চেতনাগত জায়গায় সমাজ-মানুষ-প্রকৃতিকে সম্পৃক্ত করবেন বলে আশাবাদি। কেননা পল্লি থেকেই তো সাহিত্য প্রসার লাভ করেছে। আধুনিক সাহিত্যের শেকড় পল্লি সাহিত্য। আর এ পল্লির মানুষ যেভাবে সাহিত্য চর্চায় এগিয়ে এসেছেন তাতে করে অচীরেই দূর হবে সকল বিভাজন নীতি। 

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যান অথবা অনান্য পেশার মানুষ অবসরে গেলে তাঁদের পেশার ক্ষেত্রে সাবেক শব্দটি লেখা হয় কিন্তু কবি-সাহিত্যিকগণ কখনও সাবেক হননা।

“তবুও তো ভাবি, স্বপ্নহীন নই, আশাহীন বন্য খাঁচায় করবো না বসবাস” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে  শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিকেলে পাকেরহাট, খানসামায় ‘উজান-ভাটি শিল্প সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ’ আয়োজিত শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পাকেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে বিশিষ্ট কবি, গীতকার, ঔপন্যাসিক হোসাইন মুহম্মদ আনোয়ার এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও বহুমাত্রিক লেখক-কবি সৈয়দা রুখসানা জামান শানু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আনোওয়ারুল হক, কামার পুকুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, রানীর বন্দর নজরুল পাঠাগার ও ক্লাব সভাপতি মো: গাওছুল আজম, দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লুতু, সাংবাদিক জসিম উদ্দীন প্রমূখ। 

কবি, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংগঠক এবং সর্বস্তরের সুধীজন ও গুণীজনের সমন্বয়ে এ মিলন মেলায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন রংপুর বিভাগ হতে আগত কবি ও ছড়াকারগণ, দেশের গান ও নজরুল গীতি পরিবেশন করেন পাকেরহাটের ক্ষুদে শিল্পীবৃন্দ। সবশেষে সভাপতি কবি হোসাইন মুহম্মদ আনোয়ারউজান-ভাটি সাহিত্য সংগঠনের সকল সদস্যদর সাংগঠনিকভাবে পরিচিতি তুলে ধরার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন। প্রাণবন্ত এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন কবি ড. এম. মুজির।