Opu Hasnat

আজ ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০২২,

ব্রেকিং নিউজ

পদ্মা সেতুতে রেলপথ স্থাপনের কাজ শুরু মুন্সিগঞ্জ

পদ্মা সেতুতে রেলপথ স্থাপনের কাজ শুরু

পদ্মা সেতু দিয়ে এখন রেল পথে  ঢাকা থেকে যাবে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলায় । সড়কপথের কাজ শেষ হওয়ায় এবার রেলপথ স্থাপনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় তলা পদ্মা সেতুর ওপরে সড়ক পথের পর এখন বাকি রয়েছে নিচতলার রেলপথের কাজ। সেই কাঙ্খিত রেল কর্তৃপক্ষকে এ কাজের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়ে দিলো সেতু কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৭ জুলাই) সকালে থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পর্যন্ত পুরো সেতুর রেলপথের অংশ পরিদর্শন শেষে এ অনুমতি দেওয়া হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিষয়টি পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মুল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের।

তিনি জানিয়েছেন, আজকে আমরা থেকে রেল কর্তৃপক্ষকে কাজের জন্য অনুমতি দিয়ে দিয়েছি। রেল কর্তৃপক্ষের আওতায় থাকবে সেতু রেলট্র্যাকটি।

নির্বাহী প্রকৌশলী নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, সড়ক পথে যান চলাচলে রেলপথের কংক্রিটিং কাজে কোনো সমস্যা হবে না। সেতুতে ভাইব্রেশনের মাত্রা পয়েন্ট থাকবে ১৩। যা একেবারেই কম। বিবিএ মনে করছে ভাইব্রেশনের কারণে রেলের কংক্রিটিং করতে সেতুতে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। এরপরও তারা যদি আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করার কোনো কিছু ধরা পড়ে সে ক্ষেত্রে গাড়ির কিছু গতি কমানো লাগলে লাগতেও পারে। তবে না লাগার সম্ভাবনা বেশি। তবে এ কাজে গাড়ি চলাচল বন্ধ হবার  কোনো প্রশ্নই আসে না। উপরে যান চলাচল একেবারেই স্বাভাবিক থাকবে এবং নিচে রেলের কংক্রিটিংয়ের কাজ চলবে পুরো দমে। পাশাপাশি সেতুর অবশিষ্ট কাজগুলোও চলবে।

এদিকে, এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যবেক্ষণ শেষে দ্রুতই সেতুতে রেল পথের কাজ শুরুর কথা জানান মাওয়া-ভাঙা সেকশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক-১ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আহমেদ।

তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই আমরা চাচ্ছিলাম যে স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ শুরু করবো। আজকে সেই দিনটি এসেছে। সবাই মিলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। কিছু কাজ বাকি আছে, তবে সেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ না। আমাদের কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রথমে এটিকে পর্যবেক্ষণ করবো। চোখের দেখাতে খুব একটা ভাইব্রেশন হচ্ছে না। তবে এটি টেকনিক্যাল বিষয়। পুরোটাই যন্ত্রের মাধ্যমে করা হবে। সেক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। আর যদি অল্প সমস্যা হয়েও থাকে তাহলে সেটিরও তাৎক্ষনিক সমাধানের ব্যবস্থা আছে।

মাওয়া-ভাঙা সেকশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক-১'এর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আহমেদ আরও বলেন, শনিবার থেকে কারিগরি বিষয় পরিদর্শন করা হবে। যদি ভাইব্রেশন বেশি হয় তবে পরীক্ষামূলক কাজ করা হবে আর যদি দেখা যায় তেমন কোনো বড় সমস্যা নেই সেক্ষেত্রে মূলকাজই শুরু করে দেয়া হবে। পর্যবেক্ষণের জন্য এক সপ্তাহ সময় লাগবে। আমাদের যেসব যন্ত্রাংশ আছে, রেললাইন, স্লিপার সেগুলো মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে রাখা হবে যতদ্রুত সম্ভব আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কাজ শুরু করবো। সড়ক পথের কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়েই কাজ শেষ করবো। কংক্রিট জমাট বাঁধার বিষয় রয়েছে। তবে এখানে ভাইব্রেশনের মাত্রা একেবারেই কম। এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি।

রেল সংযোগ প্রকল্পের মাওয়া-ভাঙা সেকশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক-১ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আহমেদ আরও জানান, অনেকদিন ধরেই আমরা চাচ্ছিলাম যে স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ শুরু করব। আজকের এই শুভ দিনটি এসেছে। সবাই মিলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কিছুকাজ বাকি আছে, তবে সেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ না।