Opu Hasnat

আজ ৫ জুলাই মঙ্গলবার ২০২২,

কোরবানিতে সৈয়দপুরে খামারের গরুতে আগ্রহ বেশি নীলফামারী

কোরবানিতে সৈয়দপুরে খামারের গরুতে আগ্রহ বেশি

এখনো কোরবানির হাট জমে উঠেনি। তবে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা খামারের গরুতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। ফলে খামারগুলোতে বেচাকেনা চলছে পুরোদমে। ক্রেতারা গরু কিনে খামারেই রাখতে পারছেন। খামার কর্তৃপক্ষ গরু বাড়ি পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়ায় চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে খামারে। শহরের বঁশাবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী জুবের আলম জানালেন, বাড়ির পাশে খামারে গরু কিনেছি। খামারেই গরু কোরবানি ও বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব খামার কর্তপক্ষ নিয়েছেন। তাই হাটের অনেক ঝক্কি ঝামেলা থেকে রেহাই পেয়েছি।

নীলফামারীর সৈয়দপুরের বাঁশবাড়িতে গড়ে উঠেছে মেসার্স ইউসুফ হৃষ্টপুষ্ট ও ডেইরি ফার্ম। এই খামারে প্রাকৃতিক গরু লালন-পালন করা হয়ে থাকে।

কোরবানির জন্য প্রস্তত প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন গরু। কোন কৃত্রিমতা ছাড়াই গরু হৃষ্টপুষ্ট করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন যুবক জামিল আশরাফ মিন্টু। মাত্র চারটি গরু দিয়ে ব্যবসা শুরু করে এখন দুই শতাধিক গরুর মালিক। মেসার্স ইউসুফ হৃষ্টপুষ্ট খামার ও ডেইরী ফার্মে এক কোটি ২৫ লাখ বিনিয়োগে বিপুল আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।  তিনি বলেন, ৫/৬ মাস আগে ছোট সাইজের গরু পাশের ঢেলাপীর, তারগঞ্জ, রানীরবন্দর, শাখামাছা, বেনীরহাট প্রভৃতি হাট থেকে সংগ্রহ করেন।  ছোট এসব গরু লালন-পালন করে কোরবানির উপযোগি করে তুলেছেন তিনি।

তিনি জানান, পৈতৃক ব্যবসা হচ্ছে গুলের ব্যবসা। রাজধানী ঢাকাসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে এক নামে চেনে বাবার খালেদ গুল। শিক্ষিত যুবক বাবার ব্যবসায় না জড়িয়ে চারটি গরু দিয়ে ২০১২ সালে গড়ে  তোলেন গরুর খামার। আস্তে আস্তে তা প্রসার ঘটে।

খামারেরর গরু মোটাতাজাকরণে ইনজেকশন, ট্যাবলেট বা কোনো ধরণের বড়ি ব্যবহার করেন না তিনি। এখানে রয়েছে দেশি, শংকর, সাইবল, হরিয়ানা, ফ্রিজিয়ান, জার্সি জাতের গরু।  বিশেষ করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খুদের ভাত, আলু সিদ্ধ, মসুর, খেসারী ডাল, চোকর, বুটের খোসা, ভুট্টা, গম ইত্যাদি খাবার খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট থাকছে গরুগুলো।  ফলে ওই খামারের গরু সকলের কাছে বেশি চাহিদা থাকে।

বিশেষ করে কোরবানির জন্য প্রস্তত করা হয়েছে এসব গরু। ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। খামারে সর্বনিম্ন ৪৫ হাজার থেকে শুরু করে আড়াই লাখ টাকা দামের ষাড় রয়েছে। ইতোমধ্যে কোরবানিদাতারা খামারটি পরিদর্শন করে অগ্রিম বুকিং দিয়েছেন। ফার্মটিতে রয়েছে ১০ কর্মচারী ও একজন চিকিৎসক। যাদের সার্বক্ষণিক তদারকিতে গরুগুলো সুস্থ্য ও সবল থাকছে।

খামারটির বৈশিষ্ট হচ্ছে কোরবানির গরু কেনার পর খামারে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। গরু কোরবানিসহ বাসাবাড়িতে মাংস পৌঁছানোর সুবিধা রয়েছে। এছাড়া গবাদিপশু বিক্রির সাথে সাথে প্রাণি সম্পদ বিভাগের সনদপত্র প্রদান করা হয়ে থাকে। এসব নানা কারণে খামারে গরু ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ছে। শুধু ঈদুল আজহার কোরবানির জন্য গবাদিপশু নয়, বিয়েশাদী ও অনুষ্ঠানের জন্যও মাংস সরবরাহ দিয়ে থাকে খামারটি। এজন্য মাংস কাটার মেশিন নিয়ে আসার চিন্তা করছেন মালিক।  সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শেনি-পেশার মানুষ খামারটি পরিদর্শন করে ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। পেয়েছেন অগণিত উদ্যোক্তা পুরস্কার।

নীলফামারী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোনাক্কা আলী বলেন, মেসার্স ইউসুফ হৃষ্টপুষ্ট ও ডেইরী ফার্মটি পরিবেশ বান্ধব। এটি নীলফামারী জেলার সবচেয়ে বড় খামার ও ডেইরী ফার্ম। প্রাকৃতিক পরিবেশে গরু লালন-পালনের বিষয়টি অনেকের কাছে অনুকরণীয় হতে পারে। সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার জানান, খামারটি সার্বক্ষণিক পশু সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা তদারকি করে থাকেন।