Opu Hasnat

আজ ২০ মে শুক্রবার ২০২২,

সৈয়দপুর হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সই অকেজো! নীলফামারী

সৈয়দপুর হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সই অকেজো!

নীলফামারীর সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সই অকেজো। ফলে রোগীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রায় কয়েক লাখ মানুষের সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র  এ হাসপাতালের দুইটি অ্যাম্বুলেন্সই রোগাক্রান্ত হয়ে (যান্ত্রিক ক্রটি) চিকিৎসার অভাবে সাত মাস ধরে অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। এতে করে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিতে হচ্ছে। সবচেয়ে অসুবিধায় পড়েছে দুঃস্থ অসহায় দরিদ্র রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে কেনা জাপানি মিৎসুবিশু কোম্পানির অ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিন নষ্ট। আর ২০১৬ সালে কেনা ভারতীয় টাটা কোম্পানির অপর অ্যাম্বলেন্সটির পাম্পে সমস্যা ও টায়ার নষ্ট। ১৮ বছর ও ১১ বছর বয়সী অ্যাম্বুলেন্স দুইটি হাসপাতালের গ্যারেজে ফেলে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি মেরামতের জন্য।

প্রথমটি মেরামত করা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই এটি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। ফলে দীর্ঘ দিনেও এটি সারানোর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয়টির সামান্য ত্রুটি সহজেই ঠিক করা সম্ভব। তারপরও সেটা সাত মাস ধরে অকেজো করে রাখা হয়েছে। বেসরকারি তথা ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স মালিক চক্রের সাথে গোপন আতাতের কারনে এমন অবস্থা বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের।

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. সোহেল আহমেদ জানান, প্রতিদিনই ৫-১০ জন রোগীকে জরুরী প্রয়োজনে রংপুর মেডিকেল কলেজ বা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে পাঠাতে হয়। রংপুর-দিনাজপুর রোগী পরিবহণে আমাদের ভাড়া ৯ শ' টাকা। আর বেসরকারিগুলো ১ হাজার ২শ' থেকে দেড় হাজার টাকা নেয়। এতে রোগীদের বাড়তি খরচ করতে হয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পড়ে থাকায় জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সিন্ডিকেটের কারনে ইচ্ছেকৃতভাবেই অ্যাম্বুলেন্স মেরামতে গড়িমসি করা হচ্ছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নবিউর রহমান বলেন, অ্যাম্বুলেন্স দুইটি চার-পাঁচ মাস হলো বিকল হয়েছে। মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বাজেট পেলেই ঠিক করা হবে। তখন আর কোন সমস্যা হবেনা। তবে কবে নাগাদ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে তিনি সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

উল্লেখ্য, সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে সৈয়দপুর উপজেলা সহ নীলফামারী সদর, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, খানসামা উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা নেয়। একারণে হাসপাতালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় উপজেলা পর্যায়ের হলেও বিশেষ বিবেচনায় ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। অথচ সেখানে হাসপাতালের দুইটি অ্যাম্বুলেন্সই বিকল হওয়ায় এক্ষেত্রের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। তাই দ্রুতই এব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে সৈয়দপুরবাসী।