Opu Hasnat

আজ ৪ ডিসেম্বর শনিবার ২০২১,

চিকিৎসাভাবে দু’পা হারানো বেল্লালের মানবেতর জীবন-যাপন মাদারীপুর

চিকিৎসাভাবে দু’পা হারানো বেল্লালের মানবেতর জীবন-যাপন

বেল্লাল মোল্লা একসময় ছিল সুস্থ্য-সবল একজন টকবকে তরুন। গ্রামের মানুষের সাথে হাঁসি-আনন্দে মেতে থাকতেন সবসময়। মনে ছিলনা কোন দুঃখ বেদনা। গরীব পরিবারে জন্ম হওয়ায় লেখা-পড়া করতে পারেননি। তিনি বড় হয়েছে সবার আদর-ভালোবাসা পেয়ে। তার বয়স বর্তমানে ৩৫ বছর। কিন্তু হঠাৎ করে নিয়নি তার সকল হাসি-আনন্দ জীবন থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। ঠিক ১৬ বছর আগে তিনি একটি লঞ্চ দুর্ঘটনায় দু’পা পুরোটাই হারিয়েছেন। সেই থেকে তার জীবনে নেমে আসে অভিশপ্ত কালো ছায়া। তারপর থেকে থেকে পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশিদের কাছে অবহেলার পাত্রে পরিনত হন। সঠিক চিকিৎসারভাবে এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এবং কি মাঝে-মাঝে অভিশপ্ত জীবন থেকে নিজের মৃত্যু কামনা করছেন। তিনি সমাজের বোঝা হয়ে আর বেঁচে থাকতে চাননা। বেল্লাল মোল্লা মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সিডিখান এলাকার মাথা ভাঙ্গা গ্রামের মোঃ নজরুল মোল্লার ছেলে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানান, বেল্লাল মোল্লা বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে ঢাকা যাওয়া পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে তার দুই পাঁ পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা তার দুই পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এ দুর্ঘটনায় তিনি পা হারানোর পর কিছুটা সুস্থ্য হয়েই বিয়ে করেন। বর্তমানে তার সংসারে স্ত্রী, মেয়ে বৃষ্টি ও ছেলে আরিয়ান রয়েছে। মেয়ে বৃষ্টি মাথা ভাঙ্গ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী। ছেলে আরিয়ান একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র। তবে পঙ্গু জীবন বেল্লালকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি নিজের কিছু জমি বিক্রি করে বাড়ির পাশে একটি মুদির দোকান দিয়ে চা বিক্রি করছেন। দোকানে যা আয় হয় সেই আয়ের টাকা দিয়ে বেল্লাল খুব কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন এবং ছেলে-মেয়ের লেখা পড়ার খরচ যোগাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু তিনি তার ছেলে-মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ যোগাতে গিয়ে মাঝে মধ্যে পরিবার নিয়ে অর্ধহাড়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। আবার যখন বেল্লাল শারীরিকভাবে খুব বেশি অসুস্থ্য থাকেন তখন তার দোকান বন্ধ হয়ে গেলে না খেয়েই দিন কাটাতে হয়।

প্রতিবন্ধি বেল্লাল মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, আমি ভিক্ষা করে খেয়ে বাঁচতে চাইনা। আমি কাজ করে খেয়ে বাঁচতে চাই। কারন ভিক্ষা করে খাওয়া ঘৃনার কাজ। দোকান করে আমি আমার চিকিৎসা খরচ যোগাতে পারিনা। তাই উন্নত চিকিৎসা করা আর হচ্ছে না। আমাকে যদি সরকারিভাবে বা কোন হৃদয়বান ব্যক্তি দুইটি কৃতিম পা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে আমি তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।