Opu Hasnat

আজ ২০ অক্টোবর বুধবার ২০২১,

এক টুকরো ইলিশে সাবানা’র মুক্ত ঝড়া হাসি

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মায় ইলিশ ধরায় ৯ জেলের কারাদন্ড রাজবাড়ী

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মায় ইলিশ ধরায় ৯ জেলের কারাদন্ড

পদ্মা পারের মেয়ে সাবানা। বয়স মাত্র ৮ বছর। পিতা দিন মজুরের কাজ করে দুই বেলা দু’মুঠো ভাতের জোগার করতে পারলেও ভালো মন্দ খাওয়ানো তার জন্য কষ্টসাধ্য। হঠাৎ পদ্মা পারে ইলিশের সুগন্ধ পেয়ে ছুটে এসেছে মেয়েটি। শুধু সাবানা নয় একই অবস্থা হাসি, রিতা, সুবর্নাদের। ওরা সকলেই বান্ধবি। সর্বনাশা পদ্মায় একেক জনের বসতী ভেঙ্গে দুই তিন বার করে। মনে চাপা কষ্ট নিয়ে পদ্মা পারে দারিয়ে আছে ওরা। অবশেষে সকাল ৭ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত ৪ ঘন্টা দারিয়ে থেকে ভাগ্যে জুটে একটি করে ইলিশ। হাতে ইলিশ পেয়ে সেকি মুক্ত ঝড়া হাসি। ছবি তুলতে চাওয়ার সাথে সাথে সামনে ইলিশ মাছ ধরে হাসিমুখে দারিয়ে পরে সকলেই। মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ীর সোনাকান্দর এলাকায় গিয়ে চোখে পরে এ চিত্র। 

এ সময় ৮ বছর বয়সী সাবানা বলেন, অন্তত ছয় মাস যাবৎ ইলিশ মাছ খাই না। আজ আমাদের ইলিশ মাছ দিবে জানতাম না। আমি ইলিশ নিয়ে নদী থেকে আসতেছে সেটা দেখে আশা নিয়ে এসেছি। মাকে বলবো মাছটিকে ভেজে দিতে। 

আর তৃতীয় শ্রেনীতে পরুয়া রিতা আক্তার বলেন, আমার বাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। আমাদের কোন জমিজমা নেই। পদ্মার কিনারায় বসবাস করি আমরা। বাবার আয়ে কষ্ট করেই চলতে হয় আমাদের। ইলিশ মাছের যে দাম বছরে একবার কিনে খাওয়াও কষ্টকর। স্যাররা একটি ইলিশ মাছ দিয়েছে এতে আমরা খুব আনন্দ পেয়েছি।  

এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজবাড়ীর পদ্মায় ইলিশ ধরার অপরাধে ৯ জেলেকে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়াও জব্দ করা হয়েছে ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১০ কেজি ইলিশ মাছ।

গত সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন ও মৎস বিভাগ। এ সময় পদ্মায় ইলিশ মাছ ধরাকালীন সময়ে ১১ জেলেকে আটক করেন তারা। 

রাজবাড়ী সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান জানান, ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১১ জেলেকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয় ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১০ কেজি ইলিশ মাছ।

তিনি আরো বলেন, আটককৃতদের রাজবাড়ীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে তাদের মধ্যে ২ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৯ জনকে ১৩ দিন করে কারাদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত। সেই সাথে কারেন্ট জাল পুরিয়ে ধ্বংস ও মাছ এলাকার গরীব মানুষের মাঝে বিতরন করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদকে রক্ষা করতে আমাদের এই অভিযান। আপনারা জানেন এই সময়টাতে ইলিশ মাছ ডিম দেয়। যে কারনে সরকার এ সময়ে ইলিশ মাছ ধরা, সংরক্ষন করা ও ক্রয় বিক্রয় করার উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ ব্যপারে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। সরকারীভাবে জেলেদের মধ্যে চাল প্রদান করা হয়েছে। এরপরও যারা আদেশ অমান্য করবে তাদের জেল ও জরিমানার আওতায় নিয়ে আশা হবে।